বিনোদন

সাফল্যের পেছনে সানির তীব্র সংগ্রামের কাহিনী!

মোস্ট সার্চড সেলেবের তালিকায় ২০১৬ সালে সবার উপরে রয়েছে তাঁর নাম। তবে সাফল্যের পেছনে রয়েছে তীব্র সংগ্রামের কাহিনী।
সাক্ষাৎকারে সেই গল্প শোনালেন সানি লিওন।

গুগল সার্চের খতিয়ান অনুসারে, ২০১৬ সারে তাঁর সম্পর্কেই সবচেয়ে বেশি কৌতুহলী হয়েছেন ইউজাররা। ছবি আর আইটেম নাম্বার মিলিয়ে বলিউডে পাকাপাকি আসন পাতার লক্ষ্যে সুপরিকল্পিত ভাবে এগিয়ে চলেছেন সানি ও তাঁর স্বামী ড্যানিয়েল ওয়েবার। সানি ব্র্যান্ড তৈরি করতে তাঁরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন আমির খানের সঙ্গে, আবার এসআরকে-র সঙ্গে পর্দায় উপস্থিত থাকার ব্যাপারেও সমান উত্‍সাহী হয়েছেন। ফলে জনপ্রিয়তার পারদ চড়ছে লাফিয়ে। তবে সাফল্য এত সহজে ধরা দেয়নি। টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে একান্ত সাক্ষাত্‍কারে নেপথ্যের নানান বঞ্চনা, উপেক্ষা ও আক্রমণের ছবি তুল ধরলেন গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী।

প্রথম সারির অভিনেতাদের সঙ্গে বড় ব্যানারের ছবিতে কাজ করা আপনার পক্ষে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
ইন্ডাস্ট্রির অন্য নায়িকাদের উচ্চতায় আমি নেই, সেটা জানি। সেই কারণে বড় প্রোজেক্টের অফার আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কখনও ভাবিনি শাহরুখ খানের সঙ্গে এক ফ্রেমে থাকার সুযোগ পাব। কিন্তু সেটা যখন পেয়েছি, তখন সপ্তম স্বর্গে থাকার অনুভূতি হচ্ছে। অনেকেই অপেক্ষা করছেন, কবে মুখ থুবড়ে পড়ব। আমি কোনও উচ্চতায় পৌঁছব, সেটা ওদের পছন্দ নয়।

কেন এমন মনে হচ্ছে?
মনে হওয়া নয়, মুখের ওপরেই অনেকে বলেছে এ কথা। ওরা বলেছিল, তুমি কোথাও পৌঁছতে পারবে না, কোনও অভিনেতা তোমার সঙ্গে কাজ করতে রাজি হবে না।

এ রকম মন্তব্যে আপনার কেমন প্রতিক্রিয়া হয়?
আমি হঠাত্‍ কোনও প্রতিক্রিয়া দিই না কারণ আমি যে বিরক্ত হচ্ছি, সেটা কাউকে বুঝতে দেব না। তবে কোনও বড় ছবিতে কাজের ডাক অথবা ভালো কোনো কাজের সুযোগ পেলে সব কিছুই খুব ভালো লাগে। যখন একটা বালো কাজের সুযোগ পাই, বা বিবিসি বিশ্বের সেরা ১০০ নারীর তালিকায় অ্যালিসিয়া কিসের মতো তারকার পাশে আমার নাম উল্লেখ করে, তখন সব পরিশ্রম সার্থক বলে মনে হয়। আমাকে মুখে বলতে হয়নি, আশা করি ওঁদের প্রশ্নের জবাব পেয়ে গিয়েছেন।

এই নিন্দুকরা কি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির?
অবশ্যই। এই ইন্ডাস্ট্রির লোকজনই এসব বলেছেন।

ভারতে নিজের জায়গা তৈরি করা কি খুব কঠিন বলে মনে হয়?
গত পাঁচ বছরে অনেক অদ্ভূত ঘটনা ঘটেছে। আমি মনে করি না যে এর মধ্যে বিশেষ কিছু করতে পেরেছি, তবে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে রয়েছি আর কাজও পাচ্ছি, এটাই তো দারুণ! সব সময় ভাবি, ‘আমি আর কী ভালো করতে পারি? এই ব্র্যান্ডকে কী ভাবে আরও উন্নত করব?’

