আন্তর্জাতিক

রাখাইনে যাচ্ছেন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের শীর্ষ কর্মকর্তা প্যাট্রিক মারফি

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার জন্য মার্কিন ডেপুটি সেক্রেটারি অফ স্টেট প্যাট্রিক মারফি আগামী সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মিয়ানমারে যাবেন এবং সহিংসতা-বিধ্বস্ত রাখাইন রাজ্যে ভ্রমণ করবেন বলে নিশ্চিত করেছে ইয়াঙ্গুনে মার্কিন দূতাবাসের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র। তবে মারফি সীমান্তবর্তী শহর বুচিডঙ ও মংডু সফর করবেন কি না, তা নিয়ে কর্মকর্তারা মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

এই শহর দুটিতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে হাজার হাজার ঘর পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে যার অধিকাংশই রোহিঙ্গা মুসলমানদের ছিল। প্যাট্রিক মারফি রাখাইন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইউ নি পিউর সাথে দেখা করতে চান বলে জানা যায়। এছাড়া তিনি রাখাইনের রাজধানী সিত্তেতে আরাকান ন্যাশনাল পার্টির রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ প্রতিনিধি, এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের সাথে দেখা করতে পারেন বলে জানা যায়।

এএনপি সচিব ইউ টিন আং কিউ বলেছেন যে তারা মারফির সফর সম্পর্কে কোন অনুষ্ঠানিক খবর পাননি। তিনি বলেন, ডেপুটি সহকারী সচিবের সঙ্গে তার সাক্ষাত হবে কি না তা দলীয় নেতা ও সংসদ সদস্যরা নির্ধারণ করবেন।

 

সিএনএন বৃহস্পতিবার রিপোর্ট করেছে যে, মারফি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, মায়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ইউ অং লিনকে ডেকেছিলেন এবং রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সহিংসতার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠরা ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটির অস্তিত্ব মেনে নিতে অস্বীকার করে তাদের ‘বাঙালি’ বলে অভিহিত করে।

 

ইরাবতী এই সফর নিয়ে রাখাইন রাজ্যের সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে ফোন করেন, তবে রিপোর্টের সময় পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে কোন সাড়া পাওয়া যায় নি। মারফি খুব সম্ভবত রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা মুসলমানদের ইস্যু নিয়ে কথা বলবেন। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান শরণার্থী রাখাইন রাজ্যের সীমান্তে বাংলাদেশ টেকনাফ জেলা জুড়ে অস্থায়ী আশ্রয়স্থলে বসবাস করছে।

 

মায়ানমার সরকার জানিয়েছে যে ত্রিশ হাজার আরাকানি বৌদ্ধ ও হিন্দু স্থানীয় কমিউনিটি হল, সরকারি স্কুলের, বৌদ্ধ মঠগুলিতে আশ্রয় নিয়েছে এবং রাজ্য নিরাপত্তা বাহিনী সুরক্ষায় আছে।

 

মংডু পৌরসভায় ২৭২টি মুসলিম গ্রাম রয়েছে- এর মধ্যে ১৪৫ গ্রামের বাসিন্দারা বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়েছেন যেগুলোর অধিকাংশই অগ্নিসংযোগে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় যে ১৭৯টি গ্রাম এখন কোনভাবে অক্ষত রয়েছে।

 

সংঘর্ষ শুরু হওয়ার আগে বুচিডঙে ১৭৫টি মুসলিম গ্রাম ছিল। এর মধ্যে ১২টি গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী রাচিডঙে ১৯ টি গ্রামের লোকজন পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এটা স্পষ্ট নয় যে, গ্রামবাসীরা কি পশ্চিম সীমান্ত অতিক্রম করেছে নাকি রাজ্যের ভিতরেই অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়ে অবশিষ্ট মুসলিম গ্রামে স্থানান্তরিত হয়েছে।

 

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৫ টি গ্রামের প্রায় ৪৩০০ জন বৌদ্ধ, হিন্দু এবং আরাকানি উপ-জাতিগত অধিবাসী এই সপ্তাহে তাদের বাড়িতে ফিরে আসেন।

 

  • সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম