আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩০ সে.মি. বাড়বে, আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক : বিপজ্জনক আবহাওয়া পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে গোটা বিশ্ব। কারণ, দ্রুততম গতিতে বাড়ছে বৈশ্বিক উষ্ণতা। অচিরেই উন্নত বিশ্বকে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন থেকে থামানো না গেলে এ শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার বেড়ে যেতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এক রিপোর্টে এমন আভাসই দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হওয়া চারটি গবেষণা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে নতুন রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সমুদ্রের উষ্ণতা ক্রমাগত বাড়ছে। গবেষক জেকে হাউসফাদার বলেন, ‘পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠে উষ্ণতার মাত্রার রেকর্ড অনুযায়ী ২০১৮ সাল ছিল চতুর্থ উষ্ণতম বছর। আর সমুদ্রের উষ্ণতার রেকর্ড বিবেচনা করলে এটি নিশ্চিতভাবে উষ্ণতম বছর। ভূপৃষ্ঠ বেশি উষ্ণ হচ্ছে নাকি সমুদ্র বেশি উষ্ণ হচ্ছে তা বৈশ্বিক উষ্ণতা দিয়ে সহজে শনাক্ত করা যায়।’

নতুন প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সমুদ্রগুলো এত বেশি পরিমাণ উষ্ণতা শুষে নিতে পারে যে সেগুলো ঠাণ্ডা হতে কয়েক দশক লেগে যাবে। তাছাড়া উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন সহসা বন্ধ হওয়ারও কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রিন হাউস গ্যাসের কারণে বায়ুমণ্ডলে যতটুকু অতিরিক্ত এনার্জি আটকে থাকে তার দশ ভাগের ৯ ভাগেরও বেশি অংশ সমুদ্র শুষে নেয়। বিশ্বের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তা বড় ভূমিকা রাখে। গবেষকদের দাবি, সমুদ্র উষ্ণ হওয়ার কারণে সেখানকার পানির থার্মাল এক্সপানশন হবে। এতে পানির আকার আয়তন বেড়ে যাবে, এর জন্য বেশি জায়গার প্রয়োজন হবে। এ কারণে এ শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩০ সেন্টিমিটার বেড়ে যেতে পারে।

সম্প্রতি প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস সাময়িকীতে সমুদ্রের উষ্ণতাবিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে গবেষকরা দাবি করেন, মানুষ কর্তৃক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত করার মধ্য দিয়ে যতটুকু যে পরিমাণ উষ্ণতা তৈরি হয় তার ৯০ শতাংশেরও বেশি সমুদ্রগুলো শুষে নেয়। আর বাকি সামান্য উষ্ণতা বাতাস,ভূমি ও মেরু অঞ্চলের বরফ খণ্ডকে উষ্ণ করে। যে বিপুল পরিমাণ এনার্জি সমুদ্রে যুক্ত হচ্ছে তা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে আরও শক্তিশালী রূপে হাজির হচ্ছে হারিকেন ও টাইফুন।

গবেষণায় সমুদ্রের সঞ্চালন সংক্রান্ত কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে ১৮৭১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সমুদ্রের পৃষ্ঠভাগের তাপমাত্রার পরিমাপগুলোকে সমন্বিত করা হয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণের পর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান দাবি করে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিজনিত কারণে গত দেড়শ’ বছরে সমুদ্র উত্তপ্ত হওয়ার বাৎসরিক হার সেকেন্ডে একটি আণবিক বোমা বিস্ফোরণের সমতুল্য।

জুমবাংলানিউজ/এইচএমজেড