জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ

৪০ বছর পর ফরিদপুরে পদ্মা তীর রক্ষাবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু

জুমবাংলা ডেস্ক: নদীর একূল ভাঙে, ওকূল গড়ে- এই তো নদীর খেলা। জনপ্রিয় গানটি বছরের পর বছর নদী ভাঙনের শিকার মানুষগুলোর শুধুই সান্ত্বনার বাণী।

বাস্তব জীবনে ভাঙনে শেষ সম্বল হারিয়ে অসহায় মানুষগুলো নিঃস্ব হয়েছে। পদ্মার কড়াল গ্রাসে গত ৪০ বছরে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের ২৫টি গ্রামের লাখো মানুষ ভিটে বাড়ি হারিয়েছে। মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে চরভদ্রাসনের পুরো উপজেলার মানুষ। খবর ইউএনবি’র।

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পালা এবার বুঝি শেষ হতে যাচ্ছে। ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড চরভদ্রাসনের পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙন কবলিত এমপিডাঙ্গী, চরহাজীগঞ্জ ও চরহোসেনপুরের সাড়ে তিন কিলোমিটার নদী শাসনের কাজ শুরু করেছে। এরই মধ্যে প্রথম পর্যায়ে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ দিয়ে প্রাথমিক প্রটেকশনের কাজ শুরু হয়েছে। আর তাতেই আশায় বুক বেঁধেছে উপজেলাবাসী।

এমপিডাঙ্গীর জরিনা বেগম ইউএনবিকে বলেন, ‘গত ১০/১২ বছরে নদীর পাড় ভাঙতে ভাঙতে এখন আমার ঘরের কাছে এসে ঠেকেছে। এবছর যদি ভাঙন ঠেকানো না যায় তয় মরে যাবো। আমার সব শেষ হয়ে যাবে। আমরা পোলাপান নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।’

ভাঙনরোধে সরকারি উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘ভাবছিলাম এবার ভিটে বাড়ি ভেঙে যাবে। কিন্তু যে কাজ হইতেছে তাতে আশা করতেছি রক্ষা পাবো।’

শেখ হারুন বলেন, গত ৩০ বছরে ২/৩ বার ভাঙনের শিকার হয়েছি। এবার ভাঙলে আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। ‘অনেকদিন পর হলেও সরকার যে কাজের উদ্যোগ নিয়েছে তাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জনাই। তবে যে কাজ হইতেছে তা যেন সঠিকভাবে করে তার দাবি জানাই,’ বলেন তিনি।

সর্বনাশা পদ্মার ভাঙন সম্পর্কে শেখ সামছুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘ভাঙতে ভাঙতে মানুষের আর কিছু নাই। স্কুল, মসজিদ, মাদরাসা, রাস্তা, ঘাট সবই গেছে। গতবার ফরিদপুর জেলা শহরের সাথে যোগাযোগের রাস্তার অংশ ভেঙেছে। যদি এবার কাজ না করা হতো তবে শহরের সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতো।’

তিনি বলেন, এই যে কাজ হচ্ছে তা এই উপজেলাবাসীর আন্দোলনের ফসল। উপজেলার মানুষ বার বার দাবি তোলায় স্থানীয় সংসদ মুজিবর রহমান চৌধুরী নিক্সন এগিয়ে এসে এই প্রকল্পের ব্যবস্থা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ওবায়দুল বারী দিপু বলেন, গত কয়েক বছরের ভাঙনে ৩/৪ কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। চলমান এই কাজের ফলে এই এলাকার মানুষের ভিটে মাটি রক্ষা পাবে।

কাজের মান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্যান্য বারের তুলনায় কাজ ভালো হচ্ছে। কারণ কেন্দ্রীয়ভাবে ট্রান্সফোর্স টিম গঠন করে কাজ তদারকি করা হচ্ছে। প্রতি সাত দিন পর পর নতুন প্রকৌশলী আসছেন এবং কাজের মান পরীক্ষা নিরীক্ষা করছেন।

কাজের তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত ট্রান্সফোর্স সদস্য প্রকৌশলী শাহ মমিনুল ইসলাম মমিন বলেন,  ‘বালুর কোয়ালিটি, বালুর ওজন, ডাপিং এর সংখ্যা, ডাপিং এর স্থান এগুলো তদারকি করছি। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ডাপিং করাচ্ছি। কোনো সমস্যা মনে করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

তিনি বলেন, যদি ভুল ডাপিং হয় সে বস্তা হিসেব থেকে বাদ দিয়ে দিচ্ছি। আবার কোনো বস্তার ওজনে কম পেলে তাও বাদ করে দেয়া হচ্ছে। ফলে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, দুই বছর মেয়াদে ৭টি গ্রুপে ৩টি ঠিকাদরি প্রতিষ্ঠান ডলি কনস্ট্রাকসন, আমিন অ্যান্ড কোং ও খন্দকার শাহীন লি. কাজ করছে। একাজের প্রাকূল্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। কাজের প্রথম পর্যায়ে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ডাপিং করা হবে। পরবর্তীতে শুকনো মৌসুমে সিসি বল্ক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

তিনি বলেন, ওই এলাকার মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল এই বাঁধ নির্মাণ। তারই প্রেক্ষিতে এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। কাজটি পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন হলে চরভদ্রাসন উপজেলার প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

জুমবাংলানিউজ/এইচএম