অর্থনীতি-ব্যবসা কৃষি জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ স্লাইডার

রাঙ্গামাটিতে লিচুর বাম্পার ফলন, সরবরাহ হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে

অলি আহমেদ, ইউএনবি: রাঙ্গামাটিতে এ বছর লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। পাহাড়ি গ্রাম থেকে উন্নত মিষ্টি জাতের রসালো লিচু সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানেও।

ভৌগলিক সুবিধা আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাহাড়ে এবার লিচুর ফলন বেড়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক পবন কান্তি চাকমা জানান, গত দুই বছরের তুলনায় এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। চলতি বছর রাঙ্গামাটির ১ হাজার ৮৩০ হেক্টর জমিতে হেক্টর প্রতি ৮.৫ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ভালো ফলন হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও চাষিরা জানায়, পাহাড়ে দেশি লিচুর পাশাপশি চায়না ও বোম্বে জাতের লিচুর চাহিদা বেশি। তাই লাভের আশায় পাহাড়ে এসব জাতের লিচু চাষাবাদে ঝুঁকছেন চাষিরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এরই মধ্যে বাজারে এসেছে চায়না-২, চায়না-৩ জাতের লিচু। রসালো ফরমালিনমুক্ত পাহাড়ের লিচু স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে বাজারজাত হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

কৃষক সোনা মনি চাকমা ও প্রতুল চাকমা বলেন, রাঙ্গামাটি সদরের বালুখালী, জীবতলী, মগবান, বন্দুকভাঙ্গা, সাপছড়ি, কুতুকছড়ি, কাপ্তাইয়ের নাভাঙ্গা, ওয়াঙ্গা, বড়াদম, রাইখালীসহ জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় লিচুর ব্যাপক চাষাবাদ হচ্ছে।

তারা জানান, দেশি জাতের ১০০ লিচু বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১৫০ টাকা, আর চায়না-২ ও চায়না-৩ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা।

তবে চাষি ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ভালো ফলন হলেও তারা ন্যায্য মুনাফা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কারণ, রাঙ্গামাটির স্থানীয় বাজার ও জেলার বাইরে লিচুসহ ফলমুল ও সবজি সরবরাহে পুলিশি হয়রানিসহ জেলা পরিষদকে বাড়তি ট্যাক্স দিতে হচ্ছে।

রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, রাঙ্গামাটিতে মৌসুমী ফলের ব্যাপক ফলন হলেও কোথাও হিমাগার নেই। ফলে পাহড়ের উৎপাদিত ফল সংরক্ষণ করতে না পারায় প্রতি বছর লিচুসহ প্রচুর আম, আনারস ও কলা নষ্ট হয়ে যায়।

রাঙ্গামাটিতে ফল সংরক্ষণে একটি হিমাগার স্থাপনের দাবি স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। সূত্র: ইউএনবি

জুমবাংলানিউজ/একেএ