slider অর্থনীতি-ব্যবসা জাতীয়

রেকর্ড করছে দেশ!

এম রহমান: সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতিতে একের পর এক রেকর্ড করছে দেশ। দেশের পণ্য ও সেবা উভয় ক্ষেত্রেই বেড়েছে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ।একদিকে আমদানি ব্যয় যেমন বাড়ছে লাগামহীনভাবে অন্যদিকে রফতানি আয়ও স্থবির হয়ে আছে। ফলে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি। আর এভাবেই রেকর্ড করছে দেশ।

পরিসংখ্যান বলছে,  ২০১৭-১৮ অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) মোট বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৭৩ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ৯৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৬০৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৫৬৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ৯২ শতাংশের উপরে।

এর আগে দেশের ইতিহাসে বাণিজ্য ঘাটতির সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছিলো ২০১০-১১ অর্থবছরে; সে অর্থবছরে ৯৯৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বাণিজ্য ঘাটতি ছিলো। ২০১১-১২ অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ ছিলো ৯৩২ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের সাত মাসে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ঘাটতি এক হাজার ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার দাঁড়ায়। যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি। একমাস পর ফেব্রুয়ারিতে এ ঘাটতি আরও বাড়লো।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রপ্তানি আয়ের চেয়ে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। দেশে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ চলছে। এসব বড় বড় প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানি বেড়ে গেছে। এছাড়াও শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনীয় যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি বেড়েছে। এসব কারণেই বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। তবে এই ঘাটতি মেটানো হয় রেমিট্যান্স ও বিদেশি বিনিয়োগ দিয়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রতিনিয়ত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানি করা হচ্ছে। আবার ঘাটতির বিপরীতে প্রবাসী আয় ও বিদেশি বিনিয়োগ তেমন ভাবে বাড়েনি। ফলে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (ব্যালান্স অফ পেমেন্ট বা বিওপি) ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা বিদ্যমান থাকাটাই প্রমান করে যে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ভালো অবস্থায় নেই।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ফেব্রুযারি শেষে ইপিজেডসহ রফতানি খাতে বাংলাদেশ আয় করেছে দুই হাজার ৪০৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আমদানি বাবদ ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৫৮২ কোটি ডলার। এ হিসাবে বাণিজ্য ঘাটতি দাড়ায় এক হাজার ১৭৩ কোটি ২০ ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, প্রতি ডলার ৮৩ টাকা হিসেবে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৭ হাজার কোটি টাকার বেশি।

আমদানি চিত্র বলছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এ সময় আমদানি বেড়েছে ২৬ দশমিক ২২ শতাংশ হারে। অন্যদিকে রফতানি বেঁড়েছে মাত্র ৮ দশমিক ০৬ শতাংশ। ফলে চলতি হিসাবে ঘাটতি বড় হয়েছে।

 

সবমিলিয়ে চলতি হিসাব ঋণাত্বক হয়ে পরেছে বলে মনে করছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের আমদানি যে হারে হয়েছে সেই হারে রফতানির প্রবৃদ্ধি বাড়েনি। এ কারনেই বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। এদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ এখন কম। লেনদেনে ঘাটতির এই চিত্র দীর্ঘমেয়াদি হলে তা অর্থনীতির জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাড়াবে।’