আন্তর্জাতিক

সিরিয়ার শান্তিপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতেই তুরস্কে রুশ রাষ্ট্রদূতকে হত্যা : পুতিন-এরদোগান

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বলেছেন, সিরিয়ার শান্তিপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতেই তুরস্কে রুশ রাষ্ট্রদূতকে গুলি করে হত্যা হরা হয়েছে। তা ছাড়া রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্ষুণ করাও এ হামলার উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানও বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক বাধাগ্রস্ত করতে রুশ রাষ্ট্রদূতকে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় দেয়া এক অনুষ্ঠানে ভাষণে পুতিন বলেন, এই হত্যাকাণ্ড স্পষ্টই উত্তেজনাকর যা তুরস্ক-রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং সিরিয়ার শান্তিপ্রক্রিয়া ক্ষুণ করবে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছে রাশিয়া, তুরস্ক, ইরানসহ অন্যান্য দেশ। পুতিন দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো, মস্কো যেন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে সরে আসে।
সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় আঙ্কারায় একটি আর্ট গ্যালারি পরিদর্শনকালে রুশ রাষ্ট্রদূত অ্যান্দ্রেই কারলভকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরে তুরস্কের দাঙ্গা পুলিশের সদস্য ২২ বছর বয়সী ঘাতক আলতিনতাসকে গুলি করে হত্যা করে। তুরস্কের পশ্চিমের প্রদেশ এইডিনে জন্মগ্রহণ করা আলতিনতাস অসুস্থতার কারণে ছুটিতে ছিলেন বলে জানিয়েছে তুর্কি পত্রিকা হুররিয়াত। রুশ রাষ্ট্রদূতকে গুলি করার পর আলতিনতাস তুর্কি ভাষায় চিৎকার করে বলছিলেনÑ ‘আলেপ্পোর কথা ভুলো না, সিরিয়ার কথা ভুলো না’।
আলতিনতাসের সাথে কোনো রাজনৈতিক বা সন্ত্রাসী সংগঠনের সম্পর্ক আছে কি না তা এখনো জানা না গেলেও দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যমে তার সাথে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী তুরস্কের ধর্মীয় নেতা ফতহুল্লাহ গুলেনের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে খবর প্রকাশ পেয়েছে। যদিও গুলেনের একজন উপদেষ্টা এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং হামলাকারীর সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ ওই হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
পুতিন এক বিবৃতিতে বলেন, রাশিয়া ইতোমধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের সাথে তার ফোনালাপও হয়েছে। এরদোগান তদন্তে পুতিনকে সহযোগিতা করার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। পুতিন বলেন, কে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং আদেশ দিয়েছে আমাদের তা জানতেই হবে।
তেমনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেন, মস্কো ও আঙ্কারার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্ষুণœ করার জন্যই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি এই হামলা তুরস্কের ওপর, তুর্কি জনগণের ওপর, তুরস্ক-রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে চিড় ধরানোর জন্যই চালানো হয়েছে। তাই এই ঘটনার কারণে আঙ্কারা ও মস্কোর মধ্যকার সম্পর্ক ক্ষুণœ হবে না বলে মনে করেন এরদোগান।
সিরিয়ার সঙ্কট নিয়ে কিছু দিন থেকে তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছিল। সিরীয় সরকারের প্রতি রাশিয়ার সমর্থনের প্রতিবাদে ইস্তাম্বুলে রুশ দূতাবাসের বাইরে সম্প্রতি বিক্ষোভ হয়েছে। তবে আলেপ্পোয় যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে তুরস্ক ও রাশিয়া সরকার সহযোগিতার ভিত্তিতেই কাজ করছিল। এরই মধ্যে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটল।
তুরস্কের তদন্তে অংশ নিচ্ছে রাশিয়া
রাষ্ট্রদূত খুনের ঘটনায় ইস্তাম্বুলে উচ্চপর্যায়ের তদন্তকারী দল পাঠাচ্ছে রাশিয়া। এ দলের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত তুরস্কের তদন্ত টিমের সাথে একযোগে কাজ করবেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দফতর ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ দুই দেশের একযোগে তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মঙ্গলবার বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কাঠামোর মধ্যে থেকে তুরস্কের সাথে কাজ করবেন রাশিয়ার তদন্তকারীরা। রুশ তদন্তকারীদের সংখ্যা হবে ১৮।
হত্যাকারীর ছয় আত্মীয় আটক
আঙ্কারায় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কারলভকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদলুর খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার হামলাকারীর মা, বাবা, বোন এবং আরো দুই স্বজনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া আঙ্কারায় হামলাকারীর সাথে একই ফ্ল্যাটে বসবাস করা এক ব্যক্তিকেও আটক করেছে পুলিশ।

Add Comment

Click here to post a comment