খেলা-ধুলা

রোনাল্দোর প্রতারণার গল্প ফাঁস করলেন সেই মডেল!

চতুর্থবার বাবা হলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্দো। আর সেই মুহূর্তে প্রকাশ্যে এল রোনাল্দোর যৌনতার রগরগে গল্প।
কী ভাবে রোনাল্দো যৌনতার খেলায় তাঁর সঙ্গে মেতেছিলেন তা ফাঁস করে দিলেন এক মডেল। ঠিক যেন ‘ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড’-এর গল্প।

যদিও, এই একটি রাতের জন্য নাকি রোনাল্দো তাঁর লীলার ফাঁদে ফেলতে শুরু করেছিলেন বছর দুয়েক আগে। তখন সদ্য ইরিনা শায়েকের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটেছিল রোনাল্দোর। সেই মুহূর্তে রাতের পর রাত শয্যাসঙ্গিনী বদলানোটা অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছিলেন সিআর সেভেন।

এই সময়ই মিস বামবাম এরিকার সঙ্গে রোনাল্দোর শারীরিক সম্পর্কের গল্প বাজারে হট-কেক হয়ে ওঠেছিল। আর এই সময়ই নাকি তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় রোনাল্দোর। এমন দাবি নাতাশা রডরিগেজ-এর।

বছর বাইশের ‘গুচি’ মডেল জর্জিনা রডরিগেজ রবিবারই রোনাল্দোর কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।
আর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে নাতাশা এমন এক যৌনতার গল্পকে সামনে আনলেন তা এখন বাজারে হটকেক-এর মতোই বিকোচ্ছে।

নাতাশার অভিযোগ, রোনাল্দো শুধু একজন কামাক্ত পুরুষই নন, সেই সঙ্গে তিনি একজন প্রতারক। তিনি তাঁর সন্তানের মা জর্জিনা রডরিগেজ-কেও প্রতারিত করেছেন। নাতাশার দাবি, রোনাল্দোর সঙ্গে পরিচয়ের পর ২০১৫ সালে সেপ্টম্বর মাসে তিনি ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পাঠান।

ছবিটি ছিল তাঁর নিতম্বের, বলে জানিয়েছেন নাতাশা। ছবির সঙ্গে রোনাল্দোর উদ্দেশে ‘প্রচুর চুমু’ বাক্যটি লিখে দিয়েছিলেন। ২১ বছরের এই মডেলের দাবি, তিনি ইয়ার্কি ছলেই ছবিটি রোনাল্দোকে পাঠিয়েছিলেন। রোনাল্ডো যে তার উত্তর দেবেন তা নাকি তিনি ভাবতেই পারেননি। সকাল ছ’টায় নাকি রোনাল্দোর কাছ থেকে উত্তর এসেছিল বলে জানিয়েছেন নাতাশা।

এরপর অন্তর্বাস পরা অবস্থায় নানা উত্তেজক অঙ্গ-ভঙ্গির ভিডিও রোনাল্দোকে পাঠান নাতাশা। রোনাল্দো নাকি এতে নাতাশার সঙ্গে একাকি দেখা করতে চান। নাতাশার দাবি, তাঁর শরীর নাকি রোনাল্দোকে নেশা ধরিয়েছিল। আর সে কথা নাকি রোনাল্দো নিজেই নাতাশাকে মেসেজ করে জানিয়েছিলেন।

নাতাশা তাঁর দাবিতে আরও জানিয়েছেন যে, রোনাল্দো তাঁর নিতম্বতে আকর্ষিত হয়েছিলেন এবং ব্যক্তিগত মুহূর্তে তা প্রত্যক্ষ করারও ইচ্ছা নাকি প্রকাশ করেছিলেন। ২০১৬ সালের অক্টোবরে রোনাল্দো নাকি নাতাশাকে তাঁর লিসবনের লাক্সারি অ্য়াপার্টমেন্টেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু, কোনও কারণে শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা বাতিল করেছিলেন রোনাল্দো, দাবি নাতাশার।

এরপরও রোনাল্ডো নানা উত্তেজক ছবি পাওয়ার জন্য নাকি নাতাশাকে নিয়মিত মেসেজ করতেন। সারাক্ষণ যৌনতার আদি-রসাক্ত আলোচনায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা নাকি নাতাশার সঙ্গে মেসেজে লেগে থাকতেন রোনাল্ডো। নাতাশার অভিযোগ, এই সময়ে রোনাল্ডো যথারিতি জর্জিনা রডরিগেজ-এর সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন।

এমনকী, জর্জিনা তখন কয়েক মাসের অন্তঃসত্বা। চলতি বছরের মার্চ মাসে আচমকাই তাঁর কাছে রোনাল্ডোর মেসেজটা এসেছিল বলে দাবি নাতাশার। যেখানে বলা ছিল লিসবনের অ্যাপার্টমেন্টে আসার আমন্ত্রণ। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই নাতাশা তাঁর নগ্ন নিতম্বের উত্তেজক আরও একটি ছবি নাকি রোনাল্ডোকে পাঠিয়েছিলেন।

বিনিময়ে উত্তর এসেছিল, ‘আমাকে হতাশ কর না, আমি তোমার নিতম্বে চুম্বন করতে চাই’। এই মেসেজের সঙ্গেই নাকি ছিল লিসবনে রোনাল্ডোর লাক্সারি অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশের চার সংখ্যার গোপন কোড নম্বর। নাতাশা জানিয়েছেন, ভাবতেও পারছিলেন না যে তিনি লিসবনে রোনাল্ডার বিলাস-বহুল ফ্ল্যাটে ঢোকার সুযোগ পাচ্ছেন!

