আন্তর্জাতিক

যেভাবে একটি পাথরের টুকরো পাল্টে দিল জীবন

শুধু তার একার নয়। পাথর পাল্টে দিল তার মতো আরও অনেক কাশ্মীরি তরুণীর জীবন। গত বছর সংবাদমাধ্যমে জ্বলজ্বল করছিল আফশান আশিকের মারমুখী ছবি। পিঠে কলেজের ব্যাগ। মুখ ওড়নার আড়ালে। সালোয়ার কামিজ পরা কাশ্মীরি তরুণী পাথর ছুড়ছেন পুলিশকে।

জানা যায় তরুণীর পরিচয়। কলেজ পড়ুয়ার পাশাপাশি আফশান একজন প্রতিশ্রুতিমান ফুটবলারও। তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জম্মু কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। পাথর ছোড়ার ভাবমূর্তি ভেঙে তিনি গুরুত্ব দেন আফশানের ফুটবলার সত্তার উপর। জম্মু কাশ্মীরের মতো জায়গায় মেয়েদের ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আফশনাই হয়ে ওঠেন সরকারের তুরূপের তাস।

তেইশ বছর বয়সী আফশান এখন জম্মু কাশ্মীরের জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক। দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগ-এ। নিজে খেলেন মুম্বইয়ের একটি ক্লাবেও। মঙ্গলবার আফশান তার দলের সদস্যদের নিয়ে দেখা করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর সঙ্গে।

আফশান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মুফতি তাদের পাশে আছেন। ইতিমধ্যেই তিনি ক্রীড়াসচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন জম্মু কাশ্মীরে মহিলাদের ফুটবলের পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ নজর দিতে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংও আশ্বাস দিয়েছেন সবরকম সাহায্যের।

প্রসঙ্গত জম্মু কাশ্মীরের মহিলাদের ফুটবল দলটি উপত্যকার বৈচিত্রকেই তুলে ধরে। দলের ম্যানেজার একজন লাদাখি। কোচ শিখ ধর্মের। খেলোয়াড়রা এসেছেন রাজ্যের তিনটি প্রদেশ থেকে।

নিজের ফুটবলার কেরিয়ারকে আরও অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান আফশান। তবে পাথর ছোড়া নিয়েও বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নন। জানিয়েছেন‚ সেটা ছিল তার অতিরিক্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। আফশানের অভিযোগ‚ তাদের প্রতি অপমানজনক মন্তব্য করেছিল এক পুলিশকর্মী। দলের এক সদস্যর গায়ে হাতও তুলেছে বলে অভিযোগ। তার জেরেই পাথর ছুড়েছিলেন কলেজে বি.এ পাঠরত আফশান অশিক। এখন অবশ্য তার জীবনের গতিমুখ ঘুরে গেছে সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে।