অর্থনীতি-ব্যবসা জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ

সৈয়দপুরে সিন্ডিকেটের কবলে ফলের বাজার

[better-ads type='banner' banner='1187323' ]

এম আর মহসিন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি: পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে নীলফামারীর সৈয়দপুরে সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে দেশীয় ও আমদানি নির্ভর ফলের বাজার। এতে ফলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী মূল্য বিরাজ করছে। সাধ্যের বাইরে দর থাকার কারণে ইফতারে ফল মিলছে না নিন্ম আয়ের মানুষদের।

শহরের মদিনা মোড়, রেলগেট, পাঁচ মাথা মোড়,সোহেলা রানা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকার খুচরা ফলের দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা দোকানগুলোতে স্থানীয় লিচু, কলা, বেল, তরমুজসহ আমদানি নির্ভর ফল আপেল, খেজুর, আঙ্গুর, ডালিম সারি সারি করে সাজানো। দেখতে অনেকটা ছোট ফলের বাগানের মতো। তবে সব ফলেরই আকাশচুম্বি দর। বিশেষ করে ক’দিন আগেই কলা ১৬ থেকে ২০ হালি দরে পাওয়া যেত। সে কলা এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৮ টাকা হালি। প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরের একটি তরমুজ ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। আনারস পিচ প্রতি ৮০ থেকে ৯০ টাকা। বেলের অবস্থা একই। একটি মধ্যম আকৃতির বেল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। এ দর চলছে দেশীয় ফলের। পাশাপাশি বিদেশী আমদানি করা ফলের বাজার দর আরও ঊধ্বমুখী।

মকবুল হোসেন নামে এক খুচরা ফলের দোকানি জানান, রোজার এক সপ্তাহ আগে ফাইভ স্টার খেজুর ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি । সেই খেজুর ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ডাবাস খেজুর ছিল ১৩০ টাকা এখন ১৯০ থেকে ১৯৫, নাগাল খেজুর ছিল ৮০-৯০ টাকা বর্তমান ১২০, সাহারা খেজুর ৮০-৯০ টাকার স্থলে ১১০ টাকা এমনকি লেজিস খেজুরের অবস্থা একই। আপেলের বাজার দরে গালা ১৮০, ফুজি ১৯০, হানি ১৭৫ টাকা কেজি ও হাড্ডি, রয়েল গালা একই দরে কেজি প্রতি কেনা হচ্ছে। অথচ এ সকল আপেল রোজার আগে বর্তমান দরের চেয়ে কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা দর কম ছিল। আঙ্গুর এমকেএস ১৮০টাকা, লোকনাথ ৩২০ টাকা, সনু ১৯০ টাকা প্রতি কেজি। এ ফলেও কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে। একই উর্ধ্বমুখী দরে কেনা বেচা হচ্ছে মালটা। মালটা পিরামিড, ওরেঞ্জ, রানি প্রতি কেজি ১৬২ টাকা দরে ক্রয় করতে হচ্ছে।

আর এ দরে কিনে খুচরা ব্যাবসায়িরা কেজি প্রতি দর বাড়ায় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে ফলের ক্রয় ক্ষমতা।

এ নিয়ে খুচরা ব্যবসায়ী ও মোকাম মালিকদের সাথে কথা হলে তারা পরস্পরের কাঁধে এর দায় চাপিয়ে দিলেও সাধারণ ক্রেতারা মনে করছেন এটি সিন্ডিকেট বা কারসাজি।

সৈয়দপুরের পাঁচ মাথা মোড়ের খুচরা ফল বিক্রেতা আবিদ জানান, আমাদের করার কিছুই নেই। তারা সকালে এক দর আবার বিকেলে এক দর চাচ্ছেন। এক্ষেত্রে প্যাকেট বা বস্তা প্রতি ২ থেকে ৩ শত টাকা দর বাড়ানো হচ্ছে।

লাড্ডান নামে এক ফল খুচরা ফল বিক্রেতা জানান, স্থানীয় বাজার ছাড়াও এখানকার ফলভান্ডারগুলো পুরো উত্তরাঞ্চল এমনকি দক্ষীনাঞ্চলেও ফল সরবরাহ করেন। তারা বাইপাল থেকে তেতুলিয়া, কুড়িগ্রাম থেকে যশোর। বিশাল এ বাজারে সরবরাহের আধিপত্য করছেন। আর তাই রমজান মাসকে টার্গেট করে প্রতি দিন শুধু খেজুর সরবরাহ করা হয় দেড় কোটি টাকার। এতে আমদানি করা বিশাল বাজারে এ মুল্যে সরবরাহ হওয়ায় স্থানিয় থেকে আঞ্চলিক ভোক্তারাও রোজায় ইফতার সামগ্রিতে ফল কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।

ভোক্তারা জানান, রোজার আগে দেড় হাজার মন খেজুর সৈয়দপুর নর্দান কোল্ড ষ্টোর থেকে বের করার পর মেয়াদ উর্ত্তীর্ণের অভিযোগে সৈয়দপুর নির্বাহী কর্মকর্তা জব্দ করে ধ্বংস করেন। এতে ফল ডিলাররা ক্ষিপ্ত হয়ে ফলের দর বাড়িয়েছে। এছাড়া এর জন্য সরকারের দুর্বল বাজার মনিটরিং ব্যবস্থাকেও দায়ী করছেন তারা।

দরবৃদ্ধি কৃত্রিম কারসাজি না অন্য কিছুএ নিয়ে জানতে চাইলে বিক্রমপুর ফল ভান্ডারের প্রোপাইটার শাহ আলম ও বিছমিল্লাহ ফল ভান্ডার এর প্রোপাইটার বাদশা বলেন, ফণীর প্রভাবে এমন হয়েছে। অনেক জাহাজ ঘাটে নোঙর করতে না পারায় ফল নিয়ে দেড়িতে প্রবেশ করায় সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এর কারণে দর বেড়েছে। আর দর বাড়ানোয় কোন সিন্ডিকেট করা হয়নি। মূল মোকাম থেকে দড় বাড়ানোয় এ অবস্থা হয়েছে।

এ নিয়ে সৈয়দপুর ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সহকারী ভূমি কমিশনার পরিমল কুমার সরকার বলেন, আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। চলছে অভিযান। এক্ষেত্রে ফলের বাজার দরের অসামঞ্জস্যতা পাওয়া গেলে এর ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

জুমবাংলানিউজ/একেএ