জাতীয়

যে কারণে দিনের পর দিন অচল হানিফ ফ্লাইওভারের নিচের সড়ক

বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন গ্রুপ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের নিচের সড়ক পরিকল্পিতভাবে অচল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের যৌক্তিকতা নিয়ে কোনো সংশয় থাকে না, যখন আমরা দেখি উদ্বোধনের চার বছর পরও শেষ হয়নি ফ্লাইওভারটির নিচের সড়কের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ। নকশা অনুযায়ী প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের মাঝখানে সবুজায়নসহ রোড-ডিভাইডার নির্মিত হওয়ার কথা থাকলেও অদ্যাবধি কেন তা সম্পন্ন হয়নি, এ এক রহস্যই বটে! সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী করে রাখার সব বন্দোবস্তই যে ইতিমধ্যে পাকা করে ফেলা হয়েছে, তা স্পষ্ট। অবৈধভাবে সেখানে গড়ে উঠেছে দোকানপাট, হোটেল-রেস্তোরাঁ ছাড়াও সিএনজি, টেম্পো ও বাসস্ট্যান্ড। এছাড়া কোনো কোনো স্থানে সৃষ্টি হওয়া গর্তে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে কর্দমাক্ত হচ্ছে পুরো সড়ক। এ অবস্থায় প্রতিদিনই সেখানে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং বাধ্য হয়ে বিভিন্ন ধরনের পরিবহনকে ফ্লাইওভার দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান লাভবান হলেও সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে (পিপিপি) নির্মিত ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের সর্ববৃহৎ এ ফ্লাইওভার ২০১৩ সালের ১১ অক্টোবর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চার লেন বিশিষ্ট এ ফ্লাইওভারে প্রবেশের জন্য ৬টি এবং বের হওয়ার জন্য ৭টি পথ রয়েছে, যা আশপাশের প্রধান প্রধান সড়ক ও বাস টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত। উল্লেখ্য, চালু হওয়ার পর থেকে ২৪ বছরে প্রাপ্ত টোলে নির্মাণব্যয় তুলে নেয়ার চুক্তিতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ফ্লাইওভারের ব্যবস্থাপনা, টোল আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণ করার কথা। অবশ্য প্রতিদিন আদায় হওয়া টোলের ৫ শতাংশ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তহবিলে জমা হচ্ছে।

মানুষের ভোগান্তির বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কর্তৃপক্ষ যদি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ফ্লাইওভারের নিচের সড়কটির সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে উদ্যোগী হতো, তাহলে জনদুর্ভোগের এ চিত্র আজ আমাদের দেখতে হতো না। মনে রাখা দরকার, নির্ধারিত সময়ে কোনো প্রকল্পের কাজ শেষ না হলে একদিকে ব্যয় যেমন বাড়ে, অন্যদিকে জনভোগান্তিরও সীমা-পরিসীমা থাকে না। দুঃখজনক হল, প্রায় সারা দেশের মানুষ উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রমের নামে চলা এ ধরনের অব্যবস্থার শিকার হচ্ছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন উচ্চতর প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার পূর্বশর্ত হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, দুর্নীতি ও সমন্বয়হীনতার কারণে তা অধরাই থেকে যাচ্ছে। দ্রুত এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া উচিত। যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারলে এত টাকা ব্যয়ে বিশাল ফ্লাইওভার নির্মাণ করে লাভ কী, এ প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

রাজধানীর সড়কগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে যান চলাচলের উপযোগী না হলে শুধু যে ফ্লাইওভারে মুক্তি মিলবে না, তা বলাই বাহুল্য। বর্তমান ব্যবস্থায় ফ্লাইওভার কেবল খণ্ডিত বা আংশিকভাবে গৃহীত কোনো উদ্যোগ বলে বিবেচিত হবে এবং এর ফলাফলও হবে খণ্ডিত। তা সত্ত্বেও জনগণের জন্য ফ্লাইওভারের পূর্ণ সুফল নিশ্চিত করতে হবে। কর্তৃপক্ষ মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের নিচের সড়কের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে মনোযোগ দেবে, এটাই প্রত্যাশা।

জুমবাংলানিউজ/এসওআর