ট্র্যাভেল

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড সম্পর্কে জানুন

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড! বিশ্বের ১১টি গভীরতম খাদের একটি। অনেকে মনে করেন এটি বিশ্বের ২য় গভীরতম খাদ। ব্রিটিশরা ভেবেছিল, এই এলাকা এত গভীর যে নিশ্চয়ই এর কোন তল নেই!

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডই নাকি ১৮৬৩ সালে গ্যাডফ্লাই নামে ২১২ টন ব্রিটিশ গানবোট ভারত থেকে ইংল্যান্ডে বিপুল পরিমান ধনরত্ন নিয়ে যাওয়ার সময় ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়।

তবে এর সৌন্দর্য মনোমুগদ্ধকর। সুনীল শান্তিময় সাগরের রঙ এখানে আরও গভীর নীল। সাগরতলের এই ম্যারিন ভ্যালিতে বাস করে ডলফিন, তিমিসহ আরও নানা প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী। তাই এখানে গেলে ডলফিনের মজার কার্যকলাপ দেখার সুযোগ রয়েছে শতভাগ। ধারণা করা হয়, এক লক্ষ পঁচিশ হাজার বছর আগে এই খাদ তৈরি হয়েছে। আয়তনে এটি ৩,৮০০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

সর্বোচ্চ ১,৩৪০ মিটার পর্যন্ত গভীর এই জায়গাটি আলাদা রঙের কারণে দূর থেকে নজরে পড়ে। তিমি, পপাস ডলফিন পৃথিবীর বৃহত্তম ইরাবতী ডলফিন, গোলাপি পিঠকূজো ইন্দো প্যাসিফিক ডলফিন ও মসৃণ পিঠের (পাখনাহীন) ইমপ্লাইস ডলফিনসহ নানান প্রজাতির প্রাণীদের এই অভয়ারণ্য এটি। সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড এর পরিচিতি এর পেছনে বাংলাদেশের যে প্রাণী বিজ্ঞানীর নামটি নামটি জড়িত তিনি হলেন, রুবাইয়াৎ মনসুর (মুগলি)। বাংলাদেশীদের মধ্যে তিনি সর্বপ্রথম এই জায়গাটির ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেন এবং একে একে নানা প্রজাতির ডলফিন এবং তিমির খোঁজ বের করেন।

সোয়াচ-ই পৃথিবীর একমাত্র খাদ যেখানে তিনটি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী একসঙ্গে দেখা যায়। সে এক অতুলনীয় রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হবে নিঃসন্দেহে। চাইলেই এখন ঘুরে আসা যায় এই সোয়াচটি।

জেনে অবাক হবেন যে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের অবস্থান দূরে কোথাও নয়। আমাদের বঙ্গপোসাগরে। মংলা সুন্দরবনের দুবলার চর বা সোনার চর থেকে থেকে এর দূরত্ব ৩০-৪০ কিলোমিটার।

কিভাবে যাবেন-

ঢাকা থেকে সরাসরি মংলা। মংলা থেকে প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরার ট্রলার সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড যায় মাছ ধরার জন্য। এদের যে কোনো ট্রলারে উঠে চলে যেতে পারেন সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড।

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে একটি নির্দিষ্ট এলাকা আছে যেখানে রাতে মাছ ধরার নৌকা ট্রলারগুলো অবস্থান করে। চাইলে একটা রাত কাটিয়ে আসতে পারেন সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে। তবে ট্রলার ঠিক করার আগে বিস্তারিত কথা বলে নিবেন।

এছাড়া কুয়াকাটা থেকে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড প্রায় ৯০ কি মি দূরে। কুয়াকাটা থেকে সরাসরি যাওয়া যায় কিনা সে ব্যাপারটা নির্ভর করে ট্রলার পাওয়ার উপর।

কিছু কথা-

সি-গাল পাখির অবস্থান নির্ভর করে অনেক সময় ডলফিন বা তিমির অবস্থান বোঝা যায়। যদি দেখেন সি-গাল পাখি পানির কাছাকাছি চক্কর দিচ্ছে তাহলে বুঝবেন আশাপাশে ডলফিনের অবস্থান রয়েছে। সর্বোপরি পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার কথা মাথায় রাখতে হবে।

জুমবাংলানিউজ/ জিএলজি