অপরাধ/দুর্নীতি জাতীয়

সে বলে ‘আমি বাজে মেয়ে নই’

বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণীর সম্ভমহানীর বর্ণনা দিয়েছে সাফাতের বন্ধু নাঈম আশরাফ। এই মামলার বাদীকে সাফাত আহমেদ ও বাদীর বান্ধবীকে জোর করে সম্ভমহানী করেছে নাঈম। তার এই বর্ণনা অনেক রগরগে মুভির কাহিনীকে হার মানায়।

গত ২৫শে মে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সত্যব্রত শিকদারের আদালতে দীর্ঘ জবানবন্দি দেয় নাঈম। নিজেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজক পরিচয় দিয়ে নাঈম আশরাফ বলেছে, সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিব আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে আড্ডা দিতাম। বিভিন্ন মেয়ে মডেল আমাদের সঙ্গে আড্ডা দিতো। তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক হতো বলেও স্বীকার করেছে নাঈম।

নাঈম তার স্বীকারোক্তিতে বলেছে, গত ২০শে এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টার দিকে পিকাসো রেস্টুরেন্টে এক তরুণীর (মামলার বাদী) সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় সাফাত। ওইদিন রাত ১০টায় ওই তরুণীকে নিজের গাড়িতে করে বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে আসে সাফাত।

ঘটনার আগের দিন ২৭শে মার্চ সাফাতের কথামতো গুলশান থেকে তিন বোতল মদ কিনে রেইনট্রি হোটেলে রেখে আসে নাঈম। পরদিন বিকালে দুই উঠতি মডেলকে ডেকে আনা হয়। দুই মডেলের বর্ণনা দিয়ে নাঈম আশরাফ বলেছে, এরা উঠতি মডেল। এদের সঙ্গে একাধিকবার

আমাদের শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়। ওই মডেল আসার পর হোটেলের প্রেসিডেন্ট স্যুটরুমে একসঙ্গে মদ পান করে তাদের সঙ্গে নাচতে থাকে সাফাত ও নাঈম। এরমধ্যে এক মডেলকন্যা চলে যায়। রাত ৯টার দিকে রুমে যায় ওই মামলার বাদী ও তার বান্ধবী।

এরমধ্যে মামলার বাদী নাঈমের পূর্ব পরিচিত হলেও তার বান্ধবীর সঙ্গে আগে পরিচয় ছিল না জানিয়ে নাঈম বলেছে, কিছুক্ষণ পর সাদমান সাকিফ আসে। আমরা নাচ-গান শুরু করি। ওই সময় বিজয় নগরের হোটেল ৭১ সামনে থেকে উত্তর বাড্ডার এক তরুণীকে আনা হয় পার্টিতে। রাত ১১টা ৫০ মিনিটে সাফাতের জন্মদিনের কেক দিয়ে যায় হোটেলের এমডি মাহির হারুন।

এসময় সবাই সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গেলেও সুইমিং করার পোশাক না থাকায় নাঈম রুমে বসে মদ পান করছিলো। রুমে এসে সবাই মদ পান করে। রাত পৌনে ১টার মধ্যে মামলার বাদী ওই তরুণী ও তার বান্ধবী ছাড়া অন্য মেয়েরা হোটেল থেকে বিদায় নেয়। তাদের একজনকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে হোটেলে ফিরি জানিয়ে নাঈম বলেছে, রাত ১টা ৩৫ মিনিটে রেইনট্রি হোটেলে ফিরে আসি। সাফাত দরজা খুলে দেয়। সে আমাকে বলে ওই তরুণীর সঙ্গে (মামলার বাদী) আনপ্রোটেকশন শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। তখন আমি তাকে পিল খাওয়াতে বলি।

সাফাত তাকে পিল খেতে বললে সে অস্বীকার করে। এসময় ওই দুই তরুণীর ডাক্তার বন্ধু অসহযোগিতা করলে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় সাফাতের জানিয়ে নাঈম বলে, সাফাত আমাদের বলে ওই তরুণী তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছে। এসময় দুই তরুণীর বন্ধুকে ডেকে মারধর করে নাঈম। তার ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়। এই কথা ওই দুই তরুণীকে বলতে নিষেধ করা হয়। কথামতো ওই ডাক্তার বন্ধু তার কক্ষে চলে যায়।

পরবর্তী সময়ের রগরগে বর্ণনা দিয়ে নাঈম বলেছে, এরপর দুই তরুণী আমাদের রুমে আসে। সাফাত তরুণীকে (মামলার বাদী) কিস করতে থাকে। আমিও তার বান্ধবীকে নিয়ে পাশের রুমে চলে যাই। এসময় নাঈম ও ওই তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় চলে গেলে বাধা দেয় ওই তরুণী। সে বলে ‘আমি বাজে মেয়ে নই’। এক পর্যায়ে জোর করে ওই তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে নাঈম। এসময় প্রোটেকশন ব্যবহার করে নাঈম আশরাফ।

এভাবেই কাটে সারারাত। সকাল ৬টার দিকে গাড়ির চাবি দিলে ওই দুই তরুণীর বন্ধু ও তার গার্লফ্রেন্ড হোটেল থেকে চলে যায়। দুই তরুণী ও সাফাত এবং নাঈম হোটেলে বিল দিয়ে উবারের গাড়িতে করে হোটেল থেকে চলে যায়। পরবর্তীতে দুই তরুণীর একজন মামলা করলে মুন্সীগঞ্জ থেকে নাঈম আশরাফকে গ্রেপ্তার করে।



আজকের জনপ্রিয় খবরঃ

গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ:

  1. বুখারী শরীফ Android App: Download করে প্রতিদিন ২টি হাদিস পড়ুন।
  2. পুলিশ ও RAB এর ফোন নম্বর অ্যাপটি ডাউনলোড করে আপনার ফোনে সংগ্রহ করে রাখুন।
  3. প্রতিদিন আজকের দিনের ইতিহাস পড়ুন Android App থেকে। Download করুন