আন্তর্জাতিক জাতীয়

সিলেটের ১২ সদস্যের সেই পরিবারের কেউ বেঁচে নেই

জুমবাংলা ডেস্ক : সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দেয়া লন্ডন প্রবাসী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের ১২ সদস্যের সেই পরিবারের কেউ বেঁচে নেই। সিরিয়ায় প্রতিরোধ যুদ্ধে তারা মারা যান। এ তথ্য প্রকাশ করছে বৃটিশ গণমাধ্যম দ্য ডেইলি মেইল।

সংবাদপত্রটি দাবি করেছে, পুরো পরিবারের নিহতদের মধ্যে ১১, পাঁচ ও এক বছরের শিশুও রয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসে যোগ দিতে লন্ডন থেকে বাংলাদেশ হয়ে তুরস্কের পথ ধরে সিরিয়া গিয়েছিলেন ২০১৫ সালে।

এই ১২ সদস্যের পরিবারের নেতৃত্বে ছিলেন ৭৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান। দ্যা মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে তারা ‘মান্নান পরিবার’ এর সদস্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবারটি যখন যুক্তরাজ্য ছেড়ে আইএসে যোগ দিতে সিরিয়া যায় তখনই বিশ্বের নজরে পড়ে। ২০১৫ সালের মে মাসে পরিবারটি বৃটেন থেকে প্রথমে বাংলাদেশে গ্রামের বাড়ি আসে, এখানে থেকে তুরষ্ক হয়ে সিরিয়া পৌঁছায়। সিরিয়া পৌঁছানোর দুই মাস পরে মান্নান পরিবারের সদস্যরা একটি বার্তায় ইসলামিক স্টেটের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করে।

লন্ডনে তাদের অন্য আত্মীয়-স্বজনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- মান্নান পরিবারের সকলেই মারা গেছেন। তাদের মধ্যে সাতজন বিমান হামলায় মারা গেছে, আর তিন ভাইকে আইএসের জিহাদে অংশ নেয়ায় হত্যা করা হয়েছে। পরিবারটির প্রধান আবদুল মান্নান ও তার স্ত্রী মিনারার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

পরিবারটি যুক্তরাজ্যের লুটনে বাস করতো। সেখানেই বাস করছেন মান্নানের আগের একজন স্ত্রীর ঘরের ছেলে সেলিম। তার বরাত দিয়ে ডেইলি মেইল অনলাইন বলছে, পরিবারটির সকলেই এখন মৃত।

‘আমরা অনেকদিন ধরেই তাদের কথা জানার চেষ্টা করে আসছি, আর সম্প্রতি সিরিয়া থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, ওরা কেউ বেঁচে নেই,’ ভাষ্য সেলিমের।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁওয়ে এই পরিবারটির আদি নিবাস। ২০১৫ সালের ১০ এপ্রিল পরিবারের ১২ সদস্যকে নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন গ্রামের বাড়িতে। একমাস পর ১১ মে তুরস্ক হয়ে তাদের যুক্তরাজ্যে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তুরস্ক থেকে তারা কথিত জিহাদের জন্য চলে যান সিরিয়ায়।

ওদিকে তারা বাংলাদেশ থেকে বের হয়ে যখন ব্রিটেনে ফিরছিলেন না, তখনই উদ্বিগ্ন আত্মীয়-স্বজনরা তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি পুলিশে রিপোর্ট করে।

সিরিয়া পৌঁছানোর দুই মাস পরে পরিবারটি এক বার্তায় ঘোষণা করে যে তারা ইসলামিক স্টেটকে সমর্থন জানিয়ে ওই দেশে অবস্থান করছে। বার্তাটিতে বলা হয়- আমরা এখন সুখি, এমন একটি দেশে আমরা এখন বাস করছি যেখানে কোনো দুর্নীতি নেই, মনুষ্য সৃষ্ট আইনের নিষ্পেষণ নেই, শরিয়া আইনেই যার শাসন চলছে।

জুমবাংলানিউজ/এসএস