অর্থনীতি-ব্যবসা কৃষি জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ স্লাইডার

রমজানে বিক্রি হচ্ছে না ফুল, চাষিদের মাথায় হাত

ঝিনাইদহে ক্ষেত থেকে ফুল তুলছেন এক চাষি। ছবি : জুমবাংলা

রামিম হাসান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: পবিত্র রমজান মাসে ফুল বিক্রি হচ্ছে না। আর তাই ফুল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ঝিনাইদহের চাষিরা। ফুল এখন ধুলোয় লুটপুটি খাচ্ছে, পড়ে থাকে ঝোপঝাড় ও বাগানে। এদিকে কেন ফুল ফেলে দিচ্ছেন কৃষক সেই খবর জানা নেই কৃষি বিভাগের।

ফুল চাষিরা তাদের ফুল তুলে ক্ষেতের পাশে আবার কখনও ঝোপঝাড়ে ফেলে দিচ্ছেন। মাঠের পর মাঠ ফুল বাগানের এই করুণ দৃশ্য দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফুল উৎপাদনকারী এলাকা ঝিনাইদহের।

ফুল চাষিরা বলছেন, পুরো রমজান মাসব্যাপী তেমন কোনও অনুষ্ঠান ও ইভেন্ট না থাকায় দীর্ঘ এ সময়টাতে ফুলের কেনাবেচা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বাগানজুড়ে থাকা গাঁদা, রজনীগন্ধ্যাসহ বিভিন্ন প্রকার নামি-দামি তরতাজা সব ফুল তুলে ফেলে দিতে হয়। এক মাসে কমপক্ষে চারটি চালান বিক্রি করতে না পারায় ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকার ক্ষতি হয় কৃষকদের। তারা দাবি তুলেছেন ফুল সংরক্ষণ বা হিমাগারের। এদিকে কেন ফুল ফেলে দিচ্ছেন কৃষকরা সে খবর জানা নেই কৃষি বিভাগের ।

যশোরের পরেই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফুল উৎপাদনকারী এলাকা হিসাবে পরিচিত ঝিনাইদহ। জেলার কালীগঞ্জ, সদরসহ উপজেলাগুলোতে ৪ শত হেক্টরের বেশি জমিতে গোলাপ, গাঁদা, রজনীগদ্ধা, গ্লাডিওলাস, জারবেরাসহ নানা দেশি-বিদেশি ফুলের চাষ হচ্ছে। ফুল চাষ লাভজনক তাই ঝিনাইদহের মাঠে প্রায় বছর জুড়ে ব্যস্ত সময় কাটে ফুলচাষিদের। তবে এই সময়টার ব্যস্ততা ভিন্ন কারণে। মাঠের বাগান থেকে সব ফুল তুলে ফেলে দিচ্ছেন ফুলবাগানের সারিগুলোতেই কখনোবা ঝোপঝাড়ে, রাস্তার ধারে।

বিয়ে-অনুষ্ঠানাদি বা ইভেন্ট না থাকায় দাম নেই ফুলের। তাই রমজান মাসের এই সময়ে বেচাকেনা থাকে প্রায় শূন্যের কোঠায় থাকে বলে জানান সদর উপজেলার উদয়পুর গ্রামের ফুলচাষী বিল্লাল হোসেন ও মহাসিন হোসেন।

গাঁদা ফুলের ঝোপা ২ শত থেকে আড়াই শত টাকা পর্যন্ত ঝোপা বিক্রি হলেও এখন তা ২০-২৫ টাকা ঝোপা আর রজনীগন্ধার একটি স্টিক ৫ টাকা পর্যন্ত দাম উঠলেও এখন তা যাচ্ছে চার আনা দরে।

বর্তমান সময়ে যে ফুলের চাষ হচ্ছে তাকে বলা হয় গরম মৌসুমের ফুল। ৫ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত এ ফুল পাওয়া যায় বাগান থেকে। এক বিঘা জমিতে চাষ করতে গাঁদা ও রজনী গন্ধা তে খরচ হয় প্রায় ২৫/ ২৬ হাজার টাকা আর বিক্রি করা যায় প্রায় লাখ টাকা। তবে রমজানের এই সময়টাতে ফুলের দাম নেমে আসে সর্বনিন্ম পর্যায়ে। তাও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফুল তুলে ফেলে দিতে বাধ্য হন কৃষক। কারণ শ্রমিক খরচ করে ফুল তুলে, ঝোপা গেঁথে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত আয়ের চেয়ে ব্যায় বেশি হয়ে দাঁড়ায় এ সময়টাতে।

কালীগঞ্জের ফুলচাষী মুকুল জুমবাংলাকে জানান, তার আড়াই বিঘা জমিতে রজনীগন্ধা ও গাঁদা ফুলের চাষ হয়েছে। যে ফুলের স্টিক ৫ টাকা দরে বিক্রি করা হতো এখন তা ১ টাকা দরেও বিক্রি হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ১ টাকা দরে রজনীগন্ধার স্টিক বিক্রি হলেও ২ লাখ স্টিক ২ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারতেন কিন্তু বর্তমানে তা চারআনা দরেও বিক্রি হচ্ছে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের উপপরিচালক জি. এম আব্দুর রউফ জুমবাংলাকে বলেন, কৃষকরা যেন নিরুৎসাহিত না হয়ে পড়ে সেই ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরিকল্পিতভাবে ফুলের চাষ করতে হবে। আর ফুল সংরক্ষণ করতে বিশেষায়িত হিমাগারের জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

জুমবাংলানিউজ/একেএ