আন্তর্জাতিক

শতাধিক সেনা ও ক্যাডেটকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিলো তুরস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : শতাধিক সেনা ও সাবেক ক্যাডেটকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে তুরস্ক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসিত সুন্নি মুসলিম আলেম ফেতুল্লাহ গুলেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগে এ নির্দেশ আসার পর জোরেসোরে অভিযানও চলছে।

শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।

ইস্তানবুলের প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, সেখানে ৫০ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জন সামরিক কর্মকর্তা আর বাকিরা সামরিক একাডেমির শিক্ষার্থী, যাদেরকে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার পর বহিষ্কার করা হয়েছিল।

দক্ষিণাঞ্চলীয় আদানা প্রদেশে আরও ৫২ সেনাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রসিকিউটররা। এর মধ্যে ৪২ জন এখন সেনাবাহিনীতে কর্মরত। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু জানিয়েছে, ২০টি প্রদেশে অভিযান চালানো হচ্ছে। কর্নেল, মেজর, লেফটেন্যান্টসহ অন্য কর্মকর্তাদেরও গ্রেফতার করা হচ্ছে। গুলেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কারা ফোনে কথা বলেছেন তার উপর ভিত্তি করে এ গ্রেফতার অভিযান চালানো হচ্ছে।

২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের বিরুদ্ধে ‘ব্যর্থ অভ্যুত্থান’ প্রচেষ্টার জন্য ফেতুল্লাহ গুলেনকে দায়ী করে থাকে তুরস্ক। ওই বছরের ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় তুর্কি সেনাবাহিনীর একাংশ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দেশের শাসনভার নেওয়ার দাবি করেছিল। মধ্যরাতে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দিয়ে তুরস্কের ডানপন্থী সরকার উচ্ছেদের দাবি করেছিল তারা। শেষ পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর সব অংশের সমর্থন না থাকায় এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তৎপরতায় জনগণ রাস্তায় নেমে এলে বিদ্রোহী সেনাদের উদ্যোগ ভেস্তে যায়।

ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার পর শুরু হয় ব্যাপক ধরপাকড়। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ৭৭ হাজারেরও বেশি মানুষকে বিনা বিচারে জেলে রাখা হয়েছে। সেনা সদস্যসহ দেড় লাখেরও বেশি মানুষকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন ফেতুল্লাহ গুলেন। নির্বাসনে থেকেই তিনি ‘হিজমেত’ নামক একটি আন্দোলন পরিচালনা করেন। ২০১৩ সালে দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন চলাকালে এরদোয়ানের জাস্টিস অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার পার্টির নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনে গুলেনপন্থীরা।

জুমবাংলানিউজ/এইচএমজেড