এমনকী, ফুটবলের নায়কের সঙ্গে সময় কাটানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বিশাল অ্য়াপার্টমেন্ট ঘুরে দেখারও সুযোগ মিলবে! কার্যত নাকি স্বপ্নে বিভোর হয়ে গিয়েছিলেন এই মডেল।

নাতাশা আরও জানাচ্ছেন যে, যখন তিনি রোনাল্ডোর অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করেছিলেন তখন তাঁর শ্বাস যেন পড়ছিল না। মিষ্টি-আদুরে গলায় বছর বত্রিশের রোনাল্ডো তাঁকে নাকি অভ্যর্থনা জানিয়েছিল অ্য়াপার্টমেন্টে প্রবেশের জন্য। নাতাশা যাতে আপাতত এটাকে নিজের বাড়ি বলেই ভাবেন এমনভাবেই আচরণ করতে পরামর্শও নাকি দিয়েছিল রোনাল্ডো।

একটি সোফার উপরে বসেছিলেন রোনাল্ডো। আর কেউ ছিল না সেই অ্যাপার্টমেন্টে। নাতাশা নিজেই ফ্রিজ খুলে ফলের রস বের করে গ্লাসে ঢেলেছিলেন। এরপর নাকি তিনি রোনাল্ডোর পাশে গিয়েই বসে পড়েন। আবেগের বাঁধ নাকি ধরে রাখতে পারেননি নাতাশা।

তাঁর নিজের বয়ানেই, ‘আমি উঠে দাঁড়ালাম। কারণ আমি নিজেই বাকিটুকুকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছিলাম। আমি রোনাল্ডোর সামনে দাঁড়িয়ে আমার প্যান্ট খুলে ফেলেছিলাম। এগিয়ে দিয়েছিলাম আমার নিতম্ব। ছোট করে টোকা মেরে দীর্ঘক্ষণ সেখানে চুম্বন করেছিলেন রোনাল্ডো। ‘

নাতাশার দাবি, শুধু রোনাল্ডোর শোয়ার ঘরেই নয় অ্যাপার্টমেন্টের বাকি প্রত্যেকটি রুমে তাঁরা দু’জনে সেই রাতে পাগলের মতো যৌনতার খেলায় মেতেছিলেন। নাতাশা তাঁর বয়ানে আরও দাবি করেছেন যে, সেই রাতের আগে তিনি রোনাল্ডোর খালি গায়ের চেহারাটা শুধুমাত্র টিভি-তেই প্রত্যক্ষ করেছিলেন।

সেই প্রথম তিনি একেব্বারে সামনে থেকে রোনাল্ডোর নগ্ন চেহারাটা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। নাতাশার মতে, রোনাল্ডোর চেহারাটা সত্যি আকর্ষণীয় ছিল। এমনকী, বিশ্বখ্যাত ফুটবলারের পেশীবহুল পা-এর লোমও ছিল শেভ করা। সেই রাতে রোনাল্ডো নাকি তাঁকে অ্য়াপার্টমেন্টের প্রতিটি কোণা ঘুরে ঘুরে দেখিয়েছিলেন।

একটি জামা-কাপড় ভর্তি ওয়াডরোবের সামনে এনে দাঁড় করিয়ে রোনাল্ডো নাকি বলেছিলেন, যা ইচ্ছে নাতাশা তা এখান থেকে নিতে পারেন। নাতাশার দাবি, তিনি রোনাল্ডোর একটি বেসবল ক্যাপ সেখান থেকে তুলে নিয়েছিলেন। দু’ঘণ্টার জন্য সেদিন নাতাশার সঙ্গে নাকি ছিলেন রোনাল্ডো।

নাতাশাকে ট্যাক্সি করে বাড়ি ফেরার জন্য রোনাল্ডো ৩০০ ইউরো দিয়েছিলেন। পরে রোনাল্ডোকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে টেক্সটও করেছিলেন নাতাশা। উত্তরে, রোনাল্ডোও জানিয়েছিলেন তিনিও সেই রাতের উষ্ণতায় বিভোর হয়ে আছেন। তবে, পুরো বিষয়টি গোপন রাখতে মেসেজে অনুরোধ জানিয়েছিলেন রোনাল্ডো।
একটি পর্তুগিজ রিয়্যালিটি শো-এ অংশ নেওয়ায় রোনাল্ডো তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করে দেন বলেও দাবি করেছেন নাতাশা। তাঁর দাবি, এই রিয়্যালিটি শো-এ অংশ নেওয়ার ব্যাপারে রোনাল্ডোর আপত্তি ছিল।

নাতাশার দাবি, ওই রিয়্যালিটি শো থেকে রোনাল্ডোকে হোয়াটসঅ্যাপ-এ মেসেজ করেছিলেন। তখনই বুঝতে পারেন তাঁর নম্বর ব্লক করে দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। এরপর আর কখনও রোনাল্ডোর মেসেজ পাননি নাতাশা। এখন তিনি বুঝতে পারেন শুধুমাত্র একটা রাতের যৌনতার জন্য রোনাল্ডো দু’বছর ধরে তাঁর সঙ্গে দক্ষ ফুটবলারের মতোই খেলেছিলেন।

রোনাল্ডোকে এখন প্রতারক বলছেন নাতাশা। যদিও, তাঁর স্বপ্নের পুরুষের সঙ্গে কাটানো সেই রাত এখনও তাঁর জীবনের সেরা সঞ্চয় বলেই দাবি করেছেন এই মডেল। রোনাল্ডো পুরুষত্ব আজও নাকি তাঁকে পাগলের মতো আকর্ষণ করে।