জাতীয় স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্য খাতে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

[better-ads type='banner' banner='1187323' ]

জুমবাংলা ডেস্ক : দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে (চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ক্লিনিক্যালি ডেথ বা ব্রেইন ডেথ) অনেক রোগী থাকে। চিকিৎসকরা যাদের বাঁচার আশা ছেড়ে দেন। এমন ‘ক্লিনিক্যালি ডেথ’ মানুষ নিজেরা না বাঁচলেও মৃত্যুর পূর্বক্ষণে নিজেদের কিডনি, লিভারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করে বাঁচিয়ে দিতে পারেন অন্যদের। উন্নত বিশ্বে ‘ব্রেইন ডেথ’ রোগীদের কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করা হলেও দেশে প্রথমবারের মতো এ প্রক্রিয়াটি শুরু হতে যাচ্ছে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক কিডনি রোগীর কিডনি চাহিদা পূরণ হবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কিডনি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পাঁচ সদস্যের কিডনি বিশেষজ্ঞের একটি টিম বাংলাদেশে আসছে। কোনো ‘ব্রেইন ডেথ’ রোগী পাওয়া গেলে ওই টিম এ দেশের কিডনি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তার কিডনি প্রতিস্থাপন করবে। পাশাপাশি দেশের কিডনি বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণও দেবে কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ টিম।

বাংলাদেশে কোরিয়া-কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট টিমের কো-অর্ডিনেটর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. এএসএম তানিম আনোয়ার বণিক বার্তাকে বলেন, উন্নত বিশ্বে ব্রেইন ডেথ বা ক্লিনিক্যালি ডেথ রোগীর কিডনি ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশে আগে এ আইন ছিল না। গেজেট আকারে সুনির্দিষ্ট আইন করা হয়েছে। আইনের আলোকে এখন থেকে দেশেও ব্রেইন ডেথ রোগীদের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হবে। এতে করে কিডনি রোগীরা নতুন জীবন পাবে।

চিকিৎসকরা জানান, বাংলাদেশে প্রতি বছর পাঁচ হাজার মানুষের কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট প্রয়োজন। এর বিপরীতে মাত্র ১২০ জন মানুষ কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের সুযোগ পায়। বিশ্বের সব দেশে মরদেহ থেকে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করে চাহিদা পূরণ করা হয়। বাংলাদেশে যদি সেটি শুরু করা যায়, তাহলে হাজার হাজার কিডনি রোগী এ সুবিধা পাবে।

‘ব্রেইন ডেথ’ রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপনের বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্রশিক্ষণ নেয়া ডা. এএসএম তানিম আনোয়ার বলেন, ‘ব্রেইন ডেথ’ দাতা পেতে হলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। কুসংস্কার ও আবেগের কারণে মানুষ অঙ্গ দান করতে চায় না। রক্ত দানের মতো কিডনি বা লিভার দানের বিষয়েও মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। তাহলে বিপুল সংখ্যক কিডনি রোগীর জীবন বাঁচবে।

জানা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ টিম এলে ঢাকার চার-পাঁচটা আইসিইউ খুঁজে দেখা হবে। ‘ব্রেইন ডেথ’ রোগী পাওয়া গেলে এবং রোগীর আত্মীয়স্বজনের সম্মতি পেলে তাহলে অস্ত্রোপচার করা হবে। যদি ‘ব্রেইন ডেথ’ রোগী পাওয়া না যায়, তাহলে পরবর্তীতে আবার উদ্যোগ নেয়া হবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), বারডেম, কিডনি ফাউন্ডেশন ও সিএমএইচ এ পাঁচ হাসপাতালের যেকোনো একটিতে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করা হতে পারে। এ হাসপাতালগুলোর যেখানেই দাতা পাওয়া যাবে, সেখানে অস্ত্রোপচার করা হবে।

বাংলাদেশ কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, কিডনি বিকল হয়ে গেলে ডায়ালিসিস অথবা প্রতিস্থাপন করতে হয়। দুভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করা যায়। জীবিত ও ব্রেইন ডেথ রোগীদের কিডনি প্রতিস্থাপন করা যায়। যতদিন পর্যন্ত ব্রেইন ডেথ ব্যক্তির কিডনি ব্যবহার করা যাবে না, ততদিন পর্যন্ত কিডনি প্রতিস্থাপন বাড়ানো যাবে না। ব্রেইন ডেথ ব্যক্তির কিডনি প্রতিস্থাপন শুরু হলে রোগীদের দেশের বাইরে যাওয়ার প্রবণতা কমবে। এখন দাতার অভাবে অনেকে মিথ্যা কাগজ তৈরি করে বিদেশে যায়। এতে দেশের টাকা বাইরে চলে যাচ্ছে। পাশাপাশি রোগীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সে কারণে মৃত ব্যক্তির কিডনি দানে রোগীর স্বজনদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন (সংশোধন) আইন-২০১৭ ব্রেইন ডেথ ঘোষণার পর কোনো আইনানুগ উত্তরাধিকারীর লিখিত অনুমতিসাপেক্ষে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অন্যকে দেয়া যাবে। ব্রেইন ডেথ ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো দাবিদার না থাকলে ঘোষণাকারী হাসপাতালের প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রদানের অনুমতি দিতে পারবেন। ব্রেইন ডেথ ঘোষণার জন্য একটি কমিটি থাকবে। মেডিসিন বা ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন, নিউরোলজি ও অ্যানেস্থেশিওলজির একজন করে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার কমপক্ষে তিনজন চিকিৎসক নিয়ে গঠিত কমিটি কোনো ব্যক্তিকে ব্রেইন ডেথ হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে।

জুমবাংলানিউজ/পিএম