টিভি চ্যানেলে সাক্ষাত্‍কারের জঘন্য অভিজ্ঞতার পরে আমির খান ফোন করে আপনাকে হিন্দি ছবির জগতের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেন। তিনি বলেন যে, আপনার সঙ্গে কাজ করতে ওঁর অসুবিধা নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টিকে বহু অভিনেতা-অভিনেত্রী সমর্থন জানান। কেমন লেগেছিল সেই অভিজ্ঞতা?
কখনো ভাবিনি আমির খান নিজে ফোন করে আমার পাশে দাঁড়াবেন। শুধু তাই নয়, এখনও তিনি যৌগাযৌগ রেখে চলেছেন। উনি আমায় প্রায়ই টেক্সট করেন, ‘হে সানি, হাউ আর ইউ?’ এগুলোই অভূতপূর্ব আচরণ। এত দিন ধরে আমাকে একঘরে করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু এই এক বছরে ছবিটা একেবারে পাল্টে গেছে।

আপনার কথায়, অনেকেই আপনাকে গ্রহণ করেননি। এই নিয়ে কখনো কোনো সমস্যায় পড়েছিলেন?
হ্যাঁ, এখনো সমস্যায় পড়ি। ওই সমস্ত লোক কখনো আমার সম্পর্কে ভালো কিছু বলেনি। তারপর যখন কেউ আমার সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করল, তখন তারা সিদ্ধান্ত নিল, ‘আরে, ও তো মানুষ! নাহ, এবার ওর সঙ্গে কথা বলা উচিত। ‘ এর পরে তাদের মনে হল, ‘হয়তো ও তেমন খারাপ মানুষ নয়। ‘

এর আগে আপনি বলেছিলেন, ইন্ডাস্ট্রিতে অনেককেই আপোস করতে হয়। তাহলে যে সমস্ত ছেলেমেয়েরা বলিউডে ভাগ্য গড়তে উত্‍সাহী, তাদের প্রতি কী পরামর্শ দেবেন?
আমি ওদের বলতে চাই, লেগে থাকো। নিজেদের পেশাদারিত্ব, জানার ইচ্ছা, কাজ করার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলো না। হয়তো সারা দিন বা গোটা রাত জেগে কাজ করতে হবে, কিন্তু নিজের লক্ষ্যে স্থির থাকতে হবে। এর জন্যই টিকে থাকা দরকার।

অনেক পরিশ্রম করেছেন, যুদ্ধ লড়েছেন এবং জীবনে বেশ কিছু সাফল্য পেয়েছেন। এর জন্য কার কাছে আপনি কৃতজ্ঞ?
সব কৃতিত্ব আমার স্বামীর। ওর জন্যই আজ আমি ‘সানি লিওন’ হতে পেরেছি। আমি মনে করি, আর কারও সঙ্গে এতটা পথ পাড়ি দিতে পারতাম না। দিনের শেষে এই একটা মানুষই আমার জন্য শ্রেষ্ঠ কিছু করতে সক্ষম। ও কোনও এজেন্ট নয় যে সবার আগে নিজের কমিশনের কথা চিন্তা করবে।

স্বামী ড্যানিয়েল কীভাবে আপনার সাফল্যকে দেখেন?
(হেসে) ও সব সময় আমার চেয়ে অনেক বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়ে। ওর চেয়ে ভালো লাইফ বা বিজনেস পার্টনার কখনও পেতাম না।

যখনই ভারতে ফেরেন, কী আশা নিয়ে আসেন?
শুধু দেশে ফিরব বলেই আসি। মনে আছে, ‘জিসম ২’ ছবির শুটিংয়ে এসে অনেক উঁচু থেকে শহরটাকে দেখেছিলাম। বাড়ির মালিক বলেছিলেন, ভারতে চৌম্বকশক্তি রয়েছে। ব্যাপারটা তখনই উপলব্ধি করলাম, যেখানেই যাই না কেন, কিছু একটা আমাকে এখানে টেনে আনে। ঠিক বুঝতে পারি না। তবে লস এঞ্জেলেসে ফিরে এক সপ্তাহ কাটলেই আমাদের মন হয়, কবে আবার ভারতে যাব? এটাই একমাত্র দেশে যেখানে নিজের স্বপ্ন সার্থক করা সম্ভব। আমেরিকায় কি তা করতে পারতাম? কখনই না!

আমেরিকা না ভারত, বাড়ি কোথায়?
সত্যি বলছি, কোনো ধারণা নেই। এটাই বোধ করি কঠিনতম প্রশ্ন। যখন এখানে থাকি, তখন লস এঞ্জেলেসে যে শান্তি উপভোগ করি, তার জন্য মন কেমন করে। আবার ওদেশে থাকলে ভারতের হইচই খুব মিস করি।

ভিডিও: দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ট্রেন!!! বিস্ময়ে শুধু তাকিয়ে থাকবেন (ভিডিও)

Add Comment

Click here to post a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.