জাতীয় হিন্দু

রবিবার শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজা

ধর্ম ডেস্ক : আগামীকাল রবিবার শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজা, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। বাংলা মাঘ মাসের পঞ্চমী তিথিতে বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন অগণিত ভক্ত।

এদিকে শনিবার সকাল থেকে পঞ্চমী তিথি শুরু হওয়ায় দেশের কোনও কোনও স্থানে আজই সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর তিথিগত বাধ্যবাধকতার কারণে আগামীকাল রবিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের মধ্যেই পূজা শেষ হবে।

দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানালোকের প্রতীক। বাকদেবী, বিরাজ, সারদা, ব্রাহ্মী, শতরূপা, মহাশ্বেতা, পৃথুধর, বকেশ্বরীসহ আরও অনেক নামেই ভক্তের হৃদয়ে বিরাজ করেন তিনি। পুরাণ অনুযায়ী, ব্রহ্মার মুখ থেকে দেবী সরস্বতীর উত্থান।

অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করতে কল্যাণময়ী এই দেবীর চরণে প্রণতি জানাবেন সনাতন ধর্মাবলম্বী বিদ্যার্থীরা। উচ্চারণ করবেন, ‘নমো সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে বিশ্বরূপে বিশালাক্ষ্মী বিদ্যাংদেহি নমোহস্তুতে’ -এই মন্ত্র।

পূজার জন্য দেবী সরস্বতীর মূর্তিকে শ্বেতবস্ত্র পরিধান করানো হয়ে থাকে, যা পবিত্রতার নিদর্শন। দেবীর আসনকে পুষ্পশোভিত করে রাখা হয়। পরিবারের সকল সদস্য খুব ভোরে স্নান শেষে পরিষ্কার বস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দেবীর সামনে উপবেশন করেন। পুরোহিত পূজা শুরু করার আগ পর্যন্ত দেবীর মুখমণ্ডল ঢাকা থাকে। পূজার্ঘ্যের আরেকটি প্রধান অংশ ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠ্যপুস্তক। দেবীর অঞ্জলির জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো পলাশ ফুল।

রাজধানীসহ সারা দেশের মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পূজার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াও থাকছে- পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পর্ব, সন্ধ্যা আরতি, আলোকসজ্জা প্রভৃতি আয়োজন।

গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও জাতীয় সংসদে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হলে মহাসাড়ম্বরে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়েছে।

জুমবাংলানিউজ/এইচএমজেড