জাতীয় বিনোদন রাজনীতি

যে কারণে আ.লীগের মনোনয়ন পেলেন সুবর্ণা মুস্তফা

জুমবাংলা ডেস্ক :  আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত না থাকলেও সংরক্ষিত মহিলা আসনে জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তফাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন দলে অনেক ত্যাগী মহিলা নেতা থাকা সত্ত্বেও সুবর্ণা মুস্তফাকে মনোনয়ন দেওয়া হলো কেন?  তাহলে এবার জেনে নেয়া যাক যে কারণে তাকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

আশি-নব্বই দশকে আফজাল হোসেন, হুমায়ুন ফরীদির সঙ্গে তার জুটি বেঁধে অভিনয় ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল। সেইসাথে হুমায়ূন আহমেদের নাটক ও চলচ্চিত্রে দারুণ সব চরিত্রে কাজ করে সুবর্ণা পৌঁছে গিয়েছেন সব শ্রেণির মানুষের কাছে।

ঘটনাটি ১৯৮০ সালের। ক্ষমতায় জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য একটি মুক্তিযুদ্ধের নাটক নির্মিত হবে। নাটকটির প্রযোজক ছিলেন প্রয়াত জিয়া আনসারী। নাটকটিতে অভিনয়ের জন্য সুবর্ণা মুস্তফাকে ডাকা হয়। তাঁর সঙ্গে নাটকটিতে অভিনয়ের জন্য ডাকা হয় প্রয়াত হুমায়ূন ফরিদীকে।

নাটকটির গল্পটি ছিলে এমন, সুবর্ণার প্রেমিক মুক্তিযুদ্ধে যাচ্ছেন। প্রেমিকের উদ্দেশ্যে সুবর্ণাকে সংলাপে বলতে বলা হয়, ‘জিয়া আমাদের নেতা। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। তুমি যুদ্ধে যাও। দেশকে স্বাধীন করো।’ সুবর্ণা মুস্তফা এই সংলাপ বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন, ‘জিয়াউর রহমান কখনো আমাদের নেতা ছিলেন না। এরকম বিকৃতির ইতিহাসের নাটক সুবর্ণা মুস্তফা করে না।’

এরপরের ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৮৪ সালে। স্বৈরশাসক এরশাদ ক্ষমতায়।  বিজয় দিবসের নাটক নির্মাণ হবে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য। বরকতউল্লাহ ছিলেন এর প্রযোজক। রাইসুল ইসলাম আসাদ ছিলেন তার বিপরীতে। নাটকটির একটা সংলাপে বলতে হবে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’। যখন সেটা তার চোখে পড়ে। এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে নাটকটিতে অভিনয় করতে অস্বীকৃতি জানান। সরাসরি বলে দেন, ‘যেদিন জয়বাংলা বলে মুক্তিযুদ্ধের নাটক করতে পারবেন। সেদিন আমাকে ডাকবেন।’

এমন ঘটনাগুলো বিভিন্নভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কানে যায়। সুবর্ণা মুস্তফা কখনো আওয়ামী লীগের জন্য পথে নামেননি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে সবসময় ছিল তার দৃঢ় অবস্থান। তা প্রধানমন্ত্রীর ভালো করে জানেন। রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও এমন মানুষকে প্রধানমন্ত্রী সবসময়ই শ্রদ্ধার চোখে দেখেন।

গতকাল নাম ঘোষণার পরে যখন প্রশ্ন আসে সুবর্ণা মুস্তফা কবে আওয়ামী লীগ করেছেন। তখন প্রধানমন্ত্রী তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আওয়ামী লীগ করার দরকার নেই। এই ঘটনা দুটির উদাহরণ দেন। উদাহরণ দিয়ে বলেন, যারা ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তাদের সবসময়ই আমি মূল্যায়ন করি।

জুমবাংলানিউজ/এইচএম