আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের বিভক্ত আইনসভা নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটরা। নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার দুই কক্ষে দুদল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। ক্যাপিটল হিলের এ জট অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।

(ছবি: সংগৃহীত)

কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। অন্যদিকে নিম্নকক্ষে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এজেন্ডা আটকে দিতে দলটির সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পেল। ফলে কংগ্রেসে আগের মতো সহজেই যেকোনো আইন পাস করানো কঠিন হয়ে উঠবে সরকারি দলের জন্য।

বিশেষত, কর কর্তন ও নীতিমালা শিথিলের মতো ট্রাম্পের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রস্তাব বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, ২০২০ সালে পুনরায় নির্বাচনে অংশ নেয়ার আগের এ দুই বছর প্রেসিডেন্টের জন্য বেশ কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইএনজির প্রধান আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ জেমস নাইটলি বলেন, ‘আইনসভায় এ বিভাজনের অর্থ আরো বেশি অচলাবস্থা সৃষ্টির সম্ভাবনা।’ তবে উভয় পক্ষই অবকাঠামো ব্যয়ের মতো খাতগুলোয় একত্রে কাজ করতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দল দুটির মধ্যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিভাজন থাকায় অগ্রগতি অর্জন কঠিন হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবিত অতিরিক্ত আয়কর কর্তনের প্রস্তাব বড় একটি ধাক্কা খেয়েছে।’

সিডনিভিত্তিক এএমপি ক্যাপিটাল ইনভেস্টরসের নাদের নায়েমি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ‘ভালো পরিণাম’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এর অর্থ আরো সতর্ক ও ভারসাম্য থাকা, যা বাজারের জন্য ইতিবাচক।’

এদিকে হাউজে নতুন করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া ডেমোক্র্যাটরা এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর রিটার্ন, ব্যবসার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য স্বার্থের দ্বন্দ্ব এবং ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় রাশিয়ার হস্তক্ষেপের সঙ্গে তার যুক্ত থাকার অভিযোগগুলো নিয়ে তদন্ত করে দেখার ক্ষমতা পাবে।

নমুরা সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক তোমাওকি শিশিদো বলেন, ‘এ মুহূর্তে অতিরিক্ত কর কর্তন অথবা ডড-ফ্রাঙ্ক নীতিমালা (আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য) সংশোধনী প্রস্তাবগুলো পাস করানো রিপাবলিকানদের জন্য খুবই কঠিন হবে।’ তবে কর কর্তন ও নীতিমালা শিথিলের মতো প্রস্তাবে ডেমোক্র্যাটদের দ্বিমত থাকলেও ব্যয় বৃদ্ধিতে তারা মত দেবে বলে অনেক বিনিয়োগকারীই ধারণা করছেন।

জুমবাংলানিউজ/ এমএইচডি