অপরাধ/দুর্নীতি চট্টগ্রাম জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ

সাত মাসের ব্যবধানে এক মায়ের ২ শিশুই ধর্ষণের শিকার

সাত মাস আগে ধর্ষণের শিকার হয়েছিল চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার লিপি বেগমের (ছদ্মনাম) ৯ বছরের শিশুকন্যা। এবার ধর্ষণের শিকার হলো তার ৭ বছর বয়সের আরেক শিশুকন্যা। বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার দারশাতুলপাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সাবেক এক ইউপি মেম্বারকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছেন পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম এস ইকবাল এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) জানান, মেয়ের বাবা মা মেয়ে সবাই ঢাকায় আছেন। চিকিৎসার পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অ্যাকশনে যাবে পুলিশ। আটক প্রাক্তন মেম্বারকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

অল্প ক’দিন আগের ঘটনায় কান্না না থামতেই আবারও ঘটল একই ঘটনা। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে শিল্পী বেগম প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘হেরা কেমন পুরুষ? হেগো হাত থেকে সাত বছরের মেয়ে রক্ষা পায় না? এহন পুরুষ মানুষ দেখলেই আমার ঘেন্না আসে। হেরা এত লোভী, আমার নিষ্পাপ মেয়েদের জীবন ধ্বংস কইরা দিছে। এলাকায় মানুষ আমারে মন্দ কয়। যারা আমার ক্ষতি করলো হেগো বিচার কে করব?’

চাঁদপুর সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের ১৮নং বেডে বসে ধর্ষণের শিকার মিতুর মা বিলাপ করছেন আর এসব কথা বলছেন। তার পাশেই শুয়ে রয়েছে মেয়ে মিতু। কিছু জিজ্ঞাসা করলেই ভয়ে জড়সড় হয়ে পড়ে। লোকজন দেখলেই ভয়ে মুখ লুকায়।

শিশুটির বাবা মালেক হোসেন জানান, বুধবার স্কুলে থেকে বাড়ি আসার পর অন্য শিশুদের সঙ্গে পাশের বাড়িতে খেলতে যায় মিতু। ফিরতে দেরি দেখে বামা-মা মেয়েটিকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করতে থাকে। সন্ধ্যার আগে আগে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে বাড়ির কাছেই মুমূর্ষু হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। সেখান থেকে তাকে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক মাইনুল কুদ্দুস শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনালের হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। হতদরিদ্র মালেক হোসেন আর্থিক অনটনের কারণে তাকে চাঁদপুর নিতে পারেন না, বাড়িতে নিয়ে আসেন।

রাতে বিষয়টি পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারকে জানালে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কচুয়া থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। রাত সাড়ে ১১টায় কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এনে ভর্তি করান।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক তাবন্দা আক্তার বলেন, ‘শিশুটিকে অ্যানেসথেসিয়া করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তার যৌনাঙ্গ ফেটে গেছে। ভেতরেও ক্ষত হয়েছে, তাই রক্তক্ষরণ হচ্ছে।’

প্রায় ৮ মাস আগে এই শিশুরই বড় বোন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা একইভাবে ধর্ষণের শিকার হয়। ওই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ ধর্ষণকারী একই গ্রামের বাচ্চু ঢালীর ছেলে সুমন ঢালীকে আটক করে। বর্তমানে ধর্ষক সুমন জেলহাজতে রয়েছে। ওই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ওই চক্রটি ধর্ষিতা দুই বোনের পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে বলে দুই শিশুর বাবা-মা জানান।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার মেয়েটিকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে ধর্ষককের গ্রেফতারের বিষয়ে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘ভিকটিম আসামিকে চিহ্নিত করতে না পারলেও আমরা তার খোঁজ অবশ্যই পেয়ে যাব। ঘটনাটি জানার পরই আমাদের গোয়েন্দা দল কাজ শুরু করেছে। এছাড়া আমি নিজেও ওই গ্রামে ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং খোঁজখবর নিচ্ছি।’

শামসুন্নাহার আরও জানান, যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তিনি প্রাক্তন ইউপি মেম্বার। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন। মূল আসামিকে ধরতে প্রয়োজনে ওই গ্রামের সব পুরুষের ডিএনএ টেস্ট করানো হবে।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম এস ইকবাল এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘মেয়ের বাবা বাদী হয়ে কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলার এজহারভুক্ত আসামী হিসেবে স্থানীয় তাজুল ইসলাম নামে পঞ্চাষোর্ধ একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ বাংলা ট্রিবিউন

ভিডিওঃ ফুলকপিতে সাপ পাওয়া গেছে; ভিডিওতে দেখুন

Add Comment

Click here to post a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.