জাতীয় রাজনীতি

যে কারণে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে চান খালেদা জিয়া

খালেদাজিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজার রায়ের পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী আছেন। প্রায় সাড়ে চারমাস ধরে বন্দি খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে অনেকটাই অসুস্থ। তাই সরকার তার চিকিৎসা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) করাতে চায়। কিন্তু বিএনপির চেয়ারপারসন সেখানে চিকিৎসা নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। কারণ তার পছন্দ বেসরকারি হাসপাতাল ইউনাইটেড।

এর আগে সরকার গত ৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে বেশকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়। গত ১০ মে তাকে আবারও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এই হাসপাতালে আনার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি জানিয়ে দেন, বঙ্গবন্ধুতে আসবেন না, যেতে চান বেসরকারি হাসপাতাল ইউনাইটেডে।

এর মধ্যে সরকার খালেদা জিয়াকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রস্তাব দেয় বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এই প্রস্তাব ফেরানো উচিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তবে বিএনপির দাবি, বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের চেয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ইউনাইটেড স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং সেটি বিশেষায়িত। কাজেই সেখানে চিকিৎসা ভালো হয়।

এদিকে ইউনাইটেড হাসপাতালের সব খরচ বিএনপি বহন করবে বলেও জানিয়েছে।

এখন বিএসএমএমইউ, সিএমএইচ না ইউনাইটেড হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করানো হবে এ নিয়ে টানাপোড়ন দেখা দিয়েছে। এই টানাপোড়েনের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য কেন ইউনাইটেড হাসপাতালকে পছন্দ করে স্থির সিদ্ধান্তে আছেন? কেন তিনি বিএসএমএমইউ কিংবা সিএমএইচ-এ চিকিৎসা নিতে রাজি হচ্ছেন না?

বিএনপি নেতারা মনে করছেন, বিএসএমএমইউতে এখন যারা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন সেসব চিকিৎসকদের সবাই সরকারি দল আওয়ামী লীগ সমর্থিত। সে কারণে সেখানে খালেদা জিয়া যথাযথ চিকিৎসা এমনকি সম্মান থেকেও বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করেন।

সে কারণে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সজ্জিত বেসরকারি হাসপাতাল ইউনাইটেডে তুলনামূলক নিজের জন্য স্বাচ্ছন্দের জায়গা হিসাবে মনে করেন বিএনপি চেয়ারপারসনসহ তার দলের নেতারা। এছাড়া বিএসএমএমইউ নিয়ে তীব্র এক অস্বস্তির কথাও জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

তারা বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলো চিকিৎসা ক্ষেত্রে দেশ-বিদেশে বিএসএমএমইউ অনেক সুনাম এবং সফলতার পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে তা ভিন্ন।

অনেকেই আবার অভিযোগ করেছেন, বিএসএমএমইউর চিকিৎসকরা পেশাদার না। তারা হাইলি পলিটিক্যালি অ্যাপয়েন্টেড (সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত)।

এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন জানান, খালেদা জিয়া ওখানে চিকিৎসার জন্য গেলে চিকিৎসা খারাপ করে, বাজে কথাবার্তা বলে, বাজে কমেন্ট করে। সবকিছুতো আর বলা যায় না। তবে বিএসএমএমইউ’র চিকিৎসদের কাছে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিরাপদ না। সেখানে সবাই প্রায় আওয়ামী লীগের লোক।

তবে কি ইউনাইটেড হাসপাতালে বিএনপি সমর্থক চিকিৎসক বেশি? এমন প্রশ্নে মেজর আখতার জানান, তা ঠিক না। বেগম জিয়ার বিষয়টি হলো তিনি যে চিকিৎসকের কাছে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন, যাকে নির্দেশ দিতে পারেন এমন চিকিৎসকের কাছে যেতে চাইছেন।

মেজর আখতার আরও জানান, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালেও খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সম্ভব নয়। কারণ সেটি মূলত অর্থপ্যাডিক চিকিৎসার জন্য। সেখানে খালেদা জিয়ার যে ধরনের রোগ তার চিকিৎসা সম্ভব নয়।

তাদের মতো শতকরা ৬০ ভাগ অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাও সিএমএইচে চিকিৎসার জন্য যান না বলেন জানান মেজর আখতার।

এ ব্যাপারে বিএসএমএমইউ’র প্রক্টর এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক ফোরামের (স্বাচিপ) মহাসচিব ডাক্তার ইকবাল আরসানেল জানান, বিএনপি নেতারা যা বলেন সেসব অভিযোগ সত্যি নয়। খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় কেউ অবেহেলা করেনি। তার সাথে খারাপ ব্যবহারের প্রশ্নই উঠে না। এই হাসপাতালে অনেক বড় বড় ব্যক্তিত্বরা চিকিৎসা নেন। খালেদা জিয়াও অনেক সময় অনেককে দেখতে এই হাসপাতালে এসেছেন।

ইকবাল আরসানেল জানান, কেনো চিকিৎসক বা কোনো স্টাফও যদি খালেদা জিয়ার সাথে কোনো টিজিং বা খারাপ কোনো আচরণ করেন তা দেখার জন্য কর্তৃপক্ষ রয়েছেন।