Exceptional লাইফস্টাইল

২০ জন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিখ্যাত যত উক্তি, এনে দিতে পারে বিস্ময়কর সাফল্য; শেয়ার করে সংগ্রহে রাখুন

যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্র। সামরিক, অর্থনৈতিক কিংবা কূটনৈতিক সব দিক থেকেই তারা বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাই যে ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেন অর্থাৎ দেশটির প্রেসিডেন্টও একজন ক্ষমতাধর ব্যক্তি।

গত ৮ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। সেখানে ৩০৬টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা বেশির ভাগ সময়ই খুবই যোগ্যতাসম্পন্ন হন। তাদেরকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়তে দলীয় টিকিট পেতে যেমন কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়, তেমনি প্রার্থিতা পাওয়ার পরও নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের প্রার্থীর সঙ্গে বেশ কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয় এবং নিজের যোগ্যতা ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে হয়।

বিভিন্ন সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টরা তাদের দায়িত্ব পালনকালে বিখ্যাত নানা কথা বলেছেন। কালের যাত্রায় সেসবের অনেকগুলোই অমরত্ব লাভ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন থেকে শুরু করে বর্তমান ৪৪তম প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পর্যন্ত প্রেসিডেন্টদের সেসব বিখ্যাত কিছু উক্তি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। ধারাবাহিক দুই পর্বের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

১. জর্জ ওয়াশিংটন (১৭৮৯-৯৭) : ‘শান্তি প্রতিষ্ঠায় অন্যতম কার্যকর পদক্ষেপ হলো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়া।’

‘মুক্তি এমন এক বৃক্ষ, যখন এর শেকড় গজাতে শুরু করে, খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে।’

২. জন এডামস : (১৭৯৭-১৮০১) : ‘সমাজের সুখেই সরকারের সর্বনাশ।’

‘একজন মানুষের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য এবং তার আকাঙ্ক্ষাকে কলঙ্কিত করার জন্য কলম নিশ্চিতভাবেই খুবই চমৎকার একটি যন্ত্র।’

৩. টমাস জেফারসন (১৮০১-০৯) : ‘একজন সাহসী লোকই সংখ্যাগরিষ্ঠ।’

‘সেই সরকারই সর্বশ্রেষ্ঠ যেটি সবচেয়ে কম সময় শাসন করে, কারণ এর লোকজন সেসময়ে সুশৃঙ্খল থাকে।’

৪. জেমস ম্যাডিসন (১৮০৯-১৭) : ‘সত্য হলো এই যে, ক্ষমতাসীন সব লোকই অবিশ্বাসের শিকার হতে বাধ্য।’

‘যে সমস্যার সমাধান করতে হবে তা হলো- কোন ধরনের সরকার নির্ভুল সেটি নয়, বরং কোন ধরনের সরকার কম ত্রুটিপূর্ণ সেটি।’

৫. জেমস মনরো (১৮১৭-২৫) : ‘ছোটখাট তোষামদও কোনো লোকের জন্য ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্দশা ডেকে আনতে পারে।’

‘আমেরিকা মহাদেশ… এখন থেকে আর অন্য কোনো ইউরোপীয় শক্তির ভবিষ্যৎ উপনিবেশ হিসেবে বিবেচিত হবে না।’

৬. জন কুইন্সি অ্যাডামস (১৮২৫-২৯) : ‘আমাদের দেশ সবসময় সফল হোক, তবে সফল কিংবা অন্য যা কিছুই হোক না কেন, সবসময় যেন ন্যায়পরায়ণ হয়।’

‘সবসময় নীতির পক্ষে ভোট দিন, হয়তো আপনি একা ভোট দেবেন, তবে আপনি এই সুখকর প্রতিফলন অনুভব করবেন যে, আপনার ভোটটি কখনোই নষ্ট হয়নি।’

৭. অ্যান্ড্রু জ্যাকসন (১৮২৯-৩৭) : ‘যে ব্যক্তি সরকারের ডাকে তার কর্তব্যে সাড়া না দেয়, সে ক্রীতদাসের সমতুল্য এবং তাকে দেশের শত্রু ও দেশের শত্রুর বন্ধু হিসেবে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।’

‘আমি জানি আমি কীসের যোগ্য। আমি একদল লোককে কর্কশভাবে আদেশ করতে পারি, কিন্তু প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নই।’

৮. মার্টিন ভ্যান বুরেন (১৮৩৭-৪১) : ‘একটি কাজ কেন করা হয়নি সেটি ব্যাখ্যা করার চেয়ে কাজটি করাই সহজ।’

‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দুটি দিন ছিল যেদিন আমি হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করলাম সেদিন এবং যেদিন আমি দায়িত্ব ছেড়ে দিলাম সেদিন।’

৯. উইলিয়াম হেনরি হ্যারিসন (১৮৪১) : ‘সরকারের কাজগুলোর মধ্যে শোভনীয় ও মর্যাদাপূর্ণ একটি হলো কেবল সহ্য করা নয়, বরং উৎসাহিতও করা।’

‘আমার মতে, সব সরকারের মধ্যে সেটিই সবচেয়ে শক্তিশালী যেটি সবচেয়ে বেশি স্বাধীন।’

১০. জন টেইলর (১৮৪১-৪৫) : ‘সম্পদ কেবল অব্যাহত পরিশ্রম ও মিতব্যয়িতার মাধ্যমে বাড়ানো সম্ভব।’

‘আমার ভাল ঘোড়াটির মরদেহ এখানে আছে। ২০ বছর ধরে সে আমাকে পিঠে বহন করে বেরিয়েছে এবং এই সময়ে সে কখনোই গুরুতর ভুল করেনি। তার মালিকও যদি তার মতো হতে পারত!’

১১. জেমস নক্স পক (১৮৪৫-৪৯) : ‘আমার জন্য এটি খুবই সত্য যে, প্রেসিডেন্টের পদ কোনো ফুলশয্যা নয়।’

‘আমি খুবই আনন্দিত যে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার মেয়াদ শেষ হওয়ার খুব কাছে। খুব শিগগিরই আমি ভৃত্যের কাজ করা বাদ দেব এবং একজন স্বাধীন মানুষ হিসেবে জীবনযাপন করব।’

১২. জাকারি টেইলর (১৮৪৯-৫০) : ‘বশ্য শত্রুর সঙ্গে মহানুভবতার সঙ্গে আচরণ করাই বিচক্ষণতা।’

‘আমি প্রেসিডেন্ট হবো এই ধারণা গুরুতর কোনো উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার কাছে খুবই অবাস্তব। এ বিষয়ে আমি কখনো মাথা ঘামায়নি।’

১৩. মিলার্ড ফিলমোর (১৮৫০-৫৩) : ‘একটি মর্যাদাহীন জয়ের চেয়ে একটি মর্যাদাপূর্ণ পরাজয় শ্রেয়।’

‘যে লোক তার দেশের ক্রান্তিকালে নিজেকে সেই সংকটে সঁপে দিতে চায় না, সে মানুষের বিশ্বাসের যোগ্য নয়।’

১৪. ফ্রাঙ্ক পায়ার্স (১৮৫৩-৫৭) : ‘আগ্রাসনকে আমন্ত্রণ জানানোর মতো কোনো কিছু আমাদের ইতিহাসে নেই। সব দেশের সঙ্গে শান্তি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক লালনপালনকারী হিসেবে গণ্য হওয়ার ক্ষেত্রে সবকিছুই আমাদের রয়েছে।’

১৫. জেমস বুকানন (১৮৫৭-৬১) : ‘স্বাধীন লোকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব মেটানোর ক্ষেত্রে ব্যালট বাক্স হলো সবচেয়ে নিশ্চিত মধ্যস্থতাকারী।’

‘স্বর্গ ও সংবিধান ছাড়া স্থাবর কিছু নেই।’

১৬. আব্রাহাম লিংকন (১৮৬১-৬৫) : ‘আপনি সব লোককে কিছু সময়ের জন্য বোকা বানাতে পারবেন, কিছু লোককে সব সময়ের জন্য বোকা বানাতে পারবেন। তবে আপনি সব লোককে সব সময়ের জন্য বোকা বানাতে পারবেন না।’

‘দাসত্ব যদি অন্যায় হয়ে না থাকে, কোনো কিছুই অন্যায় না।’

‘আমি কি বন্ধু বানানোর মাধ্যমে আমার শত্রুদের ধ্বংস করে দিচ্ছি না?’

১৭. অ্যান্ড্রু জনসন (১৮৬৫-৬৯) : ‘যদি একদিকে উচ্ছৃঙ্খল জনতা ও অন্যদিকে অভিজাতশ্রেণিকে বাদ দেওয়া যায়, তাহলেই দেশের জন্য মঙ্গলজনক।’

‘সৎ প্রত্যয় আমার সাহস; সংবিধান আমার পথপদর্শক।’

১৮. ইউলিসিস সিম্পসন গ্রান্ট (১৮৬৯-৭৭) : ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা ছাড়া আমি কখনোই যুদ্ধকে সমর্থন করিনি।’

‘আমার ব্যর্থতা ছিল বিচারের ভুল, ইচ্ছার ভুল নয়।’

১৯. রাদারফোর্ড বারচার্ড হায়েস (১৮৭৭-৮১) : ‘যে তার দেশের সেবা সবচেয়ে ভালো করে, সেই তার দলকে সবচেয়ে ভাল সেবা দেয়।’

২০. জেমস আবরাম গারফিল্ড (১৮৮১) : ‘জীবনে আমি অনেক সংকট মোকাবিলা করেছি, তবে সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটটি এখনো আসেনি।’ -রাইজিংবিডি।
১০ ডিসেম্বর, ২০১৬/এমটিনিউজ২৪/সৈকত/এমএম

জুমবাংলানিউজ/ জিএলজি