অপরাধ/দুর্নীতি অর্থনীতি-ব্যবসা জাতীয় স্লাইডার

চাকরি দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছে এই চক্র

জুমবাংলা ডেস্ক : চাকরিপ্রার্থী সংগ্রাহক টিম, ভাইবা কিংবা মেডিকেল টিমের পাশাপাশি রয়েছে হাই অফিসিয়াল সদস্যও। নিখুঁতভাবে একজন চাকরিপ্রার্থীর সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়, প্রথমে বোঝার উপায় নেই। শেষ ধাপে চাকরির নিয়োগপত্র বুঝিয়ে দিয়ে কয়েক ধাপে হাতিয়ে নেওয়া হয় লাখ লাখ টাকা।

নিয়োগপত্র পেয়ে যোগদান করতে গেলেই ভুল ভাঙে চাকরিপ্রার্থীর। লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে ভুয়া নিয়োগপত্র পেয়েছে বুঝতে পেরে ওই চক্রের সঙ্গে যোগাযোগেও ব্যর্থ হন। ততক্ষণে ফোন নম্বর বন্ধ করে উধাও চক্রের সদস্যরা।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) দিনগত রাতে রাজধানীর মিরপুর ও খিলক্ষেত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই প্রতারক চক্রের ১৬ সদস্যকে আটক করা হয়। আটকরা হলেন- লিঙ্কন ওরফে মাসুদ ওরফে প্রশান্ত কুমার সাহা (৪৩), হাছান জিয়া (৪৪), সাকির আলী ওরফে শাকিল (৩৬), জান্নাতুল ফেরদাউস ওরফে রাসেল (৩৩), সেলিম সরদার (৪৩), শেখ জাকির হোসেন (৪০), আব্দুল কাদের শরীফ (৩৩), হুমায়ুন কবির (৫০), খলিলুর রহমান (৪২), ইসমাইল হোসেন (৩৬), রাকিবুল ইসলাম ওরফে সম্রাট (২৫), আবুল হোসেন ওরফে সায়মুন (২৮), কেরামত হোসেন ওরফে সজিব (৩৮), রুবেল বিশ্বাস (৩৩), কামরুজ্জামান (৪০), সাইফুল ইসলাম (২৬)।

এসময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া নিয়োগপত্র, চাকরিপ্রার্থীদের সিভি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ঊর্ধ্বতন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তার ব্যবহৃত ভুয়া সিল জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির।

তিনি বলেন, এ চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের চাকরির দেওয়ার কথা বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। চক্রের প্রতিটি সদস্য যার যার অবস্থানে থেকে নিখুঁত ও দক্ষতার সঙ্গে পাঁচটি ধাপে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে আসছিল।

প্রথমত, প্রোমোটার বা চাকরিপ্রার্থী সংগ্রাহক টিম রয়েছে তাদের। এই টিমের সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে দেশের প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষিত-বেকার যুবকদের টার্গেট করতো। এরপর বেকার যুবকদের সেনাবাহিনী, রেলওয়ে, বাংলাদেশ ব্যাংক, ভূমি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রলোভন দিয়ে কাগজপত্রসহ ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করতো।

এরপরের ধাপে ব্যবস্থাপনা টিমের সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বা হোটেলে চাকরি প্রত্যাশীদের ভুয়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে। সেসব ভুয়া কর্মকর্তারা কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন শর্তের কথা জানাতো। চাকরিপ্রত্যাশীরা শর্তে রাজি হলে মোটা অংকের টাকা দেওয়ার লিখিত বা মৌখিক চুক্তি করতো।

ভাইবা টিমের সদস্যরা প্রতারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতো। তারা চাকরিপ্রার্থীর মৌখিক নিতো। সেনাবাহিনীর চাকরির ক্ষেত্রে সেনানিবাসের আশপাশের এলাকায়, একইরকম পদ্ধতিতে ভূমি অফিস, রেলওয়ে, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্য চাকরির ক্ষেত্রে সচিবালয়ের আশপাশে সুবিধাজনক স্থানে ভুয়া মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে আসছিল।

মেডিকেল টিমের সদস্যরা চাকরির পূর্ববর্তী মেডিকেল সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করতো।

শেষ ধাপে হাইঅফিসিয়াল টিমের সদস্যরা চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে সুবিধাজনক স্থানে সাক্ষাৎ করে নিজেকে ঊর্ধ্বতন সেনা অফিসার, সহকারী পরিচালক, সহকারী সচিব বা ঊর্ধ্বতন অফিসারের একান্ত সহকারী/একান্ত সচিব হিসেবে পরিচয় দেয়। এসময় চাকরিপ্রার্থীকে মৌখিক ও মেডিকেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণসহ নিয়োগপত্র প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে। তারা নিয়োগপত্র দেওয়া ও চাকরিতে যোগদানের তারিখ অথবা মৌলিক প্রশিক্ষণ শুরুর তারিখ উল্লেখ করে দিতো।

যোগদানের ৩/৪ দিন আগে ভুয়া নিয়োগপত্র দেখিয়ে চুক্তি অনুযায়ী টাকা নিতো এবং মূল নিয়োগপত্রটি ডাকের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে জানাতো। সবশেষে ওই চাকরিপ্রার্থী নির্ধারিত তারিখে কাজে যোগ দিতে গেলে জানতে পারতো নিয়োগপত্রটি ভুয়া। তখন তারা ওই চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হতো।

এভাবে চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে অনেক মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে সর্বশান্ত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক মঞ্জুরুল কবির।

জুমবাংলানিউজ/পিএম