অন্যরকম খবর

সিনেমা নয় সত্যি! ধনী হতে ১১ বিয়ে

বলিউডের ডলি কি ডুলি (ডলির পালকি) সিনেমা হয়তো অনেকে দেখেছেন। এ সিনেমায় সোনম কাপুর একাধিক ধনী পুরুষকে বিয়ে করে প্রত্যেককে ধোকা দিয়ে তাদের টাকাকড়ি, গহনা, মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে পালিয়ে যান।

অনিনেত্রী কাপুরের উদ্দেশ্য ধনীদের ধোকা দিয়ে তাদের ধনসম্পদ হাতিয়ে নিয়ে নিজে ধনী হওয়া। কাকতালীয় হলেও ডলি কি ডুবি সিনেমার চিত্রনাট্য বাস্তবে কেউ রচনা করেছেন, তা এবার জানা গেল।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির নয়দায় আটক হয়েছেন এক ফন্দিবাজ নারী। তিনি ১১ পুরুষকে বিয়ে করেছেন। প্রতিটি বিয়েই ছিল সাজানো নাটক। প্রতিবার বিয়ের পর স্বামীদের অর্থ-সম্পদ লুটে পালিয়ে যান। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। ধরা পড়েছেন ধোকাবাজ এই নারী- নাম মেঘা ভার্গব।

ধোকার শিকার মেঘা ভার্গবের এক স্বামী কোচির লরেন জাস্টিন অক্টোবর মাসে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, বিয়ের কয়েক দিন পর ১৫ লাখ রুপির অলংকার নিয়ে পালিয়েন যান তার স্ত্রী মেঘা। এরপর তদন্ত শুরু করে কেরালা পুলিশ। দুই মাস তদন্তের পর পুলিশ জানতে পারে মেঘা নয়ডায় অবস্থান করছে। পরে তারা নয়ডা পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে শনিবার মেঘাকে গ্রেপ্তার করে। একইসঙ্গে মেঘার বোন প্রাচী ও প্রাচীর স্বামী দেবেন্দ্র শর্মাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। আপাতত শেষ হয় মেঘার ধনী হওয়ার ফন্দিবাজি।

কেরালা পুলিশের তথ্যানুযায়ী, লরেন জাস্টিনসহ কেরালায় চারজনকে বিয়ে করে ঠকিয়েছেন মেঘা। জাস্টিনের আগে তিনজন তার প্রতারণার শিকার হলেও তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেননি।

নানা প্রলোভন দিয়ে পুরুষদের আকৃষ্ট করতেন মেঘা। বিশেষ করে তালাকপ্রাপ্ত ও পারিবারিক কোন্দলে জর্জরিত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতেন তিনি ও তার সহযোগীরা। বিভিন্ন শর্তে তাদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক তৈরি করে পরে সুযোগ বুঝে অলংকার ও অর্থ নিয়ে পালিয়ে যেতেন।

মেঘাকে সাহায্য করতেন মহেন্দ্র নামে এক ব্যক্তি। সুবিধামতো পুরুষের সন্ধান এনে দেওয়ায়ই ছিল তার কাজ। শনিবার অভিযানের সময় পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যান মহেন্দ্র।

মেঘাকে ধরতে পুলিশের ঘাম ঝরাতে হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে নয়ডায় এসে অবস্থান নেয় কেরালা পুলিশ। পরে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয় এবং আপাতত শেষ হয় মেঘার ফন্দি।

মেঘা প্রকৃতপক্ষে ইন্দোরের বাসিন্দা। তবে মেঘা তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার দাবি করেছেন, স্বামীদের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে নতুন জীবন শুরু করতে চেয়েছেন। কিন্তু পুলিশের হাতে যেসব প্রমাণ রয়েছে, তাতে মেঘার দাবি সত্য মনে হয় না। নয়ডা থেকে কেরালায় নেওয়া হচ্ছে তাকে। সেখানে তার নামে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

ভিডিও নিউজ : সবাইকে বোকা বানালেন প্রিয়াঙ্কা! (ভিডিও)

Add Comment

Click here to post a comment