খেলা-ধুলা

৪-০! গোল্লা নিয়ে দেশে যাবে ইংল্যান্ড

৩-০ থাকবে, না ৪-০ হবে? চেন্নাইয়ে সকাল থেকে ​এটাই ছিল লাখ টাকার প্রশ্ন। কারণ প্রি-লাঞ্চ সেশনে মাথা খুড়েও পার্টনারশিপ ভাঙতে পারেনি ভারত। সকাল দেখে নাকি দিনটা কেমন যাবে সেটা বোঝা যায়। কিন্তু ইংরেজি এই প্রবাদকে ইংরেজদের সামনেই ভুল প্রমাণ করে দেখালেন রবীন্দ্র জাদেজা! যে পিচে ৪ দিনে ১৭ উইকেট পড়ে, সে পিচে সাড়ে তিন সেশনের মধ্যে ইংরেজদের ১০ উইকেট ফেলে সিরিজ ৪-০ করে দিল টিম বিরাট। বিরাটের দলই বটে! এমন নেতা পেলে দল তো ঝাঁপাবেই।

তৃতীয় এবং চতুর্থ দিনটা যদি রাহুল এবং করুণ নায়ারের নামে লেখা হয় তবে পঞ্চম দিন নিঃসন্দেহে রবীন্দ্র জাদেজার জন্য মনে রাখবে চেন্নাই। ঘরের ছেলে অশ্বিন যেখানে ২৫ ওভার হাত ঘুরিয়ে কোনও উইকেট পাননি। সেখানেই জাদেজা ২৫ ওভারে ৭ উইকেট তুলে নিলেন। বাকি তিন উইকেট নিলেন ইশান্ত, উমেশ এবং অমিত মিশ্র। শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রিত লাইন এবং তিন কাঠির মধ্যে বল ফেলার ফল হাতেনাতে পেলেন তিনি। এবং তার সঙ্গে অবশ্যই ভারতীয় দল। কে নেই তাঁর শিকারের তালিকায় — কুক, জেনিংস, রুট, মইন আলি, স্টোকস। অ্যালিস্টার কুক-কে তো এই সিরিজে নিজের খাদ্য বানিয়ে ফেলেছেন জাদেজা।

সারা সকাল এই স্লো টার্নার উইকেটে বোলাররা কিছু করতে পারেনি। অশ্বিনের বলে পার্থিব ক্যাচ ফেলার পর যখন জেনিংসের সঙ্গে পার্টনারশিপ জমে উঠছে তখন নিশ্চয়ই নিজেকে চূড়ান্ত দোষারোপ করে থাকবেন পার্থিব। লাঞ্চের পর থেকে ম্যাচ ঘুরতে শুরু করে। কুক-কে দিয়ে শুরু করেন জাদেজা। শেষ করেন জেক বল-কে দিয়ে। সিরিজের শুরুতে প্রথম টেস্ট ড্র দিয়ে শুরু হয়েছিল। তখনও সকাল দেখে অনেকে অনেক মন্তব্য করেছেন। তবে সকাল থেকে দুপুর এবং বিকেলের মধ্যে সেই ছবি পাল্টে কী হয়েছে তা সকলেই দেখছেন। গত সিরিজের বদলার সিরিজ হিসাবেই দেখানো হয়েছিল এই সিরিজকে। সত্যিই স্কোর একেবারে সেট্‌ল করে ছাড়লেন।

তার সঙ্গে কুড়িয়ে-বাড়িয়ে যত পুরস্কার ছিল সবটাই বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন ভারতীয় খেলোয়াড়রা। ম্যাচের রিলায়েবল খেলোয়াড় জাদেজা। ম্যান অফ দ্য ম্যাচ করুণ নায়ার। ম্যাচ অফ দ্য সিরিজ বিরাট কোহলি। অন্য কোনও খেলোয়াড়ের কথা মাথাতেই আসার কথা নয়। বিরাট শুধু ব্যাটে নয়, মাথা দিয়েও ইংল্যান্ডকে শুইয়ে ছাড়লেন। গোল্লা নিয়েই এখন বাড়ি ফিরবেন ক্যাপ্টেন কুক।

ভিডিওঃ টাইটানিক ছবির কেট এর এই ছবির রহস্য

Add Comment

Click here to post a comment