জাতীয় মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার রাজনীতি লিড নিউজ স্লাইডার

কারা কোন বিষয়ে ছাড় দিলে সফল হতে পারে সরকার-ঐক্যফ্রন্ট সংলাপ?

hasina-kamal-fakhrul

জুমবাংলা ডেস্ক : আজ বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গণভবনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সরকার ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২১ সদস্যের প্রতিনিধিদের মধ্যে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটে আওয়ামী লীগের শরিক তিন দলীয় নেতাও থাকবেন। ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতাসহ ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি সংলাপে অংশ নেবেন।

বহুল প্রতীক্ষিত এই সংলাপকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে সুবাতাসের আভাস পাওয়া গেলেও আলোচনার সফলতা দুইপক্ষের ছাড় দেওয়ার মানসিকতার ওপর নির্ভর করছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। সংলাপ ফলপ্রসূ করতে গেলে দুই পক্ষের সদিচ্ছা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী।

‘সাধারণ মানুষ এই সংলাপ থেকে প্রত্যাশা করছে যে দুই পক্ষ একটা সমঝোতায় আসবে। কারণ সবাই চায় একটা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক’, বলেন অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী। তবে এই সংলাপ সফল করতে গেলে দু’পক্ষেরই ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকার প্রয়োজন বলে জোর দেন তিনি।

dilara jaman
অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী (ফাইল ছবি)

তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট শুরু থেকেই চাইছিল যে একটা সংলাপ হোক, পরে ক্ষমতাসীনরা এতে সায় দিয়েছে। এর পেছনে প্রধান কারণ প্রথমত, সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটা চাপ আছে। দ্বিতীয়ত, সরকার দেখাতে চাইছে যে, তারা সংলাপে বসেছে।

বাংলাদেশের সংবিধানে সংসদীয় পদ্ধতিতে যে নির্বাচনের কথা বলা আছে সে অনুযায়ী এই সংসদের শেষ অধিবেশনের ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে। নির্বাচনের প্রয়োজনে সংসদ মুলতবি হলেও সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ শেষ হয়না।

অধ্যাপক দিলারা চৌধুরীর মতে, সরকারের ছাড় দেয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলো – অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন করা। যেখানে সংসদ থাকতে পারবে না। যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন কমিশনের কোনও কাজেই হস্তক্ষেপ করবে না। সরকার এক্ষেত্রে ছাড় দিলে সংলাপ নতুন জায়গা পাবে।

অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, সংবিধানে এটাও আছে যে, সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ৯০ দিনের মধ্যে যদি নির্বাচন হয় তাহলে সংসদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তারপরের ৯০ দিনের মধ্যে আবার নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুযোগ রয়েছে। এতে করে দুটো দাবিই মেনে নেয়া হবে। সংসদও থাকলো না আবার একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও এসে গেল।

তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে শুরু করে সব ধরণের কাজ মিটমাট করতে আরও কিছু সময়ের প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন দিলারা চৌধুরী। তিনি বলেন, এখন তো সময় অনেক কম। এত অল্প সময়ের মধ্যে সরকারি বা বিরোধী দল কোনটা ছাড় দেবে সেটার সিদ্ধান্ত নেয়ার মধ্যেই তফসিল ঘোষণা হয়ে যাবে।

‘এক্ষেত্রে নির্বাচন যদি জানুয়ারি বা মার্চ এপ্রিলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে অনেক সময় পাওয়া যাবে, এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত কথাবার্তা বলারও সুযোগ থাকবে’, যোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন সেই-সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আচরণ কেমন হবে সেক্ষেত্রে আলোচনার বিষয়ে বিরোধী-পক্ষের ছাড় দেয়ার জায়গা রয়েছে বলে মনে করেন অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাজ কী হবে, কী হবে না, সেটাকে কতগুলো আইন, কনভেনশন বা নীতিমালার আওতায় আনা যেতে পারে, যেমনটা কিনা অস্ট্রেলিয়ান সরকার লিখিতভাবে করে দিয়েছে।

‘বিএনপি একটা ছাড় দিতে পারে যে, ঠিক আছে, নির্বাচন কমিশনই থাকল, কিন্তু যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসবে সেটা কী কী কাজ করবে সেটা একটা নীতিমালার মধ্যে আবদ্ধ করে ফেলা হবে।’

তবে দিলারা চৌধুরী এও মনে করেন যে, চেয়ারপারসন খালেদার জিয়াকে মুক্তি দেয়ার প্রশ্নে বিএনপি কোনও ছাড় দেবে না।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

জুমবাংলানিউজ/এইচএমজেড