Exceptional মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার শিক্ষনীয় গল্প শিল্প ও সাহিত্য

তার ধারণা ছিলো, অত সুন্দর মোহনীয় রূপ দেখে নিশ্চয় কেউ দয়া করবে! (জীবন বদলে দেওয়া গল্প-৬)

এক্সেপশনাল ডেস্ক : বসন্তের দখিনা হাওয়ায় মৃদু তালে দুলছিলো ফুলগুলো। নানান রঙের ফুলে নানান ধরনের ঘ্রাণ। সে ঘ্রাণের টানে বর্ণিল ডানার প্রজাপতিগুলো ছুটে আসে গির্জার বাগানে। একদিন দলছুট এক প্রজাপতি কিছু একটা দেখে ফুলগাছ থেকে নেমে ছোট্ট একটা গর্তে ঢোকে। কিন্তু সরু সেই গর্তটার ভেতর সহজে ঢুকতে পারলেও বেরুতে গিয়ে আটকে যায় সে।

হলদে-কালো-সাদা রঙের সুন্দর প্রজাপতিটা যদি প্রাণপণ চেষ্টা করতো, তাহলে হয়তো গর্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারতো। কিন্তু সামান্য একটু চেষ্টা করার পরই নড়াচড়া বন্ধ দেয় সে। সে ভেবেই নেয়, এ অবস্থা থেকে কিছুতেই বের হয়ে আসতে পারবে না। তাই অপেক্ষা করতে থাকে অন্য কেউ আসার, যে দয়ার বশে তাকে সাহায্য করবে।

গির্জায় প্রার্থনা শেষ করে ওই গর্তের পাশ দিয়েই হেঁটে যাচ্ছিলো একটা ছেলে। প্রজাপতিটা ছায়া দেখেই বুঝতে পারলো, কেউ একজন কাছাকাছি আসছে। তাই এবার এমনভাবে নড়াচড়া করতে লাগলো, যেন খচখচ করে আওয়াজ হয় আর ছোট্ট গর্তে তার উপস্থিতি টের পায় মানুষটা। প্রজাপতির ধারণা ছিলো, তার অত সুন্দর মোহনীয় রূপ দেখে নিশ্চয় কেউ দয়া করবে।

ঘটনাটা কিন্তু ঘটলোও তা-ই। আগন্তুক ছেলেটি ফুলগাছের কাছেই এসেছিল। সে খচখচ আওয়াজ শুনে বিষয়টি লক্ষ্যও করলো। আটকা পড়া সুন্দর প্রজাপতিটিকে দেখে তার মনে দয়াও জাগলো। কিন্তু ছেলেটার মাথায় বড়দের মতো পরিপক্ক বুদ্ধি তো আর ছিলো না! তাই হিতে বিপরীতটাই হলো।

ছেলেটি ভাবলো, প্রজাপতিটি তার চওড়া ডানা নিয়ে গর্তে এমনভাবে আটকে যায়। তার ডানার একটি অংশ কেটে দিলে সে যথেষ্ট জায়গা পাবে। তখন আর সে আর অভাবে গর্তে আটকাবে না।

যেমন ভাবনা, তেমন কাজ। ছেলেটা দৌড়ে একটি কাঁচি নিয়ে এলো। তারপর সেটা দিয়ে প্রজাপতির ডানার একটি অংশ কেটে দিলো। এরপর প্রজাপতিটি সহজে বের হয়ে আসতে পারলো ঠিকই; কিন্তু সে আর কোনও দিনই উড়তে পারেনি। যতদিন বেঁচে ছিল, এক ডানার ভারে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলেছে।

প্রিয় পাঠক, এখন ভাবুন তো, এ গল্পে শিক্ষণীয় কী আছে?

হ্যাঁ, যা শেখার আছে, তা হলো- সংগ্রাম ছাড়া আমরা কখনোই সামনে এগুতে পারবো না। সংগ্রাম ছাড়া সফলতাও ধরা দেবে না। প্রজাপতিটি যদি প্রাণপণ চেষ্টা করতো, তাহলে গর্ত থেকে বের হওয়ার একটা রাস্তা সে ঠিকই খুঁজে পেতো। সে অন্য কারও ওপর নির্ভর করতে গিয়ে আপাতদৃষ্টিতে বিপদ থেকে মুক্ত হলো ঠিকই। কিন্তু দূরদৃষ্টিতে মহাবিপদেই পড়লো। কাজেই অন্যের ওপর নির্ভরতা নয় বরং নিজের চেষ্টা ও সংগ্রাম দিয়েই সমস্যার সমাধানের পথ খোঁজা উচিত।

ভাষান্তর : ইউসুফ হাসান পারভেজ, পরিমার্জন : জুবায়ের জুয়েল

আরও পড়ুন :

হাতির পায়ে দড়ি (জীবন বদলে দেওয়া গল্প-১)

বুড়ো জমিদারের নজর পড়েছিল ব্যবসায়ীর মেয়ের ওপর (জীবন বদলে দেওয়া গল্প-২)

একদল ব্যাঙ লাফিয়ে যাচ্ছিল, হঠাৎ দুইটি ব্যাঙ বড় একটি গর্তে পড়ে যায়! (জীবন বদলে দেওয়া গল্প-৩)

এক গ্রামে ছিলো এক মাখন বিক্রেতা, তিনি নিয়ম করে রুটিওয়ালার কাছে যেতেন (জীবন বদলে দেওয়া গল্প-৪)

পাথরের নিচে চাপা দেয়া সে থলির মধ্যে ছিলো অসংখ্য স্বর্ণমুদ্রা (জীবন বদলে দেওয়া গল্প-৫)

আগামীকাল আসছে জীবন বদলে দেওয়া গল্প-৭

জুমবাংলানিউজ/এইচএমজেড