জাতীয় ট্র্যাভেল ফেসবুক মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার

সৌদিয়া এয়ারলাইন্সে চরম অব্যবস্থাপনা, ওমরা হজ যাত্রীরা সীমাহীন দুর্ভোগে

ট্রাভেল ডেস্ক: ‘পবিত্র রমজান শেষে ওমরা হজ যাত্রীদের অনেকে যারা সৌদি এয়ারলাইন্সে ৬ জুন জেদ্দা থেকে রিয়াদ হয়ে ঢাকা বিমান বন্দরে আজ ৭ জুন মধ্যরাতে ২টায় এসভি ৮০৪ ফ্লাইটে ‌এসেছেন তাদেরকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

একদিকে কয়েক ঘণ্টা বিলম্ব অন্যদিকে ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছে বিপুলসংখ্যক যাত্রীরা তাদের মালামাল ফেরত পাননি।

অর্ধশতাধিক যাত্রীরা তাদের ১০৬ টি লাগেজ এখনো পর্যন্ত পাননি । এ ব্যাপারে তারা সৌদি এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিকেও লিখিতভাবে অবহিত করলেও এখনো পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি ।

ওমরা হজ যাত্রীদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন অধ্যাপকও তাদের লাগেজ পাননি। এমনকি অনেক যাত্রী তাদের দুটি করে লাগেজ জমা দিলেও একটি লাগেজও তারা পাননি।

ওমরা হজ যাত্রীদের অনেকেই দেশে অবস্থানরত আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব ও সহকর্মীদের জন্য খেজুর, যাইতুন, জায়নামাজ, তসবি সহ নানা উপহার সামগ্রী নিয়ে এসে থাকেন।

সৌদি এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষকে সব মালামাল তাদের দায়িত্বে বুঝিয়ে দেয়ার পরও প্রয়োজনীয় মালামাল না পেয়ে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ে যান। ক্ষুদ্ধ যাত্রীদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন একদিকে ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় বিলম্ব এবং অন্যদিকে যাত্রীসেবার মান কাঙ্ক্ষিত নয়। এছাড়া যাত্রীদের সাথে কেবিন ক্রু এবং এয়ার হোস্টেসদের অসম্মানজনক আচরণও যাত্রীদেরকে অত্যন্ত হতাশ করেছে।

যাত্রীদের অনেকেই বলছেন একদিন বা দুদিন পরে যদি মালামাল পাওয়া যায় তারপরও এই ভোগান্তির দায় কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে আর কারো মালামাল না পাওয়া গেলে তার উপযুক্ত জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ ভুক্তভোগী যাত্রীদেরকে প্রদান করতে হবে।

ওমরা হজ যাত্রী হিসেবে আমি এবং আমার পিতা আমরা দুজন‌ও ভুক্তভোগী ; এখনো পর্যন্ত আমাদের দুটি লাগেজ আমরা খুঁজে পাইনি।

একই ফ্লাইটের যাত্রী হিসেবে আমি দেখেছি অনেক যাত্রী আহাজারি করেছেন এই বলে যে, আমার একটিমাত্র‌ লাগেজেই সবকিছু ছিল সেটাও হারিয়ে ফেললাম।

তাই ফেসবুক ও সকল মিডিয়া বন্ধুদের আহ্বান জানাচ্ছি এ ব্যাপারে জোরালো পদক্ষেপ নিন এবং বিষয়টি প্রচার করুন যাতে ভুক্তভোগীরা এর প্রতিকার পান এবং সৌদি এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ‌ও এ ব্যাপারে সজাগ হয় এবং বিষয়টি সমাধান করতে বাধ্য হয়।’

(লেখাটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের ফেসবুক পোস্ট থেকে হুবহু কপি করা)

জুমবাংলানিউজ/এইচএম