জাতীয় পুঁজিবাজার

সাবসিডিয়ারি কোম্পানি করছে সাইফ পাওয়ারটেক

পুঁজিবাজার ডেস্ক : নির্মাণ ও প্রকৌশল ঠিকাদারির ব্যবসা পরিচালনার জন্য সাইফ পোর্ট হোল্ডিংস লিমিটেড নামের একটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, পরিশোধিত মূলধন বাবদ ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগের পর সাবসিডিয়ারি কোম্পানিটিতে তাদের শেয়ার হবে ৬৫ শতাংশ।

শেয়ারহোল্ডারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি জানিয়েছে, সিভিল, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল, কেমিক্যাল ও মেটারিওলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কাজের জন্য সাইফ পোর্ট হোল্ডিংস লিমিটেড করতে চায় তারা। এর পরিশোধিত মূলধন হবে ৫ কোটি টাকা।

সাইফ পাওয়ারটেক আরো জানিয়েছে, সাইফ পোর্ট হোল্ডিংস লিমিটেড ভবন, সড়ক, সেতু নির্মাণ, ডক ইয়ার্ড স্থাপন, স্থলবন্দর-নদীবন্দর ইত্যাদি স্থাপন, বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), ডেসা, ডেসকো, ওয়াসা ও ডিপিডিসির বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যবসা করবে। নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকৌশল ঠিকাদারির পাশাপাশি গ্রাহকদের পরামর্শসেবাও দেবে তারা।

সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) সাইফ পাওয়ারটেকের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬২ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৫৯ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮-এ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৫৮ পয়সা।

এদিকে ৩০ জুন ২০১৮ সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ৫ শতাংশ নগদ ও ৮ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে এ কোম্পানি। সমাপ্ত হিসাব বছরে ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ২৫ পয়সা এবং এনএভিপিএস ১৬ টাকা ৯৫ পয়সা। ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের আর্মি গলফ ক্লাবে এর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ছিল ১৫ নভেম্বর।

২০১৭ সালের সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ৫ শতাংশ নগদ ও ২৮ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। সমাপ্ত হিসাব বছরে এর ইপিএস হয় ৩ টাকা ২২ পয়সা এবং এনএভিপিএস ১৯ টাকা ১১ পয়সা।

ডিএসইতে গতকাল সাইফ পাওয়ারটেক শেয়ারের সর্বশেষ দর ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বা ৭০ পয়সা বেড়ে দাঁড়ায় ২১ টাকা ৭০ পয়সায়। দিনভর দর ২১ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ২২ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। সমাপনী দর ছিল ২১ টাকা ৫০ পয়সা, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ২১ টাকা। এদিন ৭০৭ বারে কোম্পানিটির মোট ১৩ লাখ ১০ হাজার ৭৬৫টি শেয়ারের লেনদেন হয়। এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন দর ছিল ২০ টাকা ৬০ পয়সা এবং সর্বোচ্চ দর ৩৫ টাকা।

২০১৪ সালে তালিকাভুক্ত সাইফ পাওয়ারটেক বন্দর, কারখানাসহ বিভিন্ন স্থাপনার ইঞ্জিনিয়ারিং সাপ্লাই, ইনস্টলেশন ও মেইনটেন্যান্স সাপোর্ট দিয়ে থাকে। ব্যাটারি তৈরির জন্য তাদের একটি সাবসিডিয়ারিও রয়েছে।

৫০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে বর্তমানে সাইফ পাওয়ারটেকের পরিশোধিত মূলধন ২৯৭ কোটি ৭১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভ  ৪৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ২৯ কোটি ৭৭ লাখ ১৬ হাজার ৯১। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালক ৪০ দশমিক শূন্য ৬, প্রতিষ্ঠান ১৬ দশমিক শূন্য ১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে রয়েছে ৪৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেয়ার।

ডিএসইতে সর্বশেষ ২১ টাকা ৫০ পয়সায় সাইফ পাওয়ারটেকের শেয়ার হাতবদল হয়। তালিকাভুক্তির পর শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ১০০ টাকা। সর্বশেষ নিরীক্ষিত ইপিএস ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারটির মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও ৯ দশমিক ৯৫। অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যা ৮ দশমিক ৬৭।

জুমবাংলানিউজ/পিএম