জাতীয়

যে নেত্রীরা পেতে পারেন সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন

জুমবাংলা ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৫৭টি আসনে জয়ী হয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। আর বিরোধী দলে থাকছে ২২টি আসনে জয়ী জাতীয় পার্টি। এরই মধ্যে শপথ নিয়েছেন নির্বাচিত এমপিরা। এবার সাধারণ আসনে নির্বাচিত এসব এমপির ভোটে সংরক্ষিত নারী (মহিলা) আসনে কারা আসছেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ৩০ জানুয়ারি শুরু হবে। অধিবেশন শুরুর আগেই সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনের সদস্যরা নির্বাচিত হতে পারেন। দ্রুতই এ নারী আসনের নির্বাচন এবং মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে।

জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী- ‘সংসদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার তারিখের পরবর্তী ত্রিশ কার্য দিবসের মধ্যে সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশন সাধারণ আসনে নির্বাচিত সদস্যদের রাজনৈতিক দল বা জোটওয়ারী সদস্যদের পৃথক পৃথক তালিকা প্রস্তুত করবে।’

এদিকে বৃহস্পতিবার ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এবার সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের জন্য আগামী সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে।

সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ-সদস্য হিসাবে শপথ গ্রহণকারী সকল ব্যক্তি সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে ভোটার হবেন। সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ-সদস্য থাকার জন্য সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত যোগ্যতাসম্পন্ন যেকোনো নারী সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হতে পারবেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসন অনুযায়ী সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে ৪৩টি আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ৪টি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১টি এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দল মিলে ২টি আসন পাবে। তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত এমপিরা এখনও শপথ নেয়নি। ফলে সংরক্ষিত নারী আসনে তাদের মনোনয়ন দেয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

এদিকে বিরোধী দলীয় নেতা এরশাদ চারজনের একটি তালিকা করে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে চিঠি দিয়েছেন। তারা হলেন- পারভীন ওসমান (নারায়ণগঞ্জ), ডা. শাহীনা আক্তার (কুঁড়িগ্রাম), নাজমা আখতার (ফেনী) ও মনিকা আলম (ঝিনাইদহ)।

তবে নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কারা পাচ্ছেন তা এখনো জানা না গেলেও তালিকায় রয়েছেন দশম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের কয়েকজন সংসদ সদস্য, সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী, শিক্ষিকা, উদ্যোক্তা, অভিনেত্রী, শিল্পী ও ব্যবসায়ী।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ইডেন কলেজ শাখার সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইন ও বিধি উপকমিটির সদস্য ড. নুরুন্নাহার নুপুরের নাম আলোচনায় রয়েছে। ঢাকা-৭ আসন থেকে সরাসরি নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও দলের সভানেত্রীর কথায় সরে দাঁড়ান তিনি।

সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ও মহিলা আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ছাত্র নেত্রী অ্যাডভোকেট জান্নাতুল ফেরদৌস রুপার মনোনয়ন পাওয়া নিয়েও আলোচনা চলছে। রুপা ওয়ান ইলেভেনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের আইনি সহায়তা দেন। তিনি একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া-৫ আসন থেকে মনোনয়ন তুলেছিলেন। পরে দলীয় নির্দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালান।

জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনে দশম জাতীয় সংসদের কয়েকজন সদস্যও থাকতে পারেন। এদের মধ্যে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, অ্যাডভোকেট ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পি, উম্মে কুলসুম স্মৃতি, মাহজাবিন খালেদ, সাবিনা আক্তার তুহিন, নূর জাহান বেগম মুক্তার নাম শোনা যাচ্ছে।

এছাড়া আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, স্বাস্থ্য উপকমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনি, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মারুফা আক্তার পপি, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম ক্রিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিরীন রোখসানা, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী, অরুণা বিশ্বাস, নাট্যাভিনেত্রী শমী কায়সার ও রোকেয়া প্রাচীর নামও আলোচনায় রয়েছে।

জুমবাংলানিউজ/এইচএমজেড