অর্থনীতি-ব্যবসা জাতীয় স্লাইডার

যেসব কারণে আসছে না প্রত্যাশিত বৈদেশিক বিনিয়োগ

এম রহমান : সক্ষমতা বাড়লেও বিদ্যুতের উৎপাদন সে হারে বাড়ছে না। গ্যাসের মজুত ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে। চড়া দামে আমদানি করা এলএনজি শিল্পায়নের ব্যয় বাড়াচ্ছে। দক্ষ জনশক্তির অভাব বাংলাদেশে স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তো রয়েই গেছে। আর এসব কারণেই প্রত্যাশিত হারে আাসছে না সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ(এফডিআই)। ফলে দেশের অর্থনীতিও হারাচ্ছে তার কাঙ্ক্ষিত গতি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ দুরাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে ২০ থেকে ২৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বেসরকারি খাত  ও এফডিআই। পরিবেশের অভাবে বৈদেশিক বিনিয়োগকারীরা এখানে আসতে চাইছে না। এখানে মূলধন ঘাটতি এখনো প্রকট। শেয়ারবাজারে বৈদেশিক বিনিয়োগের অংশ ততটা বাড়েনি। এ ছাড়া আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, ওয়ানস্টপ সার্ভিসের অদক্ষতা ও দক্ষ শ্রমিকের বড় অভাব রয়েছে। জনশক্তির দক্ষতা বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

উদ্যোক্তারা ২০ থেকে ২৫ বছর ব্যবসার চিন্তা নিয়ে বিনিয়োগে আসেন বলে মনে করেন ওমর সাদাত। এক্ষেত্রে এফডিআই আহরণ বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সরকারকে মাঠে নামার অনুরোধ জানান তিনি। এ ব্যবসায়ী বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, অবকাঠামোর অভাব আছে। বেশি ব্যয়ের এলএনজি আমদানি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমুদ্র বিজয় বড় অর্জন হলেও এ থেকে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা এখনো পাওয়া যায়নি। নতুন আওতায় আসা সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের কোনো উদ্যোগও নেওয়া হয়নি।

এ প্রসঙ্গে আলাপকালে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বেশকিছু কারণে প্রত্যাশিত হারে এফডিআই আসছে না। আমরা সেগুলোকে চিহ্নিত করছি। একইসাথে মেগা পরিকল্পনা তৈরি করছি।

তিনি বলেন, এফডিআই বাড়াতে ব্যক্তিখাতের ব্যবসায় সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। নীতিসহায়তা দিয়ে সরকার সব সময় উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে। দেশের অর্থনীতির ৮৩ শতাংশ অবদান বেসরকারি খাতের। ব্যক্তি খাতে পণ্য ধরে ধরে প্রণোদনা দেওয়া হবে। ব্যবসা বাণিজ্যের পরিবেশও সহজ করা হবে। এর ধারবাহিকতায় দেশের বাইরে চলে যাওয়া অর্থ বিনিয়োগ হিসেবে ফিরে আসবে।

জুমবাংলানিউজ/পিএম



সর্বশেষ খবর