অর্থনীতি-ব্যবসা জাতীয়

সুপারিতে বিষাক্ত রাসায়নিক ও রঙ ব্যবহার করছে ব্যবসায়ীরা

জুমবাংলা ডেস্ক : দেশে সবচেয়ে বেশি সুপারি উৎপাদন হয় লক্ষ্মীপুর জেলায়। বিভিন্ন জেলার পাইকাররা এ সুপারি কেনেন। কিন্তু জাগ দেয়া সুপারির রঙ উজ্জ্বল করতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করছেন বিষাক্ত রাসায়নিক হাইড্রোজ ও কাপড়ের রঙ। এসব রঙ ও রাসায়নিক মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

গতকাল দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহরের সাহাপুর গ্রামের শিশু পরিবারসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিপুল পরিমাণ পচা সুপারিতে (জাগ দেয়ার পর) হাইড্রোজ (সোডিয়াম হাইড্রো সাইলফাইট) ও রঙ মেশানো হচ্ছে। লক্ষ্মীপুরের অন্যতম বড় সুপারি ব্যবসায়ী ফয়েজ আহমেদ এ কাজে যুক্ত।

প্রতি বছর ৭-৮ কোটি টাকার সুপারি বিক্রি করেন ফয়েজ আহমেদ। এবারো প্রায় ৭ কোটি টাকার ব্যবসা করবেন বলে আশা করছেন। আর সব সুপারিতেই বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানোর কথা স্বীকার করেন তিনি। তবে তার দাবি, রঙ না দিলে পাইকাররা সুপারির ভালো দাম দিতে চান না।

পৌরসভার ১৫ নং ওয়ার্ড ভূঁইয়া বাড়ি লুজার ঘরসংলগ্ন এলাকায় খোলা স্থানে দুলাল ও ফিরোজ নামে আরো দুই ব্যবসায়ীকে শ্রমিক দিয়ে সুপারিতে হাইড্রোজ মেশাতে দেখা যায়। কথা বললে ফয়েজ আহমেদের মতো একই যুক্তি দেখান দুলাল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু দুলাল, ফিরোজ বা ফয়েজ আহমেদই নয়; এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ ব্যবসায়ী বশিকপুর এলাকার আশু বাবু, রসুরগঞ্জ এলাকার বারেক, করিম খাঁ, চররুহিতার লতিফ ব্যাপারী, মানিক ব্যাপারী, মান্দারি এলাকার বাবুল সুপারিতে হাইড্রোজ মেশান। জেলা সদরের কাঞ্চনী বাজার, রসুলগঞ্জ, দালাল বাজার, হামছাদি ও নন্দনপুর এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যেই রাসায়নিক মেশানো হয়। পাশাপাশি সরকারি খাল ও পুকুরে সুপারি পচানোর ফলে এলাকার জলাশয়ের পানিও মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

সুপারিতে হাইড্রোজ মেশানোর তথ্য নিশ্চিত করে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নুর উদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গির জানান, এ জেলায় প্রায় ছয় হাজার হেক্টর জমিতে সুপারি উৎপাদন হয়। হাইড্রোজ না মেশাতে কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা প্রতিনিয়তই ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দিচ্ছেন। ক্যাম্পেইনও চলছে। এর পরও যারা এটা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।

এসব রঙ ও রাসায়নিকের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, হাইড্রোজ মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এটি খেলে পাকস্থলীর ক্যান্সার হতে পারে। এছাড়া মুখগহ্বর ও খাদ্যনালিতে ঘা হয়ে যেতে পারে।

এদিকে গত বছরের জুনে সদরের এক গ্রামে অভিযান চালিয়ে হাইড্রোজ মেশানোর সময় ৬৫ বস্তা সুপারি জব্দ করা হয়। এ সময় দুই শ্রমিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। কিন্তু এরপর আর প্রশাসনের তত্পরতা চোখে পড়েনি।

চলতি মৌসুমে আবারো এ তত্পরতা শুরু হওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল বলেন, খবরটি শুনেছি, বিষয়টি দেখার জন্য একজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এখনই কিছু করা হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, পহেলা বৈশাখের পর বিষয়টি নিয়ে বসব। সুপারিতে রাসায়নিক দেয়া ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জুমবাংলানিউজ/পিএম