slider জাতীয়

বসন্তের রঙে মাতোয়ারা ঢাকা

মাহমুদা বীথি:  আসে বসন্ত ফুল বনে, সাজে বনভূমি সুন্দরী

চরণে পায়েলা রুমুঝুমু, মধুপ উঠিছে গুঞ্জরি’- কবির এই গানের মতো করেই যেন বসন্তের রং-রূপ এবার প্রকৃতি থেকে উঠে এল মানুষে দ্বারে, ফাগুনের রং ছড়িয়ে গেল রাজধানীবাসীর মনে।

শহরের আজ যেদিকে চোখ যায়ে বাসন্তিতে ভরে গেছে চারদিক। যাতে সব বয়সীদের সরব উপস্থিতি মনে করে দেয় -বসন্ত এসে গেছে। আর এই রঙিন বসন্তকে উৎসবে বরণ করে নিতে রুক্ষ ইট-পাথরের রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে নানা আয়েজন।

ফার্মগেট ফুট ওভারব্রিজ এর পাশে ফুলের দোকানে কথা হল আমেনা ও তার মেয়ে রত্নার সাথে, আমেনা বললেন “বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এ উৎসবে সামিল হই। কেমন এক মানসিক প্রশান্তি পাই এ উৎসবে এসে। আর আজ মেয়েকে নিয়ে সামিল হয়েছি”

রত্নার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, “আমি সংস্কৃতি মনা পরিবারে বড় হয়েছি।বাবা-মা কে সব সময় দেখতাম বাংলার বিভিন্ন উৎসব পালন করতে। আর আজ মায়ের সাথে ঘুরছি ফিরছি মজা করছি ভালে লাগছে।”

রমণিদের বাসন্তি রঙয়ের শাড়ির সাথে হলুদ ফুল না হলে যেন চলেই না। আর সম্প্রতি শুধু ফুল নয়, ফুল দিয়ে বানানো টায়রা যুক্ত হয়েছে নতুন অনুসঙ্গ হিসাবে। ফুলের দোককানিরা দম ফেলার সময় পাচ্ছে না যেন টায়রা বানিয়ে।

কথা হলো সেই ফুল দোকানির সাথে, “আমরা ছাত্র, কজন বন্ধু মিলে ফুল কিনে দোকান দিয়েছি।আজ ও আগামীকাল অনেক ফুলের চাহিদা মূলত কাজের মাঝে কিছু আনন্দও পাইলাম আবার কিছু টাকাও হাতে আসলো খারাপ কি”

নিষ্প্রাণ, হিসেবী, প্রকৃতি-বিচ্ছিন্ন এই নগরজীবন। ফাগুনের এই দিনে তাই সবাই যেন প্রকৃতির সঙ্গে, মানুষের সঙ্গে মিলে গেছেন নিমিষেই। নিজেকে নতুন করে চিনে নেওয়া আর অন্যকে প্রীতির বন্ধনে বাঁধার এ যেন এক দারুণ উৎসব আজ।

কথা হলো মাঝ বয়সি মাহমুব বাকশি নামের এক জনের সাথে তিনি বললেন, “স্কুলবেলা থেকে এ উৎসবে আসছি। তখন উৎসবের মাজেজা তো অত বুঝতাম না বিশ্ববিদ্যালয়ে এস বুঝছে। দিনে দিনে এই বসন্ত উৎসব রঙিন হয়ে উঠল। বয়স বেড়ে গেছে বসন্তের প্রতি অনুভূতি আর আবেগের কমতি হয়নি এতটুকু। তার তীব্রতা আরও বেড়ে গেছে বলে এ উৎসব উদযাপনের প্রবণতা যেন আরও বেড়ে গেছে। বাঙালির এই বসন্ত সত্যেই সার্বজনীন।”

বসন্তের সকালে গ্রীনরোডে হন্তদন্ত হয়ে হাঁটছেন এক মহিলা তার কাছে গিয়ে কোথায় যাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘কই আর যাবো অফিস আছে।”আজ পহেলা ফাগুন বললে তিনি জানালেন, আর ফাগুন, জীবনের সব রং করে নিয়েছে ঢাকার এই যান্ত্রিক জীবন। আজকের দিনটা যদি সরকারি ছুটির দিন হতো তাইলে ভালো হতো”

গেল কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক অস্তিরতায় সারাদেশ থমথমে অবস্থায় ফিকে হয়ে যায় ঢাকার নাগরিক জীবন। ফিকে আর ব্যস্ত নগরজীবনকে উপভোগ করার মতো সাংস্কৃতিক উৎসব অনেকটাই কম। তবুও এমন উৎসবে সবার মনে রং ছড়াক। রংয়ের সেই ছড়াছড়িতে আটপৌরে নগরজীবন থেকে নেমে যাক হতাশা, গ্লানী, পাওয়া না পাওয়ার হিসেব। বসন্ত সবার মনে আবেশ ছড়াক এমন প্রত্যাশাই সবার।

 

জুমবাংলা / এমবি