অপরাধ/দুর্নীতি আইন-আদালত জাতীয় পজেটিভ বাংলাদেশ লিড নিউজ স্বাস্থ্য স্লাইডার

রেহাই নেই অসাধু রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের, রান্নাঘরে বসছে সিসি ক্যামেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : খাদ্যজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে জনগণের সুরক্ষায় এবার আরও কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জেল-জরিমানা তো চলছেই। তবে এবার হোটেল ও রোস্তোরাঁগুলোর রান্নাঘরে সিসি ক্যামেরা বসানো বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সংস্থাটি।

বিএফএসএ সূত্রে জানা যায়, পুরো অক্টোবর মাসজুড়ে রাজধানীতে চলেছে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। এসব অভিযানের মধ্যে মিরপুর ইয়ান তাই রেস্টুরেন্ট, পিজ্জার চেইন শপ পিজা ইন, শ্যামলি লিংক রোডের প্রিন্স রেস্টুরেন্ট, চিলিজ রেস্টুরেন্ট, ধানমন্ডির জিনডিয়ান রেস্টুরেন্ট, হান্ডি, ভাগ্যকুল মিষ্টি, ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের ক্যালিফোর্নিয়া ফ্রাইড চিকেন (সিএফসি) উল্লেখযোগ্য। নামিদামি এসব রেস্তোরাঁকে  মোট ৫৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান চলাকালে দেখা গেছে, কোনও কোনও রেস্তোরাঁর কিচেনে বেসিনে একইসঙ্গে সব ধরনের মাংস এবং সবজি ছেড়া পলিথিনে ভিজিয়ে রাখা হয়েছে। কোনও কোনও রেস্তোরাঁয় ময়লা আবর্জনাযুক্ত থালা-বাসন ধোয়ার জায়গা, মেয়াদোত্তীর্ণ মাশরুম, পচা আনারস, ফাঙ্গাস পড়া গাঁজর কেটে ধোয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও থালা-বাসন পরিষ্কার করা হচ্ছে বেসিনে পানি জমিয়ে। ফ্রিজে খোলা অবস্থায় রযেছে নুডলস ও নাড়িভুঁড়িসহ মুরগির মাংস। এছাড়া আরও দেখা গেছে, মুরগির মাংস কেটে নিচে রাখা হয়েছে,পাশে রয়েছে ময়লা পরিষ্কার করার দুটি ঝাড়ু। বাইরের পরিবেশ দেখে বোঝার উপায় নেই যে, ভেতরের কী অবস্থা।

অভিযান প্রসঙ্গে বিএফএসএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তুষার আহমেদ বলেন, নভেম্বর মাসেও ১০টি অভিযানের প্ল্যান করা আছে। আগে যেসব প্রতিষ্ঠানে অভিযান হয়েছে, তাদের বর্তমান অবস্থা দেখার জন্যও অভিযান পরিচালনা করা হবে। অবস্থা আগের মতো পেলে সময় বেঁধে দেওয়া হবে। এরপরও না মানলে সিলগালা করে দেওয়া হবে।

খাবারের রেস্তোরাঁয় স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে রেস্তোরাঁগুলোতে স্টিকার ব্যবস্থা প্রণয়ন ব্যবস্থার কথা আগেই জানিয়েছিল বিএফএসএ। নতুন এ ব্যবস্থায় সবুজ, হলুদ ও লাল রঙের স্টিকারই নির্ধারণ করে দেবে— রেস্তোরাঁ কতটা স্বাস্থ্যসম্মত। ফলে একজন ভোক্তা সহজেই স্বাস্থ্যসম্মত রেস্তোরাঁর সন্ধান পাবেন। ‘গ্রিন জোন ব্যবস্থা’র প্রধান শর্ত হবে— রেস্তোরাঁর রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা। এজন্য রান্নাঘরে স্বচ্ছ কাচ ব্যবহার করতে হবে, যাতে ভোক্তা বাইরে থেকে ভেতরের পরিবেশ দেখতে পারেন। এছাড়া রেস্তোরাঁগুলোর নোংরা পরিবেশ পাল্টাতে এবং খাবারের মান বজায় রাখতে এখন থেকে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য রান্নাঘরে সিসি ক্যামেরা বসানো বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে বিএফএসএ।

সূত্র জানায়, আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মতিঝিল, দিলকুশা, গুলিস্তান, তোপখানা, সচিবালয়ের আশপাশের খাবারের হোটেলগুলোতে সবুজ, হলুদ এবং লাল স্টিকার লাগানোর মধ্যদিয়ে শুরু করতে যাচ্ছে নিরাপদ খাবারের গ্রিন জোন ব্যবস্থা। এরপর ঢাকার ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, মিরপুর, উত্তরা, বনানী এবং গুলশান এলাকায় গ্রিন জোন ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ও জিইসির মোড় এলাকায় পর্যায়ক্রমে এ জোন শুরু করা হবে।

শর্ত পূরণ করতে পারলেই কেবল কোনও রেস্তোরাঁ পাবে বিএফএসএ’র হলোগ্রামযুক্ত সবুজ স্টিকার। সেটি রেস্তোরাঁর সামনে লাগানো থাকবে। কোনও শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হবে। সে সময় পর্যন্ত রেস্তোরাঁর সামনে লাগানো থাকবে হলুদ স্টিকার। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেও শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে রেস্তোরাঁটিকে লাল স্টিকার দিয়ে চিহ্নিত করে দেওয়া হবে। গ্রিন জোন প্রকল্পের আওতায় কিছুদিন আগে মালিকদের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। এখন চলছে হোটেলের কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। মালিক সমিতির প্রতিনিধিও এই প্রশিক্ষণে প্রতিদিন উপস্থিত থাকছেন বলে বিএফএসএ সূত্রে জানা যায়।

জুমবাংলানিউজ/এইচএমজেড