slider অর্থনীতি-ব্যবসা জাতীয়

রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবসায়ীদের যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন রমজান মাসে নৈতিকতার সঙ্গে ব্যবসায়ীক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন। তিনি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যবৃন্দ কোন ধরনের অনৈতিক কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দিবে না এবং এ ধরনের পরিস্থিতি কঠোর হাতে দমন করা হবে। অসাধু কর্মকাণ্ডে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্য জড়িত থাকলে তাকেও কোন ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মহসড়কে যানজটের বিষয়ে গাড়ি চালকদের নিয়ম মেনে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দেন তিনি। মাত্রারিক্তি পণ্য পরিবহনে বিরত থাকার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি।

আসন্ন রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং বিপনী বিতান সমূহে নিরাপত্তা বিধানে সরকারের পক্ষ থেকে সকল ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আজ রোববার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ’ বিষয়ে এলাকাভিত্তিক ও বিশেষায়িত ব্যবসায়ী সমিতিগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সভার প্রধান অতিথি স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন।

আজকের আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম, ডিসিসিআই পরিচালক মো. আলাউদ্দিন মালিক, প্রাক্তন ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুস সালাম, প্রাক্তন পরিচালক মো. শারফুদ্দিন, ডিসিসিআই’র আহবায়ক শামসুন নাহার প্রমুখ।

কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি সভা আয়োজন করে, যেখানে এবছর রমজান মাসে চাহিদা মাফিক পণ্য সরবরাহের বিষয়টি সরকার ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ হতে আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকা সত্ত্বেও ডলারের দামের ওঠা-নামার ফলে আমাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও সচেতন থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাস্তাঘাটে যানজট, বন্দরসমূহে জাহাজ ও পণ্যবাহী ট্রাকের জটের ফলে বিশেষ করে রমজান মাসে চাহিদা মাফিক পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়, তাই এ সমস্যা সমাধানে বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কে আরও উদ্যোগী হতে হবে। ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য রোধকল্পে অবশ্যই সকল সংস্থার সমন্বয়ে নিয়মিতভাবে মোবাইল কোট পরিচালনা করতে হবে।

ক্যাব সভাপতি জানান, বাংলাদেশে সয়াবিন তেলের চেয়ে পামওয়েল বেশি আমদানি করা হলেও বাজারে সয়াবিন তেলের আধিক্য পরিলক্ষিত হয়। এ অবস্থা নিরসনে দুটো পণ্য আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক কাঠামোর সংষ্কার আবশ্যক। পঁচনশীল পণ্য সংরক্ষণে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না থাকায় এ ধরনের পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায় বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, রমজান মাসে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কিছু পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায় । এটা হয়ে থাকে মূলত পণ্যের চাহিদা ও যোগানের ঘাটতির কারণে। তিনি ‘ভোক্তা অধিকার আইন’ এবং ‘বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন’ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের উপর জোরারোপ করেন। অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য ‘ন্যায্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ সেল’ গঠনের প্রস্তাব করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি রমজানের আগে বাজারে কি কি পণ্যের চাহিদা কত রয়েছে তা নিরূপণ করতে পারে, তাহলে সেটার ভিত্তিতে ব্যবসায়ীরা এলসি’র মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করতে সক্ষম হবে এবং পণ্যের কৃত্রিম সংকট মোকাবেলা করা যাবে।

বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা বলেন, চাহিদা মাফিক পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পণা প্রণয়ন, পণ্য আমদানিতে আন্তর্জাতিক বাজারের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ভ্যন্তরীণভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, ব্যাংকের সুদের হার কমানো এবং স্থল ও সমুদ্র বন্দর থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনকারী ট্রাক সমূহের জন্য ফেরি ঘাটে আলাদা ফেরির ব্যবস্থা করা প্রভৃতি বিষয়ের উপর সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তারা জানান, আসন্ন রমজান মাসে ভোজ্যতেল, ডাল, ছোলাবুট এবং চিনি পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রয়েছে এবং এ পণ্যগুলোর দাম বাড়ার কোন কারণ নেই।