Exceptional অন্যরকম খবর ক্যারিয়ার ভাবনা লাইফস্টাইল

পারস্পরিক যোগাযোগে দক্ষতা বাড়ানোর ১২টি কার্যকর উপায়

মেহেদী হাসান দ্বীপ :: কার্যকর উপায়ে যোগাযোগ করার সক্ষমতা একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হিসেবে বিবেচিত। ব্যক্তিজীবনে এটি আপনাকে প্রিয় মানুষ, আত্মীয়- স্বজন, বন্ধুদের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষায় সহায়তা করবে। আর কর্মস্থলেও ভাল যোগাযোগ দক্ষতা আপনাকে সব সময় এক ধাপ এগিয়ে রাখবে। আজকাল অনেক চাকরিতেই তথ্য আদান-প্রদান ও যোগাযোগ করার ক্ষেত্রে দক্ষ লোক প্রয়োজন।

প্রতীকী ছবি (ছবি: সংগৃহীত)

লাইফস্টাইল বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘লাইফ হ্যাক’ -এ প্রকাশিত ম্যাট অ্যাপোডাকা’র নিবন্ধ ‘হাও টু মাস্টার ইফেক্টিভ কমিউনিকেশন স্কিলস অ্যাট ওয়ার্ক অ্যান্ড হোম’ -এ উঠে এসেছে পারস্পারিক যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধির কয়েকটি কার্যকরী উপায়। আপনাদের সুবিধার্থে নিবন্ধের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো।

১. ভালো শ্রোতা হওয়া : কথোপকথনের সময় আপনার সঙ্গীর কথা শেষ করার সুযোগ না দিয়েই যদি আপনি কথা বলা শুরু করেন, তাহলে আপনি তার কথা অবহেলা করছেন এমন মনোভাব তার মনে তৈরি হবে। এটি আপনার যোগাযোগ দক্ষতার জন্য এক বিরাট অন্তরায়।

২. হঠাৎ অপ্রাসঙ্গিক কথা : কোনও গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন চলছে, এমন পরিস্থিতিতে আপনি কোনও অপ্রাসঙ্গিক কথা বলে ফেললেন। এটি আপনার যোগাযোগ দক্ষতার উপর বাজে প্রভাব ফেলে।

৩. ফিস ফিস করা : কোনও কোনও সময় অনেকেই ফিসফিস করে কথা বলেন। এটি আপনার সঙ্গীর মনে সংশয় তৈরি করে।

৪. সংক্ষিপ্ত এবং সুনির্দিষ্ট হওয়া : কথা দীর্ঘ হলে তা প্রাসঙ্গিকতা এবং গুরুত্ব দুটোই হারিয়ে ফেলে। কথা যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত এবং ‘টু দি পয়েন্ট’ রাখার চেষ্টা করুন।

৫. আত্ম-প্রচার : আপনি যদি সবসময় আত্মপ্রচার করে বেড়ান, আপনার প্রতি মানুষ বিরক্ত হয়ে পরবে। এটি এড়িয়ে চলুন। কথাবার্তায় বিনয়ী হোন।

৬. একই কথার পুনরাবৃত্তি : কথোপকথনের সময় একই কথা বারংবার বলা এড়িয়ে চলুন। তবে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু বলতে হলে একবার বলার কিছুসময় পর আরও একবার বলে মনে করিয়ে দিতে পারেন।

৭. তাৎক্ষণিক উত্তর দেয়ার আগে ভাবা : ম্যাসেজ বা ইমেইলের উত্তর দেয়ার আগে একটু সময় নিন। অনেক সময় আমরা তাৎক্ষণিকভাবে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তর দিয়ে পরে পরিতাপ করি। এটি যাতে না হয় সেটি খেয়াল রাখা। বাস্তব জীবনেও এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা।

৮. শ্রোতাদের মন-মানসিকতা বোজা : আপকি কাদের সাথে কথা বলছেন, তাদের চিন্তাধারা কেমন তা বোজা জরুরি। তাহলে আপনি তাদের সাথে কথোপকথনে সহজেই মানিয়ে নিতে পারবেন।

৯. আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলা : যতটুকু কথা বলবেন, সুস্পষ্টভাবে আত্ম বিশ্বাসের সাথে কথা বলা জরুরি। মিন মিন করে কথা বলা সঠিক কথারও গুরুত্ব কমিয়ে দেয়।

১০. আবেগ এড়িয়ে চলুন : আবেগ তাড়িত হয়ে কোনও কথা বলা থেকে দূরে থাকুন। অতি আনন্দে আত্মহারা হয়ে কোনও বাজে কথা বলে ফেলা কিংবা সব সময় দুঃখের কথা বলা দুটোই ক্ষতিকর। আবার রাগান্বিত হয়ে কিছু বলে ফেলাও পরিতাপের কারণ হতে পারে। তাই যুক্তি-বাস্তবতা, সার্বিক পরিস্থিত বিবেচনা করে কথা বলা জরুরি।

১১. কণ্ঠস্বরের ভঙ্গি : কোনও কোনও পরিস্থিতিতে কোন স্বরে কথা বলতে হবে সেটি আপাকে বুঝতে হবে। যেমন, আপনার বসের সাথে আপনি যে টোনে কথা বলবেন, আপনার বন্ধুর সাথে নিশ্চয়ই আপনি একই ভঙ্গিতে কথা বলবেন না।

১২. আঞ্চলিক ভাষা : আমরা অনেকেই আঞ্চলিক ভাষার প্রতি অবহেলা বা বিদ্রুপ প্রকাশ করে থাকি। এতে সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে। তবে অনেক বড় বড় ভাষাবিদ আঞ্চলিক ভাষায় সাহিত্য রচনা করেছেন, আঞ্চলিক ভাষায় অনেক নাটক-সিনামা তৈরি হয়েছে। তাই, আঞ্চলিক ভাষার প্রতি বিদ্রুপ না করে আঞ্চলিক ভাষায় সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার চেষ্টা করুন।

জুমবাংলানিউজ/ এমএইচডি