জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ স্লাইডার

৬৬ বছরেও সৈয়দপুরে নির্মাণ হয়নি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

এম আর মহসিন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি: সরকারি ও বেসরকারি কোনও প্রতিষ্ঠান বা ব্যাক্তির উদ্যোগে দীর্ঘ ৬৬ বছরেও নীলফামারীর সৈয়দপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি। তাই অমর একুশে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এ এলাকায় অনেকটা দায়সারাভাবে পালিত হয়ে আসছে।

সৈয়দপুর সরকারি কলেজের শহীদ মিনার

এছাড়া এ উপজেলায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। একুশে ফেব্রুযারি বেলা ১১টার মধ্যে শহীদ বেদীর ফুল লুটের মহোৎসবসহ নানা কারণে এ জনপদে মহান ভাষা আন্দোলনের চেতনা আজ অনেকটা মলিন হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, অবাঙালি অধ্যুষিত এ জনপদে বাঙালিরা ভাষা আন্দোলনের পূর্ব থেকেই বাংলা ভাষায় কথোপকথনের জন্য প্রায়ই ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের শিকার হতেন। যা এ জনপদে অবাঙালি ব্যবসায়ীদের দ্বারা এখনও রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় কখনই প্রতিবাদ করেননি কেউ। এ এলাকায় বাংলার পাশাপাশি এখনও উর্দুতে মাইকিং করা হয়।

উর্দু ও হিন্দি চর্চায় অনেকটা ভিন্ন ভাষার রাজ্যে পরিণত হয়েছে সৈয়দপুর। এর প্রভাব পড়েছে এ জনপদের স্কুল ও কলেজগুলোতেও। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস নানা সংকট ও অব্যবস্থপনায় পালিত হলেও এখানকার নেতৃত্বের কোনও দায়বদ্ধতা নেই। তাই প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভায় প্রায় শত কোটি টাকার বাৎসরিক বাজেট হলেও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য কোনও ব্যয় রাখা হয় না। এতে করে সরকারি-বেসরকারি কোনও প্রতিষ্ঠান বা ব্যাক্তির উদ্যোগে দীর্ঘ ৬৬ বছরেও সৈয়দপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি। তাই অমর এ ভাষা দিবস অনেকটা দায়সারাভাবে পালিত হয়ে আসছে।

উপজেলা শিক্ষা দফতরের সূত্র মতে, এ উপজেলায় ২৩৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেবল ১৮টিতে রয়েছে শহীদ মিনার। এর মধ্যে ৭৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০টি, মাধ্যমিক ২৮টি স্কুলের মধ্যে ৩টি, উচ্চ মাধ্যমিক ২৭টি কলেজের মধ্যে ৬টি কলেজে শহীদ মিনার রয়েছে। তবে সৈয়দপুরের ১৬টি মাদরাসা ও ৮৭টি বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে কোনও শহীদ মিনার নেই।

সরকারি বাধ্যকতা থাকলেও এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির অবহেলা, অর্থের অভাব ও প্রশাসনিক তদারকি না থাকায় শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি বলে জানা গেছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহজাহান মন্ডল জানান, আর্থিক সংকটের কারণে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণে ম্যানেজিং কমিটি ভূমিকা রাখতে পারেন।

জুমবাংলানিউজ/একেএ