কৃষি জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ রংপুর

শিমের জেলা লালমনিরহাট

বদলুল আলম জাদু, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার গ্রামে গ্রামে গড়ে উঠেছে কৃষি প্রকল্প। উপজেলার বৈরাতি গ্রামে এক প্রকল্পে হাফিজুল ইসলাম এক একর জমিতে গড়ে তুলেছেন শিম, লাউ, বেগুন, কপি ও কাঁচকলার বাগান।

শিমের জেলা লালমনিরহাট

কৃষক হাফিজুল জুমবাংলাকে জানান, তিনি সপ্তাহে দুই হাটে গড়ে ৮ হাজার টাকার শিম, বেগুন, পাতাকপি ও লাউ বিক্রি করেন। আর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসের পরে বিক্রি শুরু হবে কাঁচকলার।

অন্যদিকে জেলার কুমরিরহাট ও দুরাকুটি এলাকা ভরে গেছে শিমে-শিমে। শিমফুল আর শিমফুলে ছেঁয়ে গেছে এলাকা। সেই সবুজের দিকে তাকালে লতার সমারোহের ফাঁকে ফাঁকে ছোট্ট নীল-সাদা অজস্র ফুল ফুটে আছে। এতে ফলেছে শিম। জেলার বৃহত্তম শিমের হাট দুরাকুটির হাট ও কুমড়ির হাট থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৫-৩০ ট্রাক শিম ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যাচ্ছে।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য মতে, এ জেলায় বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে শিম আবাদ শুরু হয় ১৯৯৭ সালে। চলতি মৌসুমে জেলার সদরে ২১০ হেক্টর জমিতে ৩২১ মেট্রিক টন, আদিতমারি উপজেলায় ১৪৭৬০ হেক্টর জমিতে ১৩৬৩৪ মেট্রিক টন, কালিগঞ্জ উপজেলায় ১৩০ হেক্টর জমিতে ৫০০ মেট্রিক টন, হাতীবান্ধা উপজেলায় ৮৩০ হেক্টর জমিতে ৯৭০০ মেট্রিক টন ও পাটগ্রাম উপজেলায় ১০৫০ হেক্টর জমিতে ১০৯০০ মেট্রিক টন শিম আবাদ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ফলনও হয়েছে বাম্পার। ভালো দামও পেয়েছে কৃষকরা।

কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, শিম চাষে ঝামেলা তুলনামূলক কম এবং অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভজনক। তাছাড়া বেশ কিছু দিন সময় নিয়ে ধীরে ধীরে গাছ থেকে শিম সংগ্রহ করে বিক্রি করা যায়।

জেলার ২৩টি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কম-বেশি শিম চাষ হচ্ছে। বাড়ির আঙিনা এবং এলাকার বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে শিমের মাচান রয়েছে। বুড়িমারি থেকে রংপুরগামী মহাসড়কের দুই পাশে এবং দৈখাওয়াহাট থেকে দুরাকুটি সড়কের দুই পাশে মাঠের পর মাঠ শুধু শিম ক্ষেত।

শিম চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিম চাষ হয় দুইভাবে। নিজের জমিতে আবাদ করা ছাড়াও কৃষকেরা অন্যের জমি বর্গা নিয়ে আবাদ করেন। একেবারেই যারা ভূমিহীন তারাও জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেন। বর্গা চাষীরা আবাদ করে এক তৃতীয়াংশ ফসল দেন জমির মালিককে। এতে জমির মালিকও অন্য ফসলের তুলনায় লাভ বেশি পান। যারা জমি লিজ নিয়ে আবাদ করেন তারা প্রতি বিঘা জমির জন্য মালিককে দেন ছয় থেকে আট হাজার টাকা।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার তেলীপাড়া গ্রামের সবজি চাষী ছব্বুল মিয়া জানান, উচ্চ ফলনশীল শিম বীজ চার বছর আগে জমিতে আবাদ করেন। তিনি ওই বছর শিম বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন। তাকে দেখে প্রতিবেশী কৃষকরা শিম চাষে অনুপ্রাণিত হন। তাছাড়া বাজারে ক্রমশই শিমের চাহিদা বাড়তে থাকায় পরপর কয়েক বছর এলাকার কৃষকেরা শিমের চাষ করেন। এভাবেই এলাকায় শিম চাষ সম্প্রসারিত হয়।

দুরাকুটি গ্রামের কৃষক হাসান আলী বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে শিম চাষে খরচ হয় ১৫ হাজার টাকা। উৎপাদন হয় প্রায় ১১-২০ মণ শিম। যার বাজার মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা। চলতি বছর শিমের ফলন ভালো হয়েছে, বাজারও ভালো।

লালমনিরহাটের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বিধু ভূষন রায় বলেন, চুনযুক্ত দো-আঁশ মাটিতে শিমের ফলন ভালো হয়। তাই এ এলাকার মাটি শিম চাষের জন্য উপযোগী। ফলে শিম চাষে সাফল্য এসেছে। যা দেশের শিম বিপননের সবচেয়ে বড় হাট কুমড়িরহাট ও দুরাকুটিহাট। সারা দেশ থেকে পাইকারী ক্রেতারা এই হাটে আসেন। প্রতিদিন ভোরবেলা থেকে হাট বসে। বিক্রি চলে রাত পর্যন্ত। ট্রাক যোগে চলে যায় দেশের নানা প্রান্তে।

জুমবাংলানিউজ/একেএ