গাজীপুর ঢাকা বিভাগীয় সংবাদ

শুক্রবার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তাবলিগের জুবায়েরপন্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর : আগামী শুক্রবার টঙ্গীর সকল মসজিদ ও এলাকা থেকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তাবলিগ জামাতের মাওলানা জুবায়েরপন্থী আলেম-ওলামারা। বুধবার গাজীপুরের টঙ্গীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

সেই সঙ্গে আগামী বিশ্ব ইজতেমা পূর্বঘোষিত প্রথম ধাপ চলতি বছরের ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি এবং ২য় ধাপ ২৫, ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছেন দেওবন্দ কওমি মাদরাসাপন্থী টঙ্গী তাবলিগ জামাতের এই মুরুব্বিরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মাওলানা জুবায়ের আহমদ অনুসারী মুফতি মুহাম্মদ আবু বকর কাসেমী। এ সময় মাওলানা মুফতি মাসউদুল করীম, মাওলানা জাকির হোসাইন, মাওলানা ইউনুস শাহেদী, মাওলানা সিরাজুল ইসলামসহ সংঘর্ষের দিন জুবায়েরপন্থী আহত বেশ কয়েকজন মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাওলানা মুফতি মাসউদুল করীম জানান, শুরা সদস্যদের উপেক্ষা করে মাওলানা সা’দ নিজেকে মুসলিম বিশ্বের আমির দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন- ‘তাকে আমির না মানলে জাহান্নামে যাও।’ মুসলিম বিশ্ব তাকে কি আমির বানিয়েছে। নিজামুদ্দিন দিল্লি মারকাজে রক্তারক্তি হয়েছে। মাওলানা সা’দ সেখানে তার পন্থী কিছু লোক নিয়ে নিজের অবস্থান মজবুত করেছেন। অথচ তার ডানে-বামে যারা ছিলেন; এমনকি তার শিক্ষকের শিক্ষকদেরকেও তিনি উপেক্ষা করেছেন।

মুফতি মাসউদুল করীম জানান, তৃতীয় হযরতজী শুরার জন্য ১০ জনের তালিকা প্রস্তুত করে যান। বর্তমানে দুইজন শয্যাশায়ী। শুরা সদস্যেদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ দেওবন্দ কওমি মাদরাসাপন্থী।

সংবাদ সম্মেলনে তাবলিগ জামাতের এই নেতৃবৃন্দ ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হচ্ছে- ১ ডিসেম্বর (শনিবার) ইজতেমা ময়দানে হামলার নির্দেশদাতা ওয়াসিফুল ইসলাম, সাহাবুদ্দিন নাসিমসহ টঙ্গী ও উত্তরা থেকে নেতৃত্বদানকারী হামলার সঙ্গে জড়িত সকলকে অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। হতাহতদের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। টঙ্গী ইজতেমা ময়দান এতদিন যেভাবে শুরাভিক্তিক তাবলিগের সাথী ও ওলামায়ে কেরামের অধীনে ছিল তাদের হাতেই হস্তান্তর করতে হবে। অতিসত্বর কাকরাইলের সকল কার্যক্রম থেকে ওয়াসিফ ও নাসিমগংদেরকে বহিষ্কার করতে হবে। সারাদেশে ওলামায়ে কেরাম ও শুরাভিত্তিক পরিচালিত তাবলিগের সার্থীদের ওপর হামলা-মামলা বন্ধ করে পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে ও টঙ্গীর আগামী বিশ্ব ইজতেমা পূর্ব ঘোষিত প্রথম ধাপ চলতি বছরের ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারী এবং ২য় ধাপ ২৫, ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, তিন হযরত তথা হযরতজী ইলিয়াস রহ. (১৯২৪-১৯৪৫), হযরতজী ইউসুফ রহ. (১৯৪৫-১৯৬৫) এবং হযরতজী এনামুল হাসান রহ. (১৯৬৫-১৯৯৫) পর্যন্ত তাবলিগ কাজে কোনো মতবিরোধ ছিল না। তাঁদের ইন্তেকালের পর একক কোনো আমির আসবে না; বরং শুরা ও তাৎক্ষণিক ফয়সালার মাধ্যমে সকল কাজ সম্পাদিত হবে। এই লক্ষে তৃতীয় হযরতজী শুরার জন্য ১০ জনের তালিকা প্রস্তুত করে যান। সে মতে ১৯৯৫ থেকে প্রায় ২০ বছর শুরার ভিত্তিতে এ কাজ পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে হঠাৎ করে মাওলানা সা’দ নিজেকে আমির বলে দাবি করেন। অথচ কোনো পরামর্শ সভাতে তাকে আমির নিযুক্ত করা হয়নি।

মাওলানা সা’দ বিভিন্ন সময় কোরআন-সুন্নাহবিরোধী এমন কিছু বক্তব্য দিয়েছেন যার উপর উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ ইসলামী বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দসহ সারা বিশ্বের হকপন্থী আলেম সমাজ আপত্তি জানিয়ে আসছেন। তবে মাওলানা সা’দ নিজ অবস্থানে ঠিক থেকে সকল ওলামায়ে কেরামের মতামতকে উপেক্ষা করেছেন। এমতাবস্থায় সারা বিশ্বের সকল হকপন্থী ওলামায়ে কেরাম সিদ্ধান্ত নেন মাওলানা সা’দ তার শরীয়তবিরোধী বক্তব্য প্রত্যাহার ও দারুল উলুম দেওবন্দের আস্থা অর্জন না করা পর্যন্ত বাংলাদেশে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজের ক্ষেত্রে তার কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না।