আন্তর্জাতিক

রদ্রিগো দুতের্তে বিদায় জানালেন আমেরিকাকে

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে আমেরিকাকে বিদায় জানিয়েছেন। তিনি তার সেনা ও মহড়ার উপকরণ মোতায়েনের চুক্তি বাতিলের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রকে। কম্বোডিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বাই বাই আমেরিকা’ এবং ‘তোমাদের অর্থের প্রয়োজন নেই আমাদের’ বলে ঘোষণা দেন তিনি।

তিনি বলেন, তোমাদের প্রয়োজন নেই আমাদের। ফিলিপাইন ত্যাগের প্রস্তুতি নাও। ভিএফএ (ভিজিটিং ফোর্সেস অ্যাগ্রিমেন্ট) চূড়ান্তভাবে বাতিল করার প্রস্তুতি নাও।’ সামরিক মহড়া ও মানবিক ত্রাণ অভিযানগুলোতে সহায়তা দিতে ফিলিপাইনে পর্যায়ক্রমে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের আইনি বৈধতা দিতে ১৯৯৮ সালে ফিলিপাইন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভিএফএ চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে দুতের্তে বলেন, ‘বাই, বাই আমেরিকা। ওই প্রটোকল নিয়ে কাজ শুরু কর যা তোমাদের চূড়ান্তভাবে ফিলিপাইন থেকে তাড়াবে।’ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার আরেকটি সামরিক চুক্তি পর্যালোচনার পর ‘শিগগিরই যে কোনো দিন’ তিনি তার সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘তোমাদের অর্থের প্রয়োজন নেই আমাদের। চীন বলেছে, যা লাগে তারাই দেবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনীতি পাল্টে যাচ্ছে।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে দু’দেশের সম্পর্কের উন্নতি হতে পারে বলে আভাস দেন তিনি। দুতের্তে বলেন, ‘আমি আপনার মুখ পছন্দ করি, তা আমার মতো, হ্যাঁ মিস্টার প্রেসিডেন্ট। আমরা একই ধরনের, একই ধরনের মানুষ একসঙ্গে ভিড়তেই পারে।’

৩ জনকে খুন করার কথা স্বীকার : এদিকে নিজ হাতে তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন দুতের্তে। এর আগে মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মূলে জিরো টলারেন্স ও অভিযানের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নাক গলালে বারাক ওবামাকে গালিও দেন দুতের্তে।

সম্প্রতি বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দাভাও সিটির মেয়র থাকাকালীন তিনজনকে নিজ হাতে হত্যার কথা স্বীকার করেন দুতের্তে। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের তিনজনকে হত্যা করি। জানি না আমার বন্দুকের কতগুলো বুলেট তাদের শরীরে প্রবেশ করেছিল। তবে এটি সত্যিই ঘটেছিল, আর এ নিয়ে আমি মিথ্যা বলতে চাই না।’

বুধবার প্রেসিডেন্ট প্যালেসে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ বিষয়ে প্রথম মন্তব্য করেন দুতের্তে। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার শুরু। তবে পরে অবশ্য হত্যাকাণ্ডে দুতের্তে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেছিলেন তার মুখপাত্র।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ওই বৈঠকে দুতের্তে বলেছিলেন, ‘আমি দাভাওয়ের মেয়র থাকাকালীন বিশৃংখলা সৃষ্টিকারীদের কিভাবে শায়েস্তা করতে হয়, তাই শুধু তাদের (পুলিশ) দেখাতে চেয়েছিলাম। আর এ ঘটনার মধ্য দিয়ে আমি বুঝাতে চেয়েছিলাম, আমি পারলে তোমরা (পুলিশ) কেন পারবে না।’

দাভাওয়ের মেয়র থাকাকালীন দুতের্তে নিজেই মোটরবাইক নিয়ে রাতে শহরে টহল দিতেন। সেই সময় তিনি অপরাধী ও বিশৃংখলা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হস্তে দমন করেন। তিনি শহরটিতে দুই দশক মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

Add Comment

Click here to post a comment