রাজনীতি

রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে বিএনপি আশাবাদী

গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনে সৃষ্ট সংকট সমাধানে রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদের নেয়া উদ্যোগে আশাবাদী বিএনপি।

বঙ্গবভনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ শেষে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে রোববার বিকাল ৪টা ২৫ মিনিটে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বঙ্গভবনে পৌঁছায় বিএনপির প্রতিনিধি দল। এক ঘণ্টার বেশি সময় বৈঠক শেষে ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে তারা বঙ্গভবন ত্যাগ করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনে সৃষ্ট সংকট সমাধানে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতির নেয়া উদ্যোগে আমরা আশাবাদী।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করে আমরা খুশি হয়েছি, আশাবাদী হয়ে এসেছি। রাষ্ট্রপতি একজন আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ, তিনি দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। তিনি সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন মানুষ। আশা করি, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে তিনি নিঃসন্দেহে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবেন। আলোচনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রস্তাবের আলোকেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এই সংলাপ। অত্যন্ত উষ্ণ আমেজে এ আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি তার স্বভাবসুলভ আন্তরিকতা দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনকে স্বাগত জানিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘এই আলোচনায় খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এক মাস আগে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেই প্রস্তাবগুলোই মূলত রাষ্ট্রপতির কাছে উত্থাপন করা হয়েছে। সারসংক্ষেপ আকারে আমার তা লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপন করেছি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই প্রস্তাবে যে বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, তা হচ্ছে সকল রাজনৈতিক দলের মতৈক্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘ যেহেতু নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে কোনো আইন তৈরি হয়নি, সেহেতু এখন আর বিকল্প কোনো পথ নেই। সব রাজনৈতিক দলের মতৈক্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্যোগ রাষ্ট্রপতির নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করে বিএনপি।’

রাষ্ট্রপতি বিএনপি চেয়ারপারসনকে ধন্যবাদ জানান এমনটা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি বলেছেন- বিএনপি চেয়ারপারসন ইসি গঠন নিয়ে গঠনমূলকভাবে সুন্দর কতগুলো প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। এটা ভবিষ্যতে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি তিনি এটাও বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আলোচনা ও সংলাপের কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মূলত তিনটি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করেছি। বাছাই কমিটি গঠন, নিবার্চন কমিশন গঠন এবং আরপিও সংশোধন ও নির্বাচন কমিশন শক্তিশালীকরণ।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কোন পদ্ধতিতে বাছাই হবে তাও আমার উত্থাপন করেছি। রাষ্ট্রপতি পদ্ধতিগত বিষয়গুলো নিয়ে পর্যবেক্ষণ করবেন, যেহেতু এনিয়ে আজকেই প্রথম বিএনপির সঙ্গে তিনি বৈঠক করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি প্রথমেই একথা উল্লেখ বলেছেন- যেহেতু আমাকে একমাত্র আপনারাই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, সে জন্য প্রথমেই আমি আপনাদের ডেকেছি। আপনাদের মতামতকে প্রাথমিকভাবে বিবেচনায় নিয়েছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি মনে করেন, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা জাতির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সব রাজনৈতিক দলের সমর্থন আশা করেন তিনি।’

রাষ্ট্রপতির কাছে সার্চ কমিটিতে কোনো নাম প্রস্তাব করেছেন কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সুনির্দিষ্ট মতামত দিয়েছেন। বিএনপি আশা করে, রাষ্ট্রপতি অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পদ্ধতিগত বিষয়টি নির্ধারণ করবেন।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আশা করি, রাষ্ট্রপতি এনিয়ে আবারও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করবেন। রাষ্ট্রপতি আগামী এক মাসের মধ্যেই এই পদ্ধতিগত বিষয়টি শেষ করবেন। রাষ্ট্রপতিও আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী মাসের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া শেষ করতে চান।’

এর আগে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপের জন্য বঙ্গভবনের উদ্দেশে বিকাল ৩টার দিকে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে রওনা দেন বিএনপি চেয়ারপারসন। বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটের দিকে বঙ্গভবনে পৌঁছান তিনি।

সংলাপে বিএনপির ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন খালেদা জিয়া। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন- মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

Add Comment

Click here to post a comment