অপরাধ/দুর্নীতি আইন-আদালত জাতীয় স্লাইডার

সরকারি প্লট বরাদ্ধে দুর্নীতি : সাবেক যুগ্মসচিবসহ ৩ জনের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক : জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্মসচিব রফিকুল মোহামেদসহ তিন জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সরকারি প্লট বরাদ্ধে দুর্নীতি করার আদালত তাদের বিষয়ে এ রায় দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে রায়ে রফিকুলের ৫ বছর কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উচ্চমান সহকারী (অবসর) মোড়ল কফিল উদ্দিন এবং নিম্নমান সহকারী (কাম-মুদ্রাক্ষরিক) আব্দুল জলিল খন্দকারের (অবসর) ৩ বছর করে কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ শেখ নাজমুল আলম এ রায় দেন। দুদকের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন মীর আহমেদ আলী সালাম আর আসামিপক্ষে ছিলেন বাবলুর রহমান।

রায় ঘোষণার সময় জামিনে থাকা তিন আসামিই আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগে জানা যায়, আসামি আবুল হাসেম মোল্লা একটি মামলার রেফারেন্স দিয়ে এওয়ার্ড সার্টিফিকেট তৈরি করে এবং মিরপুরের পুনর্বাসনের একটি প্লট পেয়েছেন মর্মে একটি ভুয়া ও জাল বরাদ্দপত্র তৈরি করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ঢাকা বরাবর ১৯৯৫ সালের ৮ মার্চ একটি আবেদন করেন। আবুল হাসেম ওই আবেদন পত্রে দাবি করা জাল বরাদ্দপত্রে তার নাম ও পিতার নাম ভুল থাকায় সংশোধিত বরাদ্দ পত্র জারির আবেদন করেন।

ওই তারিখে আসামি কর্তৃক দাখিল করা আবেদন ও ১৯৯৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তারিখের আবেদনে প্লট নম্বর রোড নং এর সাথে জাল বরাদ্দ পত্রে উল্লেখিত প্লট নম্বরের সাথে কোনটিরই মিল নেই। মিল না থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ১৫ বছর পর উল্লেখিত বিষয়গুলো উপস্থাপন করে এবং পুরাতন নথিটির বিষয়ে কোন তথ্য উপস্থাপন না করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কোন কারণ উল্লেখ না করে নতুন ফাইল খুলে প্লটটি বরাদ্দপত্র জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হন।ওই অভিযোগে ২০০৩ সালের ৩০ জুন তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর সহকারী পরিদর্শক রইসউদ্দিন আহম্মেদ রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০০৯ সালের ১৫ মার্চ চার আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিদর্শক রেভা হালদার। মামলটির বিচারকাজ চলাকালে গত বছরের ১৭ অক্টোবর মারা যান। মামলর বিচারকাজ চলাকালে আদালত চার্জশিটভূক্ত ১০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

জুমবাংলানিউজ/পিএম