অপরাধ-দুর্নীতি অর্থনীতি-ব্যবসা জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

লোভ দেখিয়ে ২শ কোটি টাকা হাতিয়ে নিলো যে প্রতিষ্ঠান

বিজনেস ডেস্ক : সোনাইমুড়ী হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করে পড়াশোনার জন্য ঢাকায় আসেন লক্ষ্মীপুরের কৃষক পরিবারের সন্তান আব্দুস সালাম পলাশ। এর পর ক্যামব্রিয়ান কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ধানমন্ডির চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজে সিএ ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি ২০১০ সাল থেকে যুক্ত হন আউটসোর্সিং কাজে। পড়াশোনা শেষ না করেই ২০১৬ সালে প্রশিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন আইটি ভিশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানে। সেখানে মাত্র নয় মাস কাজ করেই কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রেক্স আইটি নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলেন। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন পলাশ। শনিবার রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতারের পর গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অর্গানাইজ ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম জানান, রেক্স আইটি ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আউট সোসিং, গ্রাফিকস ডিজাইন, এসইও, ওয়েব ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন পলাশ। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানের ‘বিং পেইড’ মার্কেটিংয়ের প্রচারণা শুরু হয়। এ প্রতিষ্ঠানে পেইড মার্কেটিংয়ে বিনিয়োগ করলে অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ৫০-১০০ শতাংশ বেশি রিটার্নের অবিশ্বাস্য অফার দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এমন অবিশ্বাস্য অফারে প্রথমে কেউ আগ্রহী না হলেও স্বল্প পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করেন শিক্ষার্থীরা। প্রতিশ্রুতি মোতাবেক পরদিনই মূল বিনিয়োগের দেড় গুণ, কেউ কেউ দুই গুণ অর্থও ফেরত পান। এভাবে তিন দফা বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়ার পর বিনিয়োগকারী শিক্ষার্থীরা পরিবারের সম্পত্তি ও ব্যাংকে জমা থাকা অর্থ এনে বিনিয়োগ করেন রেক্স আইটিতে। কিন্তু এ দফায় লাভ তো দূরের কথা, বিনিয়োগের টাকাও ফেরত পাননি পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীও উপস্থিত ছিলেন সিআইডির ওই সংবাদ সম্মেলনে। তাদেরই একজন মারুফ হোসেন, যিনি রেক্স আইটি ইনস্টিটিউটে বিনিয়োগ করেছেন আট লাখ টাকা। বণিক বার্তাকে মারুফ হোসেন বলেন, আউট সোর্সিংয়ে কাজ করে সত্যিকার অর্থেই এমন টাকা পাওয়া যায়। সেজন্য পরিবারের সব জমি বন্দক রেখে এবং মায়ের গহনা বিক্রি করে এ টাকা বিনিয়োগ করেছিলাম। কিন্তু রেক্স আইটি এ টাকা আত্মসাত্ করেছে।

মারুফ হোসেনের পাশেই নিশ্চুপ বসেছিলেন ইমরান নামে এক কিশোর। তিনি ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। রেক্স আইটিতে তার বিনিয়োগ ছিল ১৩ লাখ টাকা। লাভসহ ফেরত পাওয়ার কথা ২১ লাখ। কিন্তু কিছুই পাননি। কথা হলে তিনি বলেন, পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করে টাকা এনে এখানে বিনিয়োগ করেছিলাম। এখন শুনছি পুরো অর্থই আত্মসাত্ হয়েছে।

মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গ্রেফতারের সময় পলাশের গাড়ি থেকে নগদ ৭ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে। তার সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের জন্য এরই মধ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। দু-একদিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানিয়ে পলাশের সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হবে বলেও জানান তিনি।

জুমবাংলানিউজ/পিএম