জাতীয় মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার রাজনীতি স্লাইডার

সংলাপের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও কি হারাতে যাচ্ছে বিএনপি?

dialogue
ছবি : সংগৃহীত

জুবায়ের জুয়েল : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে এতদিন সংলাপের আহ্বানে সাড়া না দেয়ার অভিযোগ ছিল বিএনপির। দাম্ভিকতা, সৎ সাহসের অভাব, আন্তরিকতার ঘাটতি -ইত্যাদি নানা বিরূপ মন্তব্যের তির ছুঁড়েছে তার সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে। কিন্তু এবার যখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপের আহ্বানে সাড়া মিলেছে, তখন নতুন এই জোটের প্রধান শরিক বিএনপিকে দেখা যাচ্ছে ধোঁয়াশায় ঘুরপাক খেতে। তাই রাজনীতি সচেতন মহলে মনে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি সংলাপের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করবে বিএনপি?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যখন জনগণের দুয়ারে কড়া নাড়ছে; যখন নির্বাচনী প্রস্তুতির ব্যস্ততায় মজেছে রাজনৈতিক দলগুলো; ঠিক তখনই সবাইকে চমকে দিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের দেয়া চিঠির প্রেক্ষিতে সংলাপে বসতে সম্মত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে গণভবনে সরকারের প্রতিনিধিরা ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসবেন বলেও ধার্য করা হয়েছে। আর এই জোটের সবচেয়ে বড় শরিক দলই হচ্ছে বিএনপি।

ঐক্যফ্রন্টের বড় শরিক হিসেবে হিসেবে ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে আলোচনার দারুণ রাস্তা তৈরি হয়েছে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সামনে। তবে সরকার শুধু ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গেই সংলাপে বসবে না। আগামী ২ নভেম্বর বিকল্পধারার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট্রের সঙ্গেও সংলাপ করবেন সরকারের প্রতিনিধিরা। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও সংলাপ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। সুতরাং সংলাপে বসার ব্যাপারে বিএনপির গা-ছাড়া মনোভাব নিজের পায়ে কুড়াল মারারই শামিল হতে পারে।

২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নিয়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি হারানোর মতো ‘রাজনৈতিক ভুল’ থেকে বিএনপির শিক্ষা নেয়া উচিত বলে দেশের গণতন্ত্রপ্রেমী সচেতন নাগরিকরা মনে করলেও সরকারের সংলাপের আমন্ত্রণকে দ্বিমুখী আচরণ হিসেবে দেখছে বিএনপি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ার প্রতিবাদে বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল বলেছেন, খালেদা জিয়াকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক করে রেখেছে। জামিন পেলেও তাকে মুক্তি দেয়া হয়নি। সেই মামলার সাজা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এমতাবস্থায় তাকে কারাগারে রেখে সংলাপ ফলপ্রসূ হবে না।

মানববন্ধনে ২০১৪ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে এনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, যখন বেগম খালেদা জিয়া ও ২০-দলীয় জোট বয়কট করেছিল, তার জন্য সেই নির্বাচন হয় নাই। বেগম জিয়া ও ২০ দলের অংশগ্রহণ ছাড়া আগামী নির্বাচনও অংশগ্রহণমূলক হবে না, এদেশের মানুষ হতে দেবে না। বেগম জিয়ার মুক্তি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যে সাত দফা দাবি তা মেনে না নিলে দেশে যে অরাজকতা, অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হবে তার জন্য সরকারকেই দায়-দায়িত্ব নিতে হবে।

এদিকে সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ম্যারি অ্যানিক বৌর্ডিন ও জার্মানির রাষ্ট্রদূত পিটার ফারহান হোল্টজের সঙ্গে বৈঠকের পর ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ঐক্যফ্রন্ট ও যুক্তফ্রন্ট ছাড়াও অন্যান্য দলের সঙ্গে সংলাপ করবে আওয়ামী লীগ। ঐক্যফ্রন্টে যেহেতু বিএনপি আছে, তাই সময় স্বল্পতার কারণে তাদের সঙ্গে আলাদা করে সংলাপের সময় পাওয়া যাবে না।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুটি মামলার রায় ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে সংলাপে এ ব্যাপারে আলোচনা কী হতে পারে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিষয়টি আদালতের। এটির সঙ্গে সংলাপকে সম্পৃক্ত করা বোধহয় ঠিক হবে না। তবে আলোচনার সুযোগ আছে।

অবস্থাদৃষ্টে বোঝাই যাচ্ছে, ঐক্যফ্রন্টের হয়ে সংলাপের সুযোগকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলে আবারও পস্তাতে হবে বিএনপিকে। ‘নেত্রীর মুক্তি আগে, না দলের অস্তিত্ব রক্ষা আগে’ প্রশ্নকে ‘ডিম আগে, না মুরগি আগে’ -গোলকধাঁধার মতো বানিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হলে চলবে না কিছুতেই। দেশের আপামর মানুষ প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার ভূয়সী প্রশংসা করছে, বিএনপিকেও আন্তরিকতা নিয়েই সংলাপে বসতে হবে। না হলে ‘ঢাল নেই, তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দার’ প্রবাদই প্রযোজ্য হবে মির্জা ফখরুলদের জন্য।

জুমবাংলানিউজ/এইচএমজেড