জাতীয়

১৪ ঘণ্টার অভিযানে ২ জঙ্গি নিহত

গেলো ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজানে ভয়াবহ হামলার পর জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আটঘাঁট বেঁধে মাঠে নামে পুলিশ। এরপর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দফায় দফায় অভিযানে অনেকটাই নিস্তেজ হয়ে পড়েছে জঙ্গিদের শক্তি। সর্বশেষ শনিবার রাজধানীর পূর্ব আশকোনার ৫০ নম্বর সূর্যভিলায় বিশেষ অভিযানে নামে পুলিশ। ১৪ ঘণ্টার এ অভিযানে দেখা যায় অনেক নাটকীয়তা। মায়ের ডাকে সাড়া দিয়ে বেরিয়ে আসেন নারী জঙ্গি সদস্য। আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে নিহত হন নারীসহ ২ জঙ্গি।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত ২টায় অভিযানে নামে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। বারবার জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হলেও কোনো সাড়া দেয়নি। পরে সকাল সাড়ে ৯টায় মায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সন্তানসহ আত্মসমর্পণ করেন এক নারী জঙ্গি সদস্য। তারপরই সন্তানসহ ধরা দেন আরো এক নারী জঙ্গি সদস্য।

• গোপন সংবাদে অভিযান
জঙ্গি আস্তানা রয়েছে এমন গোপন তথ্যে শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই আশকোনার ৫০ নম্বর তিনতলা বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা। পরে ভোরের দিকে শুরু হয় মূল অভিযান।
ভেতরে থাকা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হলেও তারা রাজি হয়নি। পরে মায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সন্তানসহ আত্মসমর্পণ করেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিহত মেজর জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলা। পরে বেরিয়ে আসেন পলাতক জঙ্গি মুসার স্ত্রী তৃষ্ণা ও তার মেয়ে। জঙ্গি মুসা নিজেকে ইমতিয়াজ আহমেদ পরিচয় দিয়েই কোরবানি ঈদের আগে এ বাড়িটি ভাড়া নেন।
আত্মসমর্পণের পরপরই গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেয়া হয় দু’শিশু ও দু’নারীকে। এদের মধ্যে রয়েছেন জঙ্গি মেজর জাহিদের স্ত্রী শিলা ও মেয়ে এবং পালাতক মুসার স্ত্রী তৃষ্ণা ও শিশু সন্তান। শনিবার সকাল ১১টার দিকে তাদের মিন্টু রোডের ডিবি অফিসে নেয়া হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় পুলিশের কাছে তারা আত্মসমর্পণ করেন।

 

চারজন আত্মসমর্পণের পর ওই বাড়িরে ভেতরে থাকা ৩ জনকে জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা চালায় পুলিশ। এমনটাই জানিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ভেতরে থাকা জঙ্গিদের কাছে বিপুল পরিমাণে বিস্ফোরক ও অস্ত্র। তাই জঙ্গিদের আত্মসমর্পণে সমাঝোতার চেষ্টার একপর্যায়ে মেজর জাহিদের স্ত্রী ও জঙ্গি মুসার স্ত্রীসহ ৪ জন বের হয়ে আসে। তবে বাড়িটিতে থাকা বাকি জঙ্গি সদস্যদের আত্মসমর্পণের জন্য বলা হয়। কিন্তু তারা এতে রাজি হয়নি। বুকে গ্রেনেড বেঁধে প্রতিরোধের ঘোষণাও দেয় জঙ্গিরা।

 

জঙ্গিরা আত্মসমর্পণ না করায় দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে এসে অভিযানে নামেন পুলিশের বিশেষ টিম সোয়াট সদস্যরা। শনিবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে বাড়ির ভেতরে ঢুকেন সোয়াটের দুই সদস্য। তারপরই শুরু হয় তাদের মূল অভিযান

 

সোয়াট সদস্যরা অভিযান শুরু করার পর ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে কথিত জঙ্গি সুমনের স্ত্রী। তবে ধরা না দিয়ে তার কোমরে থাকা গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটায় সে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় সেই নারী জঙ্গি। আহত হয় তার সঙ্গে থাকা এক শিশু। ধারণা করা হচ্ছে ওই নারী জঙ্গিই শিশুটির মা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে আত্মঘাতী হামলায় আহত শিশুকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। শনিবার দুপুর ১টায় তাকে সূর্যভিলা থেকে উদ্ধার করা হয়।

আশকোনার জঙ্গি আস্তানায় অবস্থান নেয়া ৭ জনেরই পরিচয় পেয়েছে পুলিশ। এদের মধ্যে নিহত জঙ্গি মেজর জাহিদের স্ত্রী শিলা ও মেয়ে এবং পালাতক মুসার স্ত্রী তৃষ্ণা ও শিশু সন্তান। বাড়ির ভেতরে নিহত জঙ্গির একজন আফিফ কাদেরী নাবিল। সে নিহত জঙ্গি তানভীর কাদেরীর ছেলে। বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী কথিত জঙ্গি সুমনের স্ত্রী। ছিল তার শিশু সন্তানও। সে আহত হয়ে ঢামেকে চিকিৎসাধীন।

বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ১৪ ঘণ্টা অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, ভেতরে অনেক বিস্ফোরক আছে। তবে কী পরিমাণে আছে তা এখনও নিশ্চিত নই। আমাদের বোম ডিস্পোজাল ইউনিট ভেতরে আছেন তাদের কাজ শেষ হলে বলা যাবে কেমন গোলাবারুদ আছে সেখানে। তবে আশকোনা সূর্যভিলার জঙ্গি অভিযান এখানেই শেষ।

আরও পড়ুনঃ রাস্তাতেই বসে মিডডে মিলের খাবার খেতে হচ্ছে এই শিক্ষার্থীদের!(ভিডিও)

Add Comment

Click here to post a comment