অপরাধ-দুর্নীতি জাতীয় স্লাইডার

‘সৌদি রিয়ালের নামে জালনোট বিক্রি করতো এই প্রতারক চক্র’

জুমবাংলা ডেস্ক : ‘রাজধানীর গুলশান ও বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় যানজটে আটকে থাকা দামি গাড়ি টার্গেট করে সৌদি রিয়ালের নামে জালনোট বিক্রি করতো একটি প্রতারক চক্র। কম দামে বিদেশি টাকা পেয়ে অনেকে তাদের ফাঁদে পা দিতো। মোটা অঙ্কের বিনিময়ে গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা বান্ডিল ধরে রিয়াল কিনতো। বান্ডিল খুলে দেখার আগেই প্রতারক চক্র বলতো- পুলিশ আসছে ঝামেলা হবে। এই বলে টাকা নিয়ে সরে পড়তো। পরে দেখা যেত বান্ডিলের ওপরে ও নিচে কয়েকটা রিয়াল, বাকিগুলো সাদা কাগজ।’

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) রাতে কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পাওয়া এসব তথ্য তুলে ধরেছেন র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারোয়ার-বিন-কাশেম। শুক্রবার (১৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সৌদি রিয়াল বিক্রির নামে এ ধরনের প্রতারণার তথ্য সাংবাদিকদের জানান তিনি।

চক্রটি হজ মৌসুমে হাজী ক্যাম্পসহ আশপাশের এলাকায়ও এভাবে প্রতারণা করতো বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘হজ মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা হজ গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের টার্গেট করে তারা এসব সৌদি রিয়াল বিক্রি করতো। অনেকে কম দামে রিয়াল পেয়ে যাচাই-বাছাই না করে সেগুলো কিনতো। পরে প্রতারণার শিকার হতো।’

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে বোকা বানাতে এ চক্রটি বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতো। বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লিরা খুশি হয়ে তাদের অনেক রিয়াল উপহার দিয়েছে কিংবা ইজতেমায় সৌদি রিয়াল কুড়িয়ে পেয়েছে এমন কথা বলতো এবং জানতে চাইতো কীভাবে সেসব টাকা তারা ভাঙাবে। অনেকে তাদের কাছ থেকে কম দামে সেগুলো কিনতে আগ্রহী হতো। এ সময় চক্রটি তাদের নির্দিষ্ট ঠিকানায় আসতে বলতো। রিয়াল বিক্রির আলাপের ফাঁকে তারা আসল টাকার মধ্যে সাদা কাগজ দিয়ে বান্ডিল তৈরি করে বিক্রি করতো।’ এভাবে দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে তারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত বলে জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা। এই ঘটনায় ভাটারা থানায় একটি মামলা হয়েছে।

প্রতারক চক্রের গ্রেফতার সদস্যরা হলো আবু শেখ, তার সহযোগী শাহিন মাতব্বর, মহসিন মিয়া, আবুল বাশার, কামরুল শেখ, ইশারত মোল্লা ও আব্দুর রহমান মোল্লা।

জুমবাংলানিউজ/পিএম