জাতীয় রাজনীতি

শপথ নিতে সুলতান মনসুরের সামনে যে ৫ বাধা

[better-ads type='banner' banner='1187323' ]

নিজস্ব প্রতিবেদক :  গণফোরাম থেকে ধানের শীষ প্রতীকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে  নির্বাচিত হন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। তাঁর দল এবং জোটের সিদ্ধান্ত সংসদ সদস্য হিসাবে শপথ না নেওয়ার। কিন্তু তিনি শপথ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

প্রশ্ন উঠেছে—দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সংসদে গেলে তার সদস্য পদ থাকবে কি না।

একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুলতান মনসুরের শপথ নেওয়ার ক্ষেত্রে ৫টি বাধা রয়েছে।

প্রথমটি হচ্ছে, সুলতান মনসুর ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছেন।  গণফোরামের সদস্য হিসেবেই ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন।

দ্বিতীয়ত, ড. কামাল হোসেন ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক সভাপতি ছিলেন না।  সুতরাং তাকে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে কোনো মনেনায়নপত্রে সই দেওয়ার জন্য ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।

তৃতীয়ত, সুলতান মনসুর গণফোরামের সদস্য।  এখন তিনি জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কথা বললেও তা হালে পানি পাবে না। আদালতে এটা সহজে প্রমাণ করা যাবে, তিনি গণফোরামের সদস্য ছিলেন।  তার ব্যালট পেপারই তার সাক্ষ্য দেবে।  কারণ সেখানে ঐক্যফ্রন্ট নয়, গণফোরাম আছে।

চতুর্থত, তিনি নির্বাচন করেছেন ধানের শীষ প্রতীকে।  যা আরও বড় বাধা তার জন্য।  এছাড়া তার মনোনয়নপত্রে সই করেছেন মির্জা ফখরুল।

পঞ্চমত, আইন মহাসচিবকে সুযোগ দিয়েছে যে, সুলতান মনসুর দলত্যাগ করে শপথ নিতে যাচ্ছেন এই মর্মে ইসিকে চিঠি দিতে পারবেন।  এই চিঠি দেওয়া হলে আইন অনুযায়ী সুলতান মনসুর আর শপথ নিতে পারবেন না।

এই প্রসঙ্গে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনও ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনও নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।

তবে, বিষয়টি নিয়ে কোনো বির্তক হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।  এ বিষয়ে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হইবে কি না, সে সম্পর্কে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের নিকট প্রেরিত হইবে এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।’

এছাড়া, সংসদ সদস্য হওয়ার বা সদস্য পদ হারানো সম্পর্কিত অযোগ্যতার বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ (১) ধারায় বলা আছে, যদি সংশ্লিষ্ট কেউ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনীত না হন বা একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী না হন।

উল্লেখ্য, একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মোট ৮ জন প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।  এর মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক বিএনপি থেকে ৬ জন ও গণফোরাম থেকে ২ জন নির্বাচিত হন।

জুমবাংলানিউজ/এইচএম