ক্রিকেট (Cricket) খেলাধুলা জাতীয় মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার

সতেরো কোটির বিশ্বকাপ

খালেদ মুহিউদ্দীন, ডয়চে ভেলে: এরকম বিশ্বকাপ কি এর আগে এসেছে কখনো? বড়দের হারানো, ছোটদের কাছে না হারা, মাশরাফির হাতে সোনার কাপ এর বাইরে কিছু কি আসছে আমাদের ভাবনায়? কখনো মস্তিষ্ক, কখনো হৃদয় দিয়ে ভাবছি আমরা, তবে মিলছি একই উপসংহারে৷

গনগনে ঢাকা বুকে-মুখে-স্মৃতিতে নিয়ে কনকনে বনে কথা হয় গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামে যোগ দিতে আসা দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে৷ দেশের কী বেশি মিস করছি অগুণতিবার ছুঁড়ে দেওয়া এই নিরীহ মিডিয়াম পেস প্রশ্নের অন্যতম কপিবুক উত্তর আমার, ‘‘ক্রিকেট বিশ্বকাপ৷’’ জার্মান বন্ধু জানতে চান, এবারের বিশ্বকাপ তোমাদের দেশে হচ্ছে?

কিছুদিন আগে পর্যন্ত যাঁরা ক্রিকেটকে এশিয়ান বেসবল বলতো, যাঁদের গণমাধ্যমে ক্রিকেট ছিল প্রায় অস্পৃশ্য, তাঁদের কী করে বোঝাই, ১৯৯৯ সালের পর থেকে সবগুলো বিশ্বকাপই আমাদের দেশে হয়! আর আমরা ১৭ কোটির সবাই খেলি সেই টুর্নামেন্ট৷

২৮ মে বিশ্বকাপের শেষ প্রস্তুতিম্যাচ চলছে… ভারতীয় বন্ধু একগাল হাসিতে বলেন, ‘‘টাইগারদের বিরুদ্ধে সাড়ে তিনশ’ ছাড়িয়ে গেছে কোহলিদের রান৷” ‘‘২ জুলাই মঙ্গলবার বার্মিংহামে দেখা হবে,’’ মনে রাখতে বলি আমি৷ মরিচ-লবণ চুল-দাড়ির শিশুমুখের আফগান বলেন, ‘‘২৪ জুন সাউদাম্পটনের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখো, রশিদ খান তোমাদের কথা আলাদাভাবে ভেবে রেখেছে৷’’ আমি শুধু ভাবি, ‘‘নয় যোগ দুই এগারোটা ম্যাচ, নয় না এগারো–

এগারোই৷ তারপর বলব কথা যা থাকে কপালে৷’’

ভিড় একটু কমলে ভাবি, ‘‘প্রত্যাশার পারদ উপরে উঠতে উঠতে জ্বলন্ত লাভা হয়ে চেপে বসবে না তো খেলোয়াড়দের বুকে! মায়াই লাগে মাঝে মাঝে৷ এই ১৫ জনের কাঁধে চেপে বসেছি আমরা সতেরো কোটি৷ ওরা একেকজন আমাদের জাদুই গালিচা, যাতে চড়ে আমরা হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেই আকাশ৷’’

আমার প্রার্থনা– ১৪ জুলাই পর্যন্ত আমাদের ছেলেরা ফেসবুক, টুইটার, সামাজিক বা অসামাজিক, কোনো গণমাধ্যমই না দেখুক৷ ভালো বা খারাপ কোনো সময়েই না৷ আমরা যেমন প্রশংসার বন্যায় ভাসাতে পারি, তেমনি নিদ্রার পুঁজ-রক্ত-বমি-মলমূত্রে ডুবিয়েও রাখতে পারি গলা পর্যন্ত৷ আমরা সকলেই যে ক্রিকেটটা এই ১৫ জনের চেয়ে ভালো বুঝি এতে টাইগারদের কোনো সন্দেহই করা উচিত না৷ নিতান্তই আমরা খেলছি না বলে আপনারা খেলছেন৷ কিন্তু মনে রাখবেন, আমরা যে কেউ আপনাদের ক্রিকেট শেখাতে পারি, তাই আমাদের থেকে দূরে থাকুন, টুর্নামেন্ট চলতে চলতে তো আর নতুন কিছু শিখতে পারবেন না, শেষ হলে না হয় আবার শিখবেন৷

দুনিয়ার বিধি অনুযায়ী প্রত্যাশা আর প্রাপ্তি হাত ধরাধরি করে চলে না! অন্য দলের খারাপ দিন আমাদের ভালো দিন পছন্দের এই কম্বিনেশন কখনো উল্টে যেতে পারে, বাজেভাবে হারতে পারি আমরা৷ কিন্তু আমরা যেন এ কথা ভুলে না যাই, মাঠে যারা থাকে জিতে গেলে তারা আমাদের মতোই খুশি হয় আর হেরে গেলে আমাদের চেয়ে খানিক বেশিই কষ্ট পায়৷

আমরা যারা মাঠের বাইরে খেলছি, তাদের জন্য জুন ও জুলাই মাসের অর্ধেক সহজ হোক, এই মুহূর্তে আর কিছু চাইবার নেই। সূত্র: ডয়চে ভেলে

জুমবাংলানিউজ/একেএ