জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ

শাহিনের ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৩ জন গ্রেফতার

[better-ads type='banner' banner='1187323' ]

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সেই কিশোর ভ্যানচালক শাহীনের মাথা ফাটিয়ে ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছিনতাইচক্রের প্রধান আসামি নাইমুলসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (০১ জুলাই) তাদের গ্রেফতার করা হয়।

সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানান।

গ্রেফতাররা হলেন- যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের বাবর আলীর ছেলে ছিনতাইচক্রের প্রধান নাইমুল, সাতক্ষীরার ঝাউডাঙ্গা বাজারের বারেক আলী ও কলারোয়ার মির্জাপুর মোড়ের আরশাদ পাড় ওরফে নুনু মিস্ত্রি।

প্রধান আসামি নাইমুলের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২৭ জুন নাইমুলসহ অজ্ঞাত তিনজন কিশোর ভ্যানচালক শাহীনকে ফোন করে বলে, ‘কাল কলারোয়ায় একটি ভাড়া আছে। তুই সকালে কেশবপুর বাজারে চলে আসিস।’ এসময় তারা ৩৫০ টাকা ভাড়া চুক্তি করে। পরদিন সকালে শাহীন ভ্যান নিয়ে কেশবপুর বাজারে গিয়ে দেখে নাইমুলসহ তিনজন দাঁড়িয়ে আছে। সেখান থেকে তারা ভ্যানে উঠে কেশবপুর হাসপাতালের সামনে দিয়ে সরসকাটি চৌগাছা হয়ে ধানদিয়া জামতলা মোড়ের পাশে ফাঁকা জায়গায় পৌঁছে শাহীনকে ভ্যান থামাতে বলে। তারা শাহীনকে বলে ভ্যান দিয়ে বাড়ি চলে যা, বাড়ি গিয়ে এ সম্পর্কে কিছু বললে তোকে মেরে ফেলবো। ভ্যান দিতে রাজি না হওয়ায় তারা ভ্যানের সিটের লোহার সঙ্গে শাহীনের মাথায় আঘাত করে। এতে শাহীন অচেতন হয়ে পড়লে তাকে পাটক্ষেতে ফেলে রেখে ওই তিনজন ভ্যান নিয়ে চলে যায়। পরে আসামিরা ঝাউডাঙ্গা বাজারে গিয়ে বারেক আলীর কাছে ভ্যানের চারটি ব্যাটারি ও কলারোয়ার রায়ার মির্জাপুর মোড়ের আরশাদ পাড় ওরফে নুনু মিস্ত্রির কাছে ভ্যানটি বিক্রি করে টাকা সমান ভাগে ভাগ করে নেয়।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইলতুৎ মিশ উপস্থিত ছিলেন।

এরআগে, গত শুক্রবার (২৮ জুন) দুপুরে যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের হায়দার আলী মোড়লের ছেলে কর্মজীবী কিশোর শাহীনের ভ্যান যাত্রীবেশে ভাড়া নেয় ভদ্রবেশী দুর্বৃত্তরা। এরপর সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার ধানদিয়ায় নিয়ে রাস্তার দু’পাশের পাট ক্ষেতের নির্জন স্থানে শাহীনের মাথায় আঘাত করে তার শেষ সম্বল ভ্যান গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

মাথায় আঘাতের ফলে ওখানেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকে শাহীন। একপর্যায়ে জ্ঞান ফিরলে তার কান্নার শব্দে স্থানীয়রা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় খবর দেয়। পুলিশ শাহীনকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে অবস্থার অবনতি হলে পরদিন শনিবার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তার চিকিৎসা শুরু হয়। সোমবার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শাহীনকে ডাকলে চোখ খুলছে, